ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
ওয়েব সাইড আপগ্রেট করার কারণে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সংবাদ সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

গুম সংক্রান্ত সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারে বাংলাদেশের প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 325
343

রাষ্ট্র কর্তৃক নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর বিষয়ে বাংলাদেশের দেয়া সংরক্ষণী শর্ত বিষয়ক ঘোষণাপত্র প্রত্যাহারের প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত হয়েছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে অনুচ্ছেদ ১৪(১)-সংক্রান্ত ওই ঘোষণাপত্র প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

আজ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

মিরপুর বিহারি ক্যাম্পের একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনটি ১৯৮৪ সালে গৃহীত হয়। বর্তমানে ১৭৩টি রাষ্ট্র এই কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে কনভেনশনটিতে অনুসমর্থন দেয়।

কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ মোট পাঁচটি রাষ্ট্র—বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—চুক্তিতে যোগদানের সময় সংরক্ষণী শর্ত দিয়েছিল। এসব সংরক্ষণী শর্তের কারণে এতদিন রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এখন সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারের ফলে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাওয়ার পথ সুগম হলো। এর ফলে নির্যাতনের কারণে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।

উপদেষ্টা পরিষদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে মানবাধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে। এটি বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের দাবি ছিল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গুম সংক্রান্ত সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারে বাংলাদেশের প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
343

রাষ্ট্র কর্তৃক নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর বিষয়ে বাংলাদেশের দেয়া সংরক্ষণী শর্ত বিষয়ক ঘোষণাপত্র প্রত্যাহারের প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত হয়েছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে অনুচ্ছেদ ১৪(১)-সংক্রান্ত ওই ঘোষণাপত্র প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

আজ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

মিরপুর বিহারি ক্যাম্পের একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনটি ১৯৮৪ সালে গৃহীত হয়। বর্তমানে ১৭৩টি রাষ্ট্র এই কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে কনভেনশনটিতে অনুসমর্থন দেয়।

কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ মোট পাঁচটি রাষ্ট্র—বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—চুক্তিতে যোগদানের সময় সংরক্ষণী শর্ত দিয়েছিল। এসব সংরক্ষণী শর্তের কারণে এতদিন রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এখন সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারের ফলে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাওয়ার পথ সুগম হলো। এর ফলে নির্যাতনের কারণে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।

উপদেষ্টা পরিষদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে মানবাধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে। এটি বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের দাবি ছিল।