ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রস্তুত শোলাকিয়া ঈদগাহ, ঈদের জামাত সকাল ১০টায়

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • / 44

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে এবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঈদুল ফিতরের দেশের অন্যতম বৃহৎ জামাত। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এবার অনুষ্ঠিত হবে শোলাকিয়ার ১৯৯তম ঈদের জামাত। জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। এতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি, জেলা পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার ঘটনা মাথায় রেখে এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে ঈদগাহ মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাঠে দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করা, মুসল্লিদের অজুখানা ও টয়লেট সংস্কার এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরের শোভাবর্ধনের কাজও চলছে। বৃষ্টি হলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ কমাতে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত প্রস্তুতি।

তবে স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, শোলাকিয়া মাঠের ঐতিহ্য ও সুনামের তুলনায় এর উন্নয়ন এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি। তাঁদের দাবি, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ মাঠকে আরও দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম মাঠের উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। তাঁদের সমস্যার বিষয়টি আমি অবগত আছি। আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই মাঠের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করা হবে।

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান থেকে বিশ্ব মানবজাতির শান্তি, শৃঙ্খলা ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হবে। বিশেষভাবে মুসলিম উম্মাহ, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষ, স্বাধীনতাকামী মুসলমানদের মুক্তি এবং বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করা হবে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো জামাতের আয়োজন। জামাতের সময় মাঠ ও আশপাশে মোতায়েন থাকবে ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৫ প্লাটুন বিজিবি, প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি করবেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। পুরো ঈদগাহ মাঠ থাকবে সিসি ক্যামেরার আওতায়। অস্থায়ী ওয়াচ টাওয়ার ব্যবহার করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আকাশপথে নজরদারি চালাবে পুলিশের ড্রোন ক্যামেরা।

জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। এর একটি ভৈরব থেকে এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জে আসবে। এছাড়া মুসল্লিদের সহায়তায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বহুসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও কয়েকটি মেডিকেল টিম। রাখা হয়েছে খাবার পানি ও আপ্যায়নের ব্যবস্থাও।

জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেখান থেকেই মাঠটির নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’, যা পরে শোলাকিয়া নামে পরিচিতি পায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রস্তুত শোলাকিয়া ঈদগাহ, ঈদের জামাত সকাল ১০টায়

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে এবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঈদুল ফিতরের দেশের অন্যতম বৃহৎ জামাত। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এবার অনুষ্ঠিত হবে শোলাকিয়ার ১৯৯তম ঈদের জামাত। জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। এতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি, জেলা পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার ঘটনা মাথায় রেখে এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে ঈদগাহ মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাঠে দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করা, মুসল্লিদের অজুখানা ও টয়লেট সংস্কার এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরের শোভাবর্ধনের কাজও চলছে। বৃষ্টি হলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ কমাতে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত প্রস্তুতি।

তবে স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, শোলাকিয়া মাঠের ঐতিহ্য ও সুনামের তুলনায় এর উন্নয়ন এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি। তাঁদের দাবি, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ মাঠকে আরও দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম মাঠের উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। তাঁদের সমস্যার বিষয়টি আমি অবগত আছি। আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই মাঠের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করা হবে।

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান থেকে বিশ্ব মানবজাতির শান্তি, শৃঙ্খলা ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হবে। বিশেষভাবে মুসলিম উম্মাহ, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষ, স্বাধীনতাকামী মুসলমানদের মুক্তি এবং বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করা হবে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো জামাতের আয়োজন। জামাতের সময় মাঠ ও আশপাশে মোতায়েন থাকবে ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৫ প্লাটুন বিজিবি, প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি করবেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। পুরো ঈদগাহ মাঠ থাকবে সিসি ক্যামেরার আওতায়। অস্থায়ী ওয়াচ টাওয়ার ব্যবহার করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আকাশপথে নজরদারি চালাবে পুলিশের ড্রোন ক্যামেরা।

জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। এর একটি ভৈরব থেকে এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জে আসবে। এছাড়া মুসল্লিদের সহায়তায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বহুসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও কয়েকটি মেডিকেল টিম। রাখা হয়েছে খাবার পানি ও আপ্যায়নের ব্যবস্থাও।

জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেখান থেকেই মাঠটির নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’, যা পরে শোলাকিয়া নামে পরিচিতি পায়।