ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিষেকে স্পেনকে রুখে ইতিহাস কেপ ভার্দের

স্পোটর্স ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / 26

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় যাদের বসবাস, ফুটবলবিশ্বে যাদের পরিচিতি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে। বিপরীতে বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের পায়ের স্পর্শ আজ প্রথমবার, স্বপ্ন আর রোমাঞ্চের সেই নতুন তীর্থযাত্রী—কেপ ভার্দে। স্পেন এসেছে বিশ্ব জয়ের অমোঘ ফেভারিট তকমা বুকে নিয়ে, আর এসেছে কেবলই নতুন করে আকাশ দেখার অপেক্ষায়, যাদের কাছে বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত ইতিহাস রচনার এক একটি অক্ষর। চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সী একাদশ নিয়ে মাঠে নামার রেকর্ড গড়া কেপ ভার্দের বিপরীতে তারকায় ঠাসা তারুণ্যে ভরপুর দল স্পেন। আটলান্টার গ্যালারিতে আজ রচিত হলো ফুটবল রূপকথার এক বিপরীতধর্মী আখ্যান। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে নামা আফ্রিকার এই দ্বীপদেশটি ফেবারিট স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ে এক আবেগঘন ও নাটকীয় ম্যাচ শেষে।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপের আজ সাক্ষী হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের। বিশ্বকাপে অভিষিক্ত কেপ ভার্দে রুখে দিল ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। গোলশূন্য ড্রয়ে লা রোহাদের অহং যেন ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিল তারা। ৪০ বছর বয়সী এক ‘বুড়ো’ গোলকিপারের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের সঙ্গে রক্ষণভাগকে দূর্গ বানিয়ে ইতিহাস গড়ল আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ দেশটি। পুরো ম্যাচে ৭টি সেভ দিয়ে কেপ ভার্দের মহানায়ক বনে গেলেন ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজাতেই তাঁর চোখে তখন আনন্দের অশ্রু। আটলান্টা স্টেডিয়ামের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে মাঠের ঘাসে আছড়ে পড়া দীর্ঘশ্বাস আর উল্লাসের শব্দ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল।

গোল পেতে কি না করেছে স্পেন? ৮০১টি পাস, ২৭টি শট যারমধ্যে গোলমুখে ছিল ৭টি। প্রথমার্ধে কেপ ভার্দের খেলা দেখে বোঝা খুব কঠিন ছিল, রক্ষণ সামলানোর অসাধারণ দক্ষতা দেখে মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপ বুঝি নিয়মিতই খেলে কেপ ভার্দে। নবাগত দলটির গোলকিপার ভোজিনহা একের পর এক সেভে স্পেনের হতাশা বেড়েছে ক্রমশই। ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বল দখলে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও, আফ্রিকান দলটির সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ভাঙা ছিল তাদের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ৪-৪-২ ফর্মেশনে খেলা কেপ ভার্দে নিজেদের রক্ষণভাগে যে প্রতিরক্ষা প্রাচীর তৈরি করেছিল, তাতে স্পেনের আক্রমণভাগের গতির অভাব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের অনুপস্থিতিতে স্প্যানিশদের আক্রমণ কৌশলে যেন ধার ছিল না।

উল্টো জাল অক্ষত রেখে সুযোগ বুঝে পাল্টা আক্রমণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ম্যাচের ১০ মিনিটে জোভানে কাবরালের গোছানো আক্রমণ স্পেনের রক্ষণে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। স্পেন কর্নার এবং ক্রসের মাধ্যমে বারবার সুযোগ তৈরি করেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছিল। ১৬ মিনিটে পেদ্রির শট ভোজিনহা সহজেই গ্লাভসবন্দি করেন, আর ২৩ মিনিটে গাভির জোরালো শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে স্পেনের হতাশা আরও বাড়ে।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো আসে। ৩৫ মিনিটে রদ্রির ভুলে বল পেয়ে ডেইলন লিভরামেন্তোর দূরপাল্লার শটটি স্পেনের জন্য বড় সতর্কবার্তা ছিল। তবে স্পেনের আক্ষেপের গল্পটি শুরু হয় মূলত ৩৮ মিনিটে, ফেরান তোরেসের বুলেট গতির শট ক্রসবারে বাধা পায় এবং ফিরতি বলে মিকেল ওয়ারজাবাল হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন ভোজিনহা।

