ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুইজারল্যান্ডকে রুখে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট কাতারের

স্পোটর্স ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০২:৩৮ অপরাহ্ন, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 17

পুরো ম্যাচজুড়ে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত থাকতে হলো কাতারকে। একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করতে থাকে সুইসরা। তবে সুযোগ হাতছাড়ার মিছিলে জয় বঞ্চিত হতে হলো তাদের। বিপরীতে পুরো ম্যাচে রক্ষণ নিয়েই ব্যস্ত থাকা কাতার শেষ মুহূর্তে গোল করে সুইজাল্যান্ডের কাছ থেকে রীতিমতো ১ পয়েন্ট ছিনিয়েই নিল।

সানফ্রান্সিসকোতে আজ কাতারের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে সুইজারল্যান্ড। পেনাল্টি থেকে প্রথমে মুরাত ইয়াকিনের দলকে লিড এনে দেন ব্রিল এমবোলোর। তাতে এবারের বিশ্বকাপেও দেখল পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল। এরপর বৌয়ালেম খৌকির গোল সমতায় ফিরে কাতার।

বিশ্বকাপে কাতারের এটি দ্বিতীয় গোল ও প্রথম পয়েন্ট। ২০২২ সালে স্বাগতিক হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে তিন ম্যাচেই হারে তারা, গোল করে একটি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছিল সুইজাল্যান্ড। দলটির গড় বয়স ৩০ বছর ৮৬ দিন, যা ১৯৫০ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা তাদের আগের রেকর্ডকেও (২৮ বছর ৩১৪ দিন) ছাড়িয়ে গেছে। অভিজ্ঞতার বিচারে এগিয়ে থাকা দলটি সহজেই জয় পেতে পারত। তবে ফিনিশিংয়ে দূর্বলতাই তাদের তিন পয়েন্ট পাওয়া থেকে বঞ্চিত করল।

বল দখল থেকে শুরু করে ম্যাচের সব ধরনের পরিসংখ্যানেই কাতার থেকে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড। ৬৮ শতাংশ বল দখলে রেখে যেখানে মুরাত ইয়াকিনের দল শট নেয় ২৬টি, লক্ষ্যে ৭টি। অন্যদিকে মাত্র ৭টি শটের চারটি গোলমুখে রাখে কাতার।

খেলার শুরুতেই সুইজারল্যান্ডের এডমিলসন একটি দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন, এরপর প্রথমার্ধজুড়ে দাপট দেখাতে থাকা এনদয়েও অসংখ্য সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। ম্যাচের ১৭ মিনিটে কাতার গোলকিপার আবুনাদা দ্রুত ছুটে আসা সুইস মিডফিল্ডার ফ্রয়লারকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড, সেখান থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবোলো।

৩ মিনিটে প্রথম সুযোগ হারায় কাতার। সুইস রক্ষণের ভুলে বল আকানজির পায়ের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায় এবং দ্রুত বলের দখল নিয়ে নেন এডমিলসন। কাতারি এই ফরোয়ার্ডের সামনে তখন শুধু গোলরক্ষক সুইস কোবেল। কিন্তু তিনি ডান পায়ের শটটি সরাসরি কোবেলের শরীর বরাবর মারেন, আর কোবেলও অনায়াসে পা দিয়ে বল ঠেকিয়ে দলকে গোল হজমের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেন!

