ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • / 101
126

কাতারের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা হামলায় উপসাগরীয় এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের প্রায় সব তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রাস লাফান থেকেই প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা হয়। ফলে এই স্থাপনায় ক্ষতি হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো—বিশেষ করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত—জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের এলএনজি আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ প্রায় ৭০ শতাংশ কাতারের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য বলছে, ভারতের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি আসে কাতার থেকে। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এসব দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

কাতার ও সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই রাষ্ট্রায়ত্ত কাতার এনার্জি নিরাপত্তাজনিত কারণে এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। সাম্প্রতিক হামলায় নতুন করে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি শুধু এলএনজি নয়, সার (ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া), সালফার এবং হিলিয়াম উৎপাদনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হিলিয়াম, যা মাইক্রোচিপ তৈরিতে অপরিহার্য, তার বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ এই কেন্দ্র থেকেই আসে বলে জানিয়েছে কাতার এনার্জি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার প্রভাব কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; কৃষি, শিল্প এবং প্রযুক্তি খাতেও এর বহুমাত্রিক প্রভাব পড়তে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
126

কাতারের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা হামলায় উপসাগরীয় এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের প্রায় সব তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রাস লাফান থেকেই প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা হয়। ফলে এই স্থাপনায় ক্ষতি হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো—বিশেষ করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত—জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের এলএনজি আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ প্রায় ৭০ শতাংশ কাতারের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য বলছে, ভারতের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি আসে কাতার থেকে। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এসব দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

কাতার ও সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই রাষ্ট্রায়ত্ত কাতার এনার্জি নিরাপত্তাজনিত কারণে এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। সাম্প্রতিক হামলায় নতুন করে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি শুধু এলএনজি নয়, সার (ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া), সালফার এবং হিলিয়াম উৎপাদনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হিলিয়াম, যা মাইক্রোচিপ তৈরিতে অপরিহার্য, তার বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ এই কেন্দ্র থেকেই আসে বলে জানিয়েছে কাতার এনার্জি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার প্রভাব কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; কৃষি, শিল্প এবং প্রযুক্তি খাতেও এর বহুমাত্রিক প্রভাব পড়তে পারে।