পদ্মায় বাসডুবি: ৪ জনের মরদেহ ও ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার, পানির নিচে ৩৩
- আপডেট সময় : ১০:৩১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
- / 77
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখনও ৩৩ জনের মরদেহ পানির নিচে রয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪ জনের মরদেহ এবং ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে ঘাটের ৩নং পন্টুনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ৩৩ জনের মতো যাত্রীর মরদেহ পানির নিচে রয়েছে। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের দুজন ডুবুরি, দুজন সহকারী ডুবুরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।
ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘বিকেল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাল-সবুজের আভায় প্রস্তুত স্মৃতিসৌধ
এদিকে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ জানিয়েছেন, ফেরিঘাট থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তবে নিহতদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।
সৌহার্দ্য বাসে থাকা আবদুল আজিজুল নামে এক যাত্রী জানান, তিনি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার গান্ধীমারা এলাকা থেকে এই বাসটিতে উঠেছিলেন। নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি সাঁতরে উপরে উঠতে পারলেও তার স্ত্রী ও শিশুসন্তান নিখোঁজ রয়েছেন।
বাসটি কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে এসেছিল। খুবই অল্প সংখ্যক যাত্রী সাঁতরে উপরে উঠতে পেরেছেন বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। জানা গেছে, একটি ফেরি এসে পন্টুনে সজোরে আঘাত করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’।
স্থানীয়রা জানায়, বাসটিতে ৫০ থেকে ৫৫ যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই পাঁচ থেকে সাত যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে বাসে থাকা অন্য যাত্রীদের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন।























৯/১১ হামলার ২৫ বছর: এখনো অজানা হামলার রহস্য