কাতারের দারুণ শুরুর বিপরীতে পেনাল্টি পেয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। জাকারিয়ার ভাসানো বল এমবোলো হেড করে নামিয়ে দেন দ্রুত ছুটে আসা ফ্রয়লারের জন্য। কাতারের গোলরক্ষক আবুনাদা লাফিয়ে উঠে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সরাসরি ফ্রয়লারকে আঘাত করে ফেলে দেন। রেফারি সাথে সাথেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে পরীক্ষার পর রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিলে সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন এমবোলো।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর তিনটি ভালো সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। প্রথম দুটি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক, অন্যটি গোললাইন থেকে ফেরান কাতারের ডিফেন্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও দারুণ ছিল সুইজারল্যান্ডের। ৫০ মিনিটে অধিনায়ক গ্রানিত জাকার দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শট ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে হতাশ হতে হয় সুইসদের। এরপর কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে ম্যাচের গতি। ৭৫ মিনিটে গিয়ে সুইসরা দ্বিতীয়ার্থের প্রথমবার লক্ষ্যে শট নিতে সক্ষম হয়; তবে বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে রুবেন ভার্গাসের নেওয়া শট দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন কাতার গোলরক্ষক। ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরই প্রায় একই জায়গা থেকে এমবোলোর নেওয়া শটটি খুঁজে পায় পাশের জাল।

অন্যদিকে, দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় নিষ্প্রভ থাকা কাতার নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে এসে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণটি শানায়। তবে বক্সের বাইরে থেকে আহমেদ আলার নেওয়া শটটি সহজেই গ্লাভসে নেন গোলরক্ষক কোবেল।

শেষ দিকে মনে হচ্ছিল সুইজারল্যান্ডের জয় কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু ফুটবল যে অনিশ্চয়তারই খেলা, তা আবারও প্রমাণ হলো যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে। বাঁ দিক থেকে হোমাম আহমেদের ভাসানো এক ক্রসে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ওপর দিয়ে লাফিয়ে উঠে জোরালো হেডে বল জালে জড়ান কাতারি অধিনায়ক খোখি। আর তাতেই বাধভাঙা উচ্ছাসে মাতে কাতার।

এর আগে গতকাল রাতে ‘বি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সেই ম্যাচটিও শেষ পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছে। ফলে ‘বি’ গ্রুপে এখন চার দলেরই পয়েন্ট সমান—অর্থাৎ সবার ঝুলিতেই রয়েছে ১ পয়েন্ট করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সুইজারল্যান্ডকে রুখে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট কাতারের

আপডেট সময় : ০১:০২:৩৮ অপরাহ্ন, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

পুরো ম্যাচজুড়ে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত থাকতে হলো কাতারকে। একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করতে থাকে সুইসরা। তবে সুযোগ হাতছাড়ার মিছিলে জয় বঞ্চিত হতে হলো তাদের। বিপরীতে পুরো ম্যাচে রক্ষণ নিয়েই ব্যস্ত থাকা কাতার শেষ মুহূর্তে গোল করে সুইজাল্যান্ডের কাছ থেকে রীতিমতো ১ পয়েন্ট ছিনিয়েই নিল।

সানফ্রান্সিসকোতে আজ কাতারের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে সুইজারল্যান্ড। পেনাল্টি থেকে প্রথমে মুরাত ইয়াকিনের দলকে লিড এনে দেন ব্রিল এমবোলোর। তাতে এবারের বিশ্বকাপেও দেখল পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল। এরপর বৌয়ালেম খৌকির গোল সমতায় ফিরে কাতার।

বিশ্বকাপে কাতারের এটি দ্বিতীয় গোল ও প্রথম পয়েন্ট। ২০২২ সালে স্বাগতিক হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে তিন ম্যাচেই হারে তারা, গোল করে একটি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছিল সুইজাল্যান্ড। দলটির গড় বয়স ৩০ বছর ৮৬ দিন, যা ১৯৫০ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা তাদের আগের রেকর্ডকেও (২৮ বছর ৩১৪ দিন) ছাড়িয়ে গেছে। অভিজ্ঞতার বিচারে এগিয়ে থাকা দলটি সহজেই জয় পেতে পারত। তবে ফিনিশিংয়ে দূর্বলতাই তাদের তিন পয়েন্ট পাওয়া থেকে বঞ্চিত করল।