প্রথমার্ধের অন্তিম মুহূর্তেও স্পেনের একের পর এক আক্রমণ কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণ এবং গোলকিপারের বীরত্বের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে। ফাবিয়ান রুইজের কর্নার থেকে লাপোর্তের হেডটিও অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা।

দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেন আক্রমণের ধার বাড়ালেও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ছিল প্রায় অটল। ভোজিনিয়া যেন একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন স্প্যানিশ শটগুলোর সামনে। পুরো ম্যাচে তিনি অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

ম্যাচের ৭১ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় এই আলোচিত উইঙ্গারের। অন্যদিকে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার জন্যও এটি ছিল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ, তার বয়স ৪০ বছর ২২ দিন। দুই প্রান্তে দুই প্রজন্মের এই লড়াই ম্যাচটিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তোলে। তাদের বয়সের ব্যবধান দাঁড়ায় ২১ বছর ৪৫ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বয়সের ব্যবধান হিসেবে রেকর্ড গড়ে।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্পেন মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালালেও কেপ ভার্দের দৃঢ় প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি তারা। যোগ করা সময়েও কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় গোলশূন্য ড্র।

ফুটবলের ইতিহাসে হয়তো এমন অনেক ড্র এসেছে, কিন্তু কেপ ভার্দের মতো নবাগত দলের জন্য স্পেনের বিপক্ষে এই ফলাফল নিঃসন্দেহে স্মরণীয় এক অর্জন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে আটকে দিয়ে তারা যেমন বিশ্বকে চমকে দিয়েছে, তেমনি নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রাকে রঙিন করে তুলেছে প্রথম ম্যাচেই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অভিষেকে স্পেনকে রুখে ইতিহাস কেপ ভার্দের

আপডেট সময় : ১২:২১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় যাদের বসবাস, ফুটবলবিশ্বে যাদের পরিচিতি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে। বিপরীতে বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের পায়ের স্পর্শ আজ প্রথমবার, স্বপ্ন আর রোমাঞ্চের সেই নতুন তীর্থযাত্রী—কেপ ভার্দে। স্পেন এসেছে বিশ্ব জয়ের অমোঘ ফেভারিট তকমা বুকে নিয়ে, আর এসেছে কেবলই নতুন করে আকাশ দেখার অপেক্ষায়, যাদের কাছে বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত ইতিহাস রচনার এক একটি অক্ষর। চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সী একাদশ নিয়ে মাঠে নামার রেকর্ড গড়া কেপ ভার্দের বিপরীতে তারকায় ঠাসা তারুণ্যে ভরপুর দল স্পেন। আটলান্টার গ্যালারিতে আজ রচিত হলো ফুটবল রূপকথার এক বিপরীতধর্মী আখ্যান। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে নামা আফ্রিকার এই দ্বীপদেশটি ফেবারিট স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ে এক আবেগঘন ও নাটকীয় ম্যাচ শেষে।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপের আজ সাক্ষী হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের। বিশ্বকাপে অভিষিক্ত কেপ ভার্দে রুখে দিল ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। গোলশূন্য ড্রয়ে লা রোহাদের অহং যেন ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিল তারা। ৪০ বছর বয়সী এক ‘বুড়ো’ গোলকিপারের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের সঙ্গে রক্ষণভাগকে দূর্গ বানিয়ে ইতিহাস গড়ল আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ দেশটি। পুরো ম্যাচে ৭টি সেভ দিয়ে কেপ ভার্দের মহানায়ক বনে গেলেন ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজাতেই তাঁর চোখে তখন আনন্দের অশ্রু। আটলান্টা স্টেডিয়ামের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে মাঠের ঘাসে আছড়ে পড়া দীর্ঘশ্বাস আর উল্লাসের শব্দ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল।

