ক্রমেই প্রকট হচ্ছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সংকট?
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 83
ক্রমেই প্রকট হচ্ছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সংকট। হুমকিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের অদূরদর্শী পরিকল্পনা আর বিনিয়োগ অনীহার কারণেই ঘনিভূত হচ্ছে এ সংকট। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের।
২০০৮ সালে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয় সরকার। ফলে আবাসিক ও শিল্পখাতে ব্যাপক হারে বেড়ে যায় এলপিজির চাহিদা। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন পুরোদমে এলপিজি আমদানি শুরু করে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। ধীরে ধীরে আমদানি নির্ভর হয়ে পড়ে এ খাত। আমদানি সহজলভ্যতায় কমতে থাকে দেশিয় কুপ থেকে উৎপাদনের পরিমান।
পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী গত এক বছরের গ্যাস উত্তোলনের চিত্র বলছে, গ্যাস উত্তোলনে নিয়োজিত পাঁচটি কোম্পানির মধ্যে চারটিরই উৎপাদন কমেছে। এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির উৎপাদন কমেছে ৫২৩ মিলিয়ন ঘনমিটার।
তবে বাপেক্সের বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ বাড়লেও ধারাবাহিকভাবে কমেছে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর। এছাড়াও, পুরোনো পাইপলাইনের লিকেজ, ব্যাংকিং জটিলতায় এলসি খুলতে না পারাসহ মোট আট কারণে সংকটে পড়ছে এ খাত।
রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ভূমিকা মৃত প্রবাসীদের
দেশের জ্বালানি খাতের এমন সংকটের পেছনে দেশিয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দক্ষতার অভাব আর বিনিয়োগে সরকারের অনীহাকে দুষছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ম. তামিম বলেন, ‘সরকার বাপেক্স পেট্রোবাংলার মাধ্যমে চেষ্টা করছে। আমরা তো গত ১০ বছর তাদের প্রচেষ্টার ফল দেখেছি। স্বাভাবিকভাবেই আমরা খুব একটা আশাবাদী নই। তাদের প্রচেষ্টা আশাব্যঞ্জক নয়। তাহলে যে কথাটা বলা হলো যে, অবশ্যই তাদের কারিগরি দক্ষতার অভাব আছে, বিনিয়োগের অভাব আছে। উৎপাদন বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে যেসব কর্মকাণ্ড করতে হয় তাতে প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। সেই বিনিয়োগ কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অর্থাৎ আমি বিনিয়োগ করেও উৎপাদন নাও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই যে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ, সেখানে আমাদের একটা ঘাটতি আছে, অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে, টেকনোলজির ঘাটতি আছে।’
তথ্য বলছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৫৮ কোটি ঘনফুট। এতে প্রতিদিন ঘাটতি তৈরি হচ্ছে ১২২ কোটি ঘনফুট ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলছেন, এমন সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যে কারণে সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘সরকার নিজে আমদানি করছে না, লাইসেন্স উন্মুক্ত করছে না, এ এলপিজি কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয়নি। কোনো ব্যবস্থাই না করে সরকার একেবারে অকার্যকর হয়ে গেছে। এ অবস্থায় এগুলো ব্যবস্থা যেখানে নেয়া হয় না, তার মানে এ সমস্ত সরকারি কর্তৃপক্ষ মানে সরকার ভোক্তাদের কাছে বিশ্বাস ভঙ্গে অভিযুক্ত।’
এমন পরিস্থিতিতে সংকট কাটাতে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে। আমদানির মাধ্যমে কতটা সংকট কাটবে সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।





















রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