ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌসুমী সবজির দাম কমলেও নাগালের বাইরে টমেটো-শসা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 46

রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতের পূর্ণ আমেজ লক্ষ করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের চড়া দাম পেরিয়ে অধিকাংশ সবজি এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকার ঘরে নেমে এসেছে। শীতের মৌসুমি সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরলেও শসা ও টমেটোর দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তবে নতুন পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমলেও কাঁচামরিচের বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠছে। সপ্তাহ ব্যবধানে কাঁচামরিচ কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে।

নতুন বছরের শুরুতে মাছের বাজার বেশ চড়া থাকলেও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ক্রেতারা বলছেন, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ মিলছে না; অন্যদিকে ডিম ও মুরগির দাম কমলেও তা এখনো পুরোপুরি নাগালের মধ্যে আসেনি।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দরের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ ভালো থাকলেও গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশির ভাগ সবজি। তবে শসা, খিরা, টমেটো ও কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে।

এসব বাজারে শীতকালীন সবজি শিম কেজিতে প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, দেশি গাজর কেজিতে ৪০ টাকা, মূলা ২০ টাকা, ফুলকপি ১৫ থেকে ৩০ টাকা পিস, বাঁধাকপি বড় সাইজের ৩০ টাকা এবং লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

কুয়াশায় আচ্ছন্ন রাজধানী; এ মাসেই পাঁচটি শৈত্য প্রবাহ

এসব বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি ঝিঙে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১২০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেড়ে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং খিরা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে লেবুর হালি ১০ থেকে ৩০ টাকা, দেশি ধনেপাতা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারগুলোতে লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক ৩০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা, ডাটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা এবং পালং শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে নতুন আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পুরোনো আলু ২০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ (পুরোনো) কেজিতে ১৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমে ৬০ টাকা এবং পেঁয়াজকলি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২২০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ১৭০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মালিবাগ বাজারে সওদা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আয়নাল হক বলেন, ‘আজ বাজারে এসে মনে হচ্ছে শীতের আমেজ লেগেছে। অন্য সময়ে সবজি অনেক বেশি দামে কিনতে হতো, সেই তুলনায় আজ দাম কম। অধিকাংশ সবজিই ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। তবে দুই-একটি সবজির দাম বেশি। সব মিলিয়ে সবজির দাম তুলনামূলক কমেছে।’

বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম চলায় বাজারে সবজির প্রচুর সরবরাহ রয়েছে।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ প্রচুর, সব ধরনের সবজির দাম এখন কম যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় মূলত দাম কমেছে। তবে রাস্তা খরচ ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য না থাকলে সাধারণ মানুষ আরও কম দামে সবজি কিনতে পারত।

দীর্ঘদিন সবজির দাম বাড়তি থাকার পর এখন শীত মৌসুমে দাম একেবারেই কমে এসেছে বলে তিনি জানান।

বাজারে বর্তমানে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা মাসখানেক আগেও ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় মিলছে। এক সপ্তাহ আগেও মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি ছিল। এদিকে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খামারিরা শীতে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত মুরগি বিক্রি করে দেওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। নতুন বাজারের বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শীতে খামার থেকে দ্রুত মুরগি চলে আসে, চাহিদাও কিছুটা কম থাকে; তাই দাম কিছুটা কম রাখা যায়।’

এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম ওঠানামা করলেও মাছের দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই, এর দাম সব সময় বাড়তিই থেকে যায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে না।

ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি মাছ ১ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রামের ১ হাজার ৬০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ২ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে এক কেজি চাষের শিং মাছ (আকারভেদে) ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, রুই মাছ (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৩০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকা এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, ‘মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। গত সপ্তাহে যে রুই ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, আজ তা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে মুরগি ও ডিমে কিছুটা স্বস্তি আছে।’

বনশ্রী বাজারের ক্রেতা সেলিম রেজা বলেন, ‘মাছের দাম কমার লক্ষণ নেই। মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে থাকলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মৌসুমী সবজির দাম কমলেও নাগালের বাইরে টমেটো-শসা

