ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে দিনভর যা ঘটলো গোপালগঞ্জে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 43

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সারা দিন ধরে বিক্ষিপ্ত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে ও পরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ করে।

আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ার শেখ রাসেল শিশু পার্কের সামনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এদিন প্রায় ২০ মিনিট তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে রাস্তার ওপর আগুন ধরিয়ে দেয়।

যদিও পুলিশ আসার খবর পেয়ে তারা দ্রুত সরে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে টুঙ্গিপাড়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দোলা পেট্রোল পাম্পের কাছেও কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং কাঠ–পাটখড়ি দিয়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ আগে একই মহাসড়কের ডুমদিয়া এলাকায়ও ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী পাটখড়িতে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভের পর পালিয়ে যায়।

রায়কে ঘিরে আতঙ্ক দেখতে পাচ্ছি না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

গোপালগঞ্জ সদরের ৭ মার্চ চত্বরের বিপরীতের ফসলের মাঠেও দেশীয় অস্ত্র হাতে কয়েকজন লোক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে; পুলিশ আসার খবর পেয়ে তারাও সরে যায়।

সকাল পৌনে ৮টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া বাজার এলাকায় ঢাকা–খুলনা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলিয়ে সড়ক অবরোধ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানজট সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, প্রায় ২০ মিনিট অবরোধ চলার পর কাশিয়ানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ গাছের গুঁড়ি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, কয়েকজন লোক রাস্তায় উঠে অবরোধের চেষ্টা করেছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। অবরোধ কর্মসূচি সফল হয়নি।

অন্য দিকে শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন এবং সড়ক–মহাসড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর জেলা শহরে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। রায় প্রসঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের মতামত জানতে চাইলে তারা মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে দিনভর যা ঘটলো গোপালগঞ্জে

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সারা দিন ধরে বিক্ষিপ্ত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে ও পরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগ করে।

আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ার শেখ রাসেল শিশু পার্কের সামনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এদিন প্রায় ২০ মিনিট তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে রাস্তার ওপর আগুন ধরিয়ে দেয়।

যদিও পুলিশ আসার খবর পেয়ে তারা দ্রুত সরে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে টুঙ্গিপাড়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দোলা পেট্রোল পাম্পের কাছেও কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং কাঠ–পাটখড়ি দিয়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ আগে একই মহাসড়কের ডুমদিয়া এলাকায়ও ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী পাটখড়িতে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভের পর পালিয়ে যায়।

রায়কে ঘিরে আতঙ্ক দেখতে পাচ্ছি না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

গোপালগঞ্জ সদরের ৭ মার্চ চত্বরের বিপরীতের ফসলের মাঠেও দেশীয় অস্ত্র হাতে কয়েকজন লোক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে; পুলিশ আসার খবর পেয়ে তারাও সরে যায়।

সকাল পৌনে ৮টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া বাজার এলাকায় ঢাকা–খুলনা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলিয়ে সড়ক অবরোধ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানজট সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, প্রায় ২০ মিনিট অবরোধ চলার পর কাশিয়ানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ গাছের গুঁড়ি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, কয়েকজন লোক রাস্তায় উঠে অবরোধের চেষ্টা করেছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। অবরোধ কর্মসূচি সফল হয়নি।

অন্য দিকে শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন এবং সড়ক–মহাসড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর জেলা শহরে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। রায় প্রসঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের মতামত জানতে চাইলে তারা মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।