শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি
- আপডেট সময় : ১০:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / 10
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের সরে দাঁড়ানো নিয়ে গুঞ্জনের ডানা মেলেছে গতকাল থেকেই। এর মাঝে বঙ্গভবন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি আর থাকছেন না। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠাতে পারেন।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন ফোনালাপের বিষয়টি সামনে আসার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে এ সম্ভাবনা আরও প্রবল হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।
২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেন সাহাবুদ্দিন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগের শীর্ষ কোনো সাংবিধানিক পদে এখনও বহাল আছেন।
একাধিক সূত্রের দাবি, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি টেলিফোনে সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন।
সূত্রগুলো জানায়, রাষ্ট্রপতি ৯ মে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই ফোনালাপের বিষয়টি জানতে পারে। এরপরই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলে সূত্রগুলোর দাবি।
গত ১০ জুলাই রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। একই সময়ে দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর দল পুনর্গঠনের নানা উদ্যোগও পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ।
বিএনপির ওই নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। এর মাধ্যমে সরকার বোঝাতে চাইবে যে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার।
গত ১৭ জুলাই মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা-না থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে সংবিধান অনুযায়ী তার কাছেই শপথ নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছেই শপথ নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।
গত দুই বছরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি জানালেও তাতে সমর্থন দেয়নি বিএনপি। বরং তাকে দায়িত্বে রাখার পক্ষে অবস্থান নেয় দলটি।
জানা যায়, চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতিকে মৌখিকভাবে পদত্যাগের অনুরোধ জানায় বিএনপি সরকার। এ সময় তিনি কিছুটা সময় চান। বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শুক্রবার দুপুর নাগাদ পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিকভাবে অসুস্থ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) করা সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষায় তার স্নায়ুবিষয়ক জটিলতা ধরা পড়েছে। এ কারণে পদত্যাগের পর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে আরও দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ৯ মে রাষ্ট্রপতি লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। ওই সফরের সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি জানতে পারার পরই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলেও খবরে দাবি করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হলে বা পদত্যাগ করতে চাইলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বিধান রয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সেই সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকার কিছু জানে না।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যে আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে, তা গুঞ্জনই। স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধান অনুযায়ী সেই সুযোগ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এরপর পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।’
এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ফোনে কথা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানে যা আছে
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার পদত্যাগ নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
আলোচনায় কে?
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি ছাড়াও বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ দলটির শীর্ষ কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে।




















তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানালেন নরেন্দ্র মোদি