ভরপুর শীতের সবজি, তবুও কমছে না দাম
- আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
- / 33
শীতকালীন সবজিতে ভরপুর কাঁচা বাজার। গত সপ্তাহের তুলনায় না বাড়লেও দাম এখনও হাতের নাগালে আসেনি। অধিকাংশ সবজির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। দেশি টমেটো বাজারে আসলেও দাম ১৬০ টাকা আর একই সঙ্গে আলু ও পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে। তবে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ ও মুরগি।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এসব বাজারে শিম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, টমেটো কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৪০ টাকা, মুলা কেজিতে ১০ টাকা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা এবং ধুন্দল ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
Govt committed to building FF’s envisioned exploitation-free welfare state: CA
এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারগুলোতে লেবুর হালি ১০ থেকে ৩০ টাকা, ধনে পাতা ৩০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস, ক্যাপসিকাম ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে লাল শাক ১৫ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৮০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা এবং নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা এবং ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা দরে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় আজ সবজির দাম তেমনটা বাড়েনি। কিছুটা কমেছে। শীতকালীন সব সবজি বাজারের আসায় দামটা তুলনামূলক ভাবে কমছে। টমেটোর দাম প্রথমদিকে একটু বেশি থাকে। কিন্তু সময় আরও গেলে সেটাও সস্তা হয়ে যাবে। দেশি বড় টমেটো ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও ১২০ -১৪০ টাকা ছোট টমেটো।
রাজধানীর প্রতিটি বাজারে পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ৯০ থেকে ১০০ টাকা পাইকারি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ থাকার পরও পাইকারি দাম কমছে না। আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মুহাম্মদপুর টাউন হলের সবজি ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, শীতকালীন সব সবজিই আছে। দামটা এখনও কমেনি। অনেক সবজির দাম হয়তো কমেছে। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আরও কমলে ভালো হয়।
সোনালি কক মুরগি কেজিতে ১০ টাকা কমে ২৮০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২১০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি বিক্রেতারাও জানালেন চাপে থাকার কথা। বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রয়লারের দাম কম, তাই বিক্রিও বেশি। কিন্তু আমাদের লাভের মার্জিন খুবই কম। পরিবহন ও অন্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় মুনাফা থাকে না। তবুও চাহিদা থাকায় ব্যবসা ধরে রাখা যাচ্ছে।
আলমগীর হোসেন নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, সোনালী-দেশি মুরগির খাবার ও রাখার খরচ অনেক বেশি। সেই তুলনায় ব্রয়লারের উৎপাদন খরচ কম, বিক্রিও দ্রুত। তাই এখন অনেকেই দেশি মুরগির বদলে ব্রয়লার ফার্মে বিনিয়োগ করছেন। যার কারণে এর বাজারদর কিছুটা কম। সামনে শীতকাল আসছে। হয়তো দাম আরও কমে যাবে।
বাজারগুলোতে ৩০০ গ্রাম ওজনের তিনটি ইলিশের এক কেজি ১০০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ১৬০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ২৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে এক কেজি চাষের শিং মাছ (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ফিশারিজ মার্কেটের বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, গত কয়েক মাস ধরে প্রায় সব মাছের দাম স্থির আছে, কিন্তু এটাই সমস্যা। পাইকারি দাম কমেনি, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। রুই-কাতলার দাম ৩৫০-৪৫০ টাকা, এটা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এখন শিং-মাগুর ৫০০ টাকার উপর, সেটাও মধ্যবিত্তের কেনার ক্ষমতায় নেই। পাঙাশ-তেলাপিয়াই এখন বিক্রি বেশি, কারণ সেটা ২০০ টাকার আশপাশে আছে।
আরেকজন মাছ বিক্রেতা রেজাউল করিম জানান, মাছের চাহিদা কমেছে। মানুষ এখন ব্রয়লার মুরগির দিকে ঝুঁকছে। গলদা চিংড়ি ৭০০ টাকা কেজি, বোয়াল ৬০০ টাকা। এসব এখন শুধু উচ্চবিত্ত বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্যই কেনা হয়। সাধারণ দিনে ক্রেতারা ১৫০-২০০ টাকার তেলাপিয়া বা পাঙাশই দেখছেন।

























উনাহির জোড়া গোলে শেষ আটে মরক্কো