আপডেট সময় : ১২:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতের পূর্ণ আমেজ লক্ষ করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের চড়া দাম পেরিয়ে অধিকাংশ সবজি এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকার ঘরে নেমে এসেছে। শীতের মৌসুমি সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরলেও শসা ও টমেটোর দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তবে নতুন পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমলেও কাঁচামরিচের বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠছে। সপ্তাহ ব্যবধানে কাঁচামরিচ কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে।

নতুন বছরের শুরুতে মাছের বাজার বেশ চড়া থাকলেও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ক্রেতারা বলছেন, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ মিলছে না; অন্যদিকে ডিম ও মুরগির দাম কমলেও তা এখনো পুরোপুরি নাগালের মধ্যে আসেনি।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দরের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ ভালো থাকলেও গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশির ভাগ সবজি। তবে শসা, খিরা, টমেটো ও কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে।

এসব বাজারে শীতকালীন সবজি শিম কেজিতে প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, দেশি গাজর কেজিতে ৪০ টাকা, মূলা ২০ টাকা, ফুলকপি ১৫ থেকে ৩০ টাকা পিস, বাঁধাকপি বড় সাইজের ৩০ টাকা এবং লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

কুয়াশায় আচ্ছন্ন রাজধানী; এ মাসেই পাঁচটি শৈত্য প্রবাহ

এসব বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি ঝিঙে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১২০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেড়ে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং খিরা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে লেবুর হালি ১০ থেকে ৩০ টাকা, দেশি ধনেপাতা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারগুলোতে লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক ৩০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা, ডাটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা এবং পালং শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে নতুন আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পুরোনো আলু ২০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ (পুরোনো) কেজিতে ১৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমে ৬০ টাকা এবং পেঁয়াজকলি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২২০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ১৭০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মালিবাগ বাজারে সওদা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আয়নাল হক বলেন, ‘আজ বাজারে এসে মনে হচ্ছে শীতের আমেজ লেগেছে। অন্য সময়ে সবজি অনেক বেশি দামে কিনতে হতো, সেই তুলনায় আজ দাম কম। অধিকাংশ সবজিই ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। তবে দুই-একটি সবজির দাম বেশি। সব মিলিয়ে সবজির দাম তুলনামূলক কমেছে।’

বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুম চলায় বাজারে সবজির প্রচুর সরবরাহ রয়েছে।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ প্রচুর, সব ধরনের সবজির দাম এখন কম যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় মূলত দাম কমেছে। তবে রাস্তা খরচ ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য না থাকলে সাধারণ মানুষ আরও কম দামে সবজি কিনতে পারত।

দীর্ঘদিন সবজির দাম বাড়তি থাকার পর এখন শীত মৌসুমে দাম একেবারেই কমে এসেছে বলে তিনি জানান।

বাজারে বর্তমানে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা মাসখানেক আগেও ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় মিলছে। এক সপ্তাহ আগেও মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি ছিল। এদিকে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খামারিরা শীতে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত মুরগি বিক্রি করে দেওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। নতুন বাজারের বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শীতে খামার থেকে দ্রুত মুরগি চলে আসে, চাহিদাও কিছুটা কম থাকে; তাই দাম কিছুটা কম রাখা যায়।’

এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম ওঠানামা করলেও মাছের দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই, এর দাম সব সময় বাড়তিই থেকে যায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে না।

ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি মাছ ১ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রামের ১ হাজার ৬০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ২ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে এক কেজি চাষের শিং মাছ (আকারভেদে) ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, রুই মাছ (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৩০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকা এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, ‘মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। গত সপ্তাহে যে রুই ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, আজ তা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে মুরগি ও ডিমে কিছুটা স্বস্তি আছে।’

বনশ্রী বাজারের ক্রেতা সেলিম রেজা বলেন, ‘মাছের দাম কমার লক্ষণ নেই। মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে থাকলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।’