ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সক্রিয় বাজার সিন্ডিকেট, চড়া সবজির বাজার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৩০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 62

অন্তর্র্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দেড় বছরে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে দ্রব্যমূল্য। পণ্যের দাম মানুষকে স্বস্তি দিতে পারেনি। বরং স্বল্প আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়িয়েছে। বিগত সরকারের আমলের সেই সিন্ডিকেট ভাঙার কোনো আলামতও মেলেনি এখনো।

এরই মধ্যে ডিম-মুরগির সিন্ডিকেটের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারের অগ্রাধিকারে থাকলেও বাজারব্যবস্থায় এখনো নিয়ন্ত্রণ আসেনি। বাজারের তথ্য বলছে, ডিম, মুরগি, সবজি, কাঁচা মরিচ, ভোজ্য তেল, চিনিসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল ডিম ও পিঁয়াজের দাম। দু-একটি পণ্যের দাম কমেছে অতি সামান্য।

এ ছাড়া প্রধান খাদ্যশস্য চালের যে চড়া দাম ছিল, সেটাও বরং আরও একটু বেড়েছে। জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ হলো সিন্ডিকেট। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। তারপর দাম বাড়ায় তাদের ইচ্ছামতো।

শীত মৌসুমের আমেজ শেষ না হতেই রাজধানীর বাজারে সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

শীতের ভরা মৌসুমে সবজির দাম কিছুটা নাগালে থাকলেও মৌসুম শেষের দিকে আসায় দর এখন ঊর্ধ্বমুখী। আজ (শুক্রবার) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এসব বাজারে শীতকালীন সবজি শিম কেজিতে প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে টমেটো কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ টাকা, মূলা কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শালগম ৬০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

দেশের তিন জেলায় বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ

গ্রীষ্মকালীন সবজি বরবটি ১৪০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ১৪০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা কেজিতে ২০ টাকা কমে ১০০ টাকা এবং খিরা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

লেবুর হালি ১০ থেকে ৩০ টাকা, দেশি ধনে পাতা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ৬০ থেকে ৮০ কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস, ক্যাপসিকাম কেজিতে ১০০ টাকা কমে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গেল কিছুদিন যাবৎ তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনলাম, তবে আজ দেখছি সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিটা সবজির দামই আজ দেখছি ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়তি। পিক মৌসুম শুরুর আগে অস্বাভাবিক বেশি দাম ছিল সব ধরনের সবজির, সে তুলনায় বলতে গেলে পুরো শীত মৌসুমেই সবজির দাম তুলনামূলক কম ছিল। এখন শীত চলে যাচ্ছে, এই সময়ে এসে আজ দেখছি সবজির দাম আবার বাড়তে শুরু করছে।’ এ সময় তিনি বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানান।

সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, শীত মৌসুমে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কম থাকে। মৌসুম শেষের দিকে যাওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। ফলে পাইকারি বাজারেই আগের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা, পালং শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে নতুন আলু ৩০ টাকা, পুরোনো আলু ২০ টাকা, দেশি পুরোনো পেঁয়াজ কেজি ১৩০ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৮০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং পেঁয়াজ কলি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২২০ টাকা, রসুন দেশি ১৪০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৭০-১৮০ টাকা এবং দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে সোনালি কক মুরগি কেজি ২৮০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, প্রতি হালি দেশি মুরগির ডিম ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৭৬০ টাকায়, গরুর কলিজা ৭৬০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর ভুড়ি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী রাশেদ মাহমুদ বলেন, ‘ডিমের দাম আগের মতো থাকলেও মুরগি আর কিছু মাছের দাম বেড়েছে। এই মৌসুমে ইলিশ খেতে পারিনি, ভেবেছিলাম দাম কমবে। কিন্তু কই আর কমলো? আমাদের মতো শ্রেণির মানুষের ভরসার জায়গা হলো ব্রয়লার মুরগি আর তেলাপিয়া-পাঙাশ মাছ। এসবের মধ্যে থেকেও সপ্তাহের বাজার করতে গেলে মোট খরচটা আগের চেয়ে বেশি পড়ছে।’

বনশ্রী এলাকার গৃহিণী শাহানা বেগম বলেন, ‘মুরগির দামটা এতদিন কম ছিলো, এখন সেই স্বস্তি নেই। মনে হচ্ছে রমজান মাস আসতে আসতে আরও বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা সহজ হচ্ছে না।’

ভাই ভাই মুরগি আড়তের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এ সময় বিয়েশাদি, পিকনিক আর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সোনালি মুরগির চাহিদা বেশি থাকে। সামনে রোজাও, তাই পাইকারিতেই দাম কিছুটা বেড়েছে।’

এসব বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশ ১০০০ টাকা, এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের জানান, রুই, টেংরা বা পাবদার মতো কিছু মাছের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম একটু বেড়েছে। তবে তেলাপিয়া বা অন্যান্য চাষের মাছ আগের দামেই মোটামুটি পাওয়া যাচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সক্রিয় বাজার সিন্ডিকেট, চড়া সবজির বাজার