গোল পেতে কি না করেছে স্পেন? ৮০১টি পাস, ২৭টি শট যারমধ্যে গোলমুখে ছিল ৭টি। প্রথমার্ধে কেপ ভার্দের খেলা দেখে বোঝা খুব কঠিন ছিল, রক্ষণ সামলানোর অসাধারণ দক্ষতা দেখে মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপ বুঝি নিয়মিতই খেলে কেপ ভার্দে। নবাগত দলটির গোলকিপার ভোজিনহা একের পর এক সেভে স্পেনের হতাশা বেড়েছে ক্রমশই। ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বল দখলে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও, আফ্রিকান দলটির সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ভাঙা ছিল তাদের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ৪-৪-২ ফর্মেশনে খেলা কেপ ভার্দে নিজেদের রক্ষণভাগে যে প্রতিরক্ষা প্রাচীর তৈরি করেছিল, তাতে স্পেনের আক্রমণভাগের গতির অভাব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের অনুপস্থিতিতে স্প্যানিশদের আক্রমণ কৌশলে যেন ধার ছিল না।

উল্টো জাল অক্ষত রেখে সুযোগ বুঝে পাল্টা আক্রমণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ম্যাচের ১০ মিনিটে জোভানে কাবরালের গোছানো আক্রমণ স্পেনের রক্ষণে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। স্পেন কর্নার এবং ক্রসের মাধ্যমে বারবার সুযোগ তৈরি করেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছিল। ১৬ মিনিটে পেদ্রির শট ভোজিনহা সহজেই গ্লাভসবন্দি করেন, আর ২৩ মিনিটে গাভির জোরালো শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে স্পেনের হতাশা আরও বাড়ে।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো আসে। ৩৫ মিনিটে রদ্রির ভুলে বল পেয়ে ডেইলন লিভরামেন্তোর দূরপাল্লার শটটি স্পেনের জন্য বড় সতর্কবার্তা ছিল। তবে স্পেনের আক্ষেপের গল্পটি শুরু হয় মূলত ৩৮ মিনিটে, ফেরান তোরেসের বুলেট গতির শট ক্রসবারে বাধা পায় এবং ফিরতি বলে মিকেল ওয়ারজাবাল হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন ভোজিনহা।

প্রথমার্ধের অন্তিম মুহূর্তেও স্পেনের একের পর এক আক্রমণ কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণ এবং গোলকিপারের বীরত্বের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে। ফাবিয়ান রুইজের কর্নার থেকে লাপোর্তের হেডটিও অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা।

দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেন আক্রমণের ধার বাড়ালেও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ছিল প্রায় অটল। ভোজিনিয়া যেন একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন স্প্যানিশ শটগুলোর সামনে। পুরো ম্যাচে তিনি অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

ম্যাচের ৭১ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় এই আলোচিত উইঙ্গারের। অন্যদিকে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার জন্যও এটি ছিল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ, তার বয়স ৪০ বছর ২২ দিন। দুই প্রান্তে দুই প্রজন্মের এই লড়াই ম্যাচটিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তোলে। তাদের বয়সের ব্যবধান দাঁড়ায় ২১ বছর ৪৫ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বয়সের ব্যবধান হিসেবে রেকর্ড গড়ে।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্পেন মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালালেও কেপ ভার্দের দৃঢ় প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি তারা। যোগ করা সময়েও কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় গোলশূন্য ড্র।

ফুটবলের ইতিহাসে হয়তো এমন অনেক ড্র এসেছে, কিন্তু কেপ ভার্দের মতো নবাগত দলের জন্য স্পেনের বিপক্ষে এই ফলাফল নিঃসন্দেহে স্মরণীয় এক অর্জন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে আটকে দিয়ে তারা যেমন বিশ্বকে চমকে দিয়েছে, তেমনি নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রাকে রঙিন করে তুলেছে প্রথম ম্যাচেই।