বল দখল থেকে শুরু করে ম্যাচের সব ধরনের পরিসংখ্যানেই কাতার থেকে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড। ৬৮ শতাংশ বল দখলে রেখে যেখানে মুরাত ইয়াকিনের দল শট নেয় ২৬টি, লক্ষ্যে ৭টি। অন্যদিকে মাত্র ৭টি শটের চারটি গোলমুখে রাখে কাতার।

খেলার শুরুতেই সুইজারল্যান্ডের এডমিলসন একটি দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন, এরপর প্রথমার্ধজুড়ে দাপট দেখাতে থাকা এনদয়েও অসংখ্য সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। ম্যাচের ১৭ মিনিটে কাতার গোলকিপার আবুনাদা দ্রুত ছুটে আসা সুইস মিডফিল্ডার ফ্রয়লারকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড, সেখান থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবোলো।

৩ মিনিটে প্রথম সুযোগ হারায় কাতার। সুইস রক্ষণের ভুলে বল আকানজির পায়ের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায় এবং দ্রুত বলের দখল নিয়ে নেন এডমিলসন। কাতারি এই ফরোয়ার্ডের সামনে তখন শুধু গোলরক্ষক সুইস কোবেল। কিন্তু তিনি ডান পায়ের শটটি সরাসরি কোবেলের শরীর বরাবর মারেন, আর কোবেলও অনায়াসে পা দিয়ে বল ঠেকিয়ে দলকে গোল হজমের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেন!

কাতারের দারুণ শুরুর বিপরীতে পেনাল্টি পেয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। জাকারিয়ার ভাসানো বল এমবোলো হেড করে নামিয়ে দেন দ্রুত ছুটে আসা ফ্রয়লারের জন্য। কাতারের গোলরক্ষক আবুনাদা লাফিয়ে উঠে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সরাসরি ফ্রয়লারকে আঘাত করে ফেলে দেন। রেফারি সাথে সাথেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে পরীক্ষার পর রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিলে সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন এমবোলো।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর তিনটি ভালো সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। প্রথম দুটি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক, অন্যটি গোললাইন থেকে ফেরান কাতারের ডিফেন্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও দারুণ ছিল সুইজারল্যান্ডের। ৫০ মিনিটে অধিনায়ক গ্রানিত জাকার দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শট ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে হতাশ হতে হয় সুইসদের। এরপর কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে ম্যাচের গতি। ৭৫ মিনিটে গিয়ে সুইসরা দ্বিতীয়ার্থের প্রথমবার লক্ষ্যে শট নিতে সক্ষম হয়; তবে বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে রুবেন ভার্গাসের নেওয়া শট দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন কাতার গোলরক্ষক। ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরই প্রায় একই জায়গা থেকে এমবোলোর নেওয়া শটটি খুঁজে পায় পাশের জাল।

অন্যদিকে, দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় নিষ্প্রভ থাকা কাতার নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে এসে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণটি শানায়। তবে বক্সের বাইরে থেকে আহমেদ আলার নেওয়া শটটি সহজেই গ্লাভসে নেন গোলরক্ষক কোবেল।

শেষ দিকে মনে হচ্ছিল সুইজারল্যান্ডের জয় কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু ফুটবল যে অনিশ্চয়তারই খেলা, তা আবারও প্রমাণ হলো যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে। বাঁ দিক থেকে হোমাম আহমেদের ভাসানো এক ক্রসে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ওপর দিয়ে লাফিয়ে উঠে জোরালো হেডে বল জালে জড়ান কাতারি অধিনায়ক খোখি। আর তাতেই বাধভাঙা উচ্ছাসে মাতে কাতার।

এর আগে গতকাল রাতে ‘বি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সেই ম্যাচটিও শেষ পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছে। ফলে ‘বি’ গ্রুপে এখন চার দলেরই পয়েন্ট সমান—অর্থাৎ সবার ঝুলিতেই রয়েছে ১ পয়েন্ট করে।