আপডেট সময় : ০২:৩০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

অন্তর্র্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দেড় বছরে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে দ্রব্যমূল্য। পণ্যের দাম মানুষকে স্বস্তি দিতে পারেনি। বরং স্বল্প আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়িয়েছে। বিগত সরকারের আমলের সেই সিন্ডিকেট ভাঙার কোনো আলামতও মেলেনি এখনো।

এরই মধ্যে ডিম-মুরগির সিন্ডিকেটের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারের অগ্রাধিকারে থাকলেও বাজারব্যবস্থায় এখনো নিয়ন্ত্রণ আসেনি। বাজারের তথ্য বলছে, ডিম, মুরগি, সবজি, কাঁচা মরিচ, ভোজ্য তেল, চিনিসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল ডিম ও পিঁয়াজের দাম। দু-একটি পণ্যের দাম কমেছে অতি সামান্য।

এ ছাড়া প্রধান খাদ্যশস্য চালের যে চড়া দাম ছিল, সেটাও বরং আরও একটু বেড়েছে। জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ হলো সিন্ডিকেট। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। তারপর দাম বাড়ায় তাদের ইচ্ছামতো।

শীত মৌসুমের আমেজ শেষ না হতেই রাজধানীর বাজারে সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

শীতের ভরা মৌসুমে সবজির দাম কিছুটা নাগালে থাকলেও মৌসুম শেষের দিকে আসায় দর এখন ঊর্ধ্বমুখী। আজ (শুক্রবার) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এসব বাজারে শীতকালীন সবজি শিম কেজিতে প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে টমেটো কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ টাকা, মূলা কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শালগম ৬০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

দেশের তিন জেলায় বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ

গ্রীষ্মকালীন সবজি বরবটি ১৪০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ১৪০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা কেজিতে ২০ টাকা কমে ১০০ টাকা এবং খিরা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

লেবুর হালি ১০ থেকে ৩০ টাকা, দেশি ধনে পাতা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ৬০ থেকে ৮০ কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস, ক্যাপসিকাম কেজিতে ১০০ টাকা কমে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গেল কিছুদিন যাবৎ তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনলাম, তবে আজ দেখছি সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিটা সবজির দামই আজ দেখছি ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়তি। পিক মৌসুম শুরুর আগে অস্বাভাবিক বেশি দাম ছিল সব ধরনের সবজির, সে তুলনায় বলতে গেলে পুরো শীত মৌসুমেই সবজির দাম তুলনামূলক কম ছিল। এখন শীত চলে যাচ্ছে, এই সময়ে এসে আজ দেখছি সবজির দাম আবার বাড়তে শুরু করছে।’ এ সময় তিনি বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানান।

সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, শীত মৌসুমে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কম থাকে। মৌসুম শেষের দিকে যাওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। ফলে পাইকারি বাজারেই আগের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা, পালং শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে নতুন আলু ৩০ টাকা, পুরোনো আলু ২০ টাকা, দেশি পুরোনো পেঁয়াজ কেজি ১৩০ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৮০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং পেঁয়াজ কলি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২২০ টাকা, রসুন দেশি ১৪০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৭০-১৮০ টাকা এবং দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে সোনালি কক মুরগি কেজি ২৮০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, প্রতি হালি দেশি মুরগির ডিম ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৭৬০ টাকায়, গরুর কলিজা ৭৬০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর ভুড়ি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী রাশেদ মাহমুদ বলেন, ‘ডিমের দাম আগের মতো থাকলেও মুরগি আর কিছু মাছের দাম বেড়েছে। এই মৌসুমে ইলিশ খেতে পারিনি, ভেবেছিলাম দাম কমবে। কিন্তু কই আর কমলো? আমাদের মতো শ্রেণির মানুষের ভরসার জায়গা হলো ব্রয়লার মুরগি আর তেলাপিয়া-পাঙাশ মাছ। এসবের মধ্যে থেকেও সপ্তাহের বাজার করতে গেলে মোট খরচটা আগের চেয়ে বেশি পড়ছে।’

বনশ্রী এলাকার গৃহিণী শাহানা বেগম বলেন, ‘মুরগির দামটা এতদিন কম ছিলো, এখন সেই স্বস্তি নেই। মনে হচ্ছে রমজান মাস আসতে আসতে আরও বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা সহজ হচ্ছে না।’

ভাই ভাই মুরগি আড়তের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এ সময় বিয়েশাদি, পিকনিক আর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সোনালি মুরগির চাহিদা বেশি থাকে। সামনে রোজাও, তাই পাইকারিতেই দাম কিছুটা বেড়েছে।’

এসব বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশ ১০০০ টাকা, এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের জানান, রুই, টেংরা বা পাবদার মতো কিছু মাছের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম একটু বেড়েছে। তবে তেলাপিয়া বা অন্যান্য চাষের মাছ আগের দামেই মোটামুটি পাওয়া যাচ্ছে।