ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারে ৬ মাসে সামরিক হামলায় নিহত ৭০২: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • / 45

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের এক নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মিয়ানমারে নির্বাচনকেন্দ্রিক ছয় মাসে সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন নারী এবং ১৫৩ জন শিশু রয়েছে।

২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা সামরিক সরকার পাঁচ বছর পর একটি নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। তবে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করায় এই নির্বাচনকে প্রহসন আখ্যা দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তার অভাবে দেশটির লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রধান কারণ ছিল বিমান হামলা। সামরিক বাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ মজবুত করতে চাওয়ায় সাগাইং অঞ্চলটি বেসামরিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সেখানে ১৯১ জন নিহত হন। এর মধ্যে অক্টোবরে চাউং-ইউতে একটি স্কুলের সামনে শান্তিপূর্ণ মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতে হামলায় চার শিশুসহ ২৩ জন প্রাণ হারান।

অন্যদিকে ডিসেম্বরে একটি চায়ের দোকানে বোমা হামলায় ১৯ জন নিহত হন। এছাড়া আরাকান আর্মি কর্তৃক রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক নিয়োগ ও নির্যাতনের বিষয়টিও এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমারের মানুষ যেন আজ বহির্বিশ্বের কাছে সম্পূর্ণ বিস্মৃত। আন্তর্জাতিক তহবিল হ্রাস পাওয়ায় এই মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এদিকে, গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের অধিকাংশ মানুষ ভোট দিতে না পারলেও, একতরফা এই নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের অনুগতরা।

বিরোধীদের কোণঠাসা করতে সামরিক বাহিনী জোরপূর্বক নিয়োগ ও ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করেছে। ফলস্বরূপ, জান্তার রাজনৈতিক দল ইউএসডিