ট্রাম্পের H-1B ভিসা ফি আবারও আটকে দিল আদালত

- আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন H-1B ভিসার আবেদনের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের ফি আটকে দিয়েছেন আরেক ফেডারেল বিচারক। বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক হেওয়ার্ড গিলিয়াম এই নির্দেশ দেন। তার মতে, ফি কার্যকর করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং পররাষ্ট্র দপ্তর প্রয়োজনীয় নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। ফলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে এই ফি কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিক ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা ও বিভিন্ন অলাভজনক সংগঠনের একটি জোট এই মামলা করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক গিলিয়াম ফি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলাটি গত অক্টোবরে দায়ের করা হয়েছিল। বিচারক গিলিয়ামকে ২০১০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
এটি H-1B ফি নিয়ে দ্বিতীয় বড় ধরনের আদালতের বাধা। এর আগে জুনে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারক ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা পৃথক মামলায় একই ১ লাখ ডলারের ফি সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিলেন। জুলাইয়ে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালত সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ নাকচ করে দেয়। ফলে ফি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি লড়াই একই সঙ্গে চলছে।
ট্রাম্প প্রশাসন নতুন H-1B ভিসার ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের এই ফি আরোপ করেছিল। এর আগে নতুন H-1B আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফি মিলিয়ে সাধারণত প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারত, যদিও আবেদন ও নিয়োগকর্তার ধরন অনুযায়ী অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে। নতুন ফি সেই ব্যয়কে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
এই ফি নিয়ে আইনি বিতর্কের একটি বড় বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট এককভাবে এমন ফি নির্ধারণ করতে পারেন কি না। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে এই ব্যবস্থা নিয়েছিল। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, H-1B কর্মসূচির অপব্যবহার হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের জায়গা নিয়েছে।
অন্যদিকে মামলাকারী সংগঠনগুলোর বক্তব্য, এত বড় অঙ্কের ফি আরোপের আগে প্রশাসনকে নির্ধারিত নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। বুধবারের রায়ে বিচারক গিলিয়াম মূলত এই প্রক্রিয়াগত বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ আদালতের বর্তমান নির্দেশটি H-1B কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা বা বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতিগত প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
এদিকে ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে মামলা চলার মধ্যেই মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আগস্টে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর উদ্যোগ নেয়। সেটি চূড়ান্ত হলে নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবিত ফি নিয়ে সম্ভাব্য মামলা বর্তমান ১ লাখ ডলারের ফি সংক্রান্ত মামলাগুলোর তুলনায় ভিন্ন আইনি প্রশ্ন তৈরি করবে।
১ লাখ ডলারের ফি প্রথমে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে নতুন H-1B আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বুধবারের আদালতের আদেশ সেই বর্ধিত সময়ের মধ্যে ফি বাস্তবায়নে নতুন বাধা তৈরি করল।
H-1B হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী কর্মভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষায়িত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারেন। প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর সাধারণভাবে ৬৫ হাজার H-1B ভিসার মূল কোটা রয়েছে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নত ডিগ্রি অর্জনকারী কর্মীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসার সুযোগ থাকে।
H-1B ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন বছর পর্যন্ত দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা আরও তিন বছর বাড়ানো যেতে পারে। ফলে এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। H-1B ভিসায় বড় অঙ্কের ফি আরোপের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন আবেদনকারীদের যাচাই প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করেছে। একই সঙ্গে উচ্চ দক্ষতা ও বেশি বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে ভিসা বাছাইয়ের নতুন পদ্ধতির প্রস্তাবও করা হয়েছে।
এদিকে মামলাটির বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির আইনজীবী স্টিভ ব্রেসলার বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দিচ্ছে যা হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছিল। দেশটির বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্সও ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে আলাদা মামলা করেছে। ওই মামলায় নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংগঠনটি আপিল করছে। ফলে H-1B ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে একাধিক আইনি লড়াই চলমান রয়েছে।
তবে বুধবারের রায়কে এই ফি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থাগুলোকে ১ লাখ ডলারের ফি বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের স্থায়ী ফি আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য H-1B কর্মসূচি ব্যবহার করে থাকেন। ফলে ভিসা ফি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং আদালতের সিদ্ধান্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা বিদেশি পেশাজীবী ও তাদের সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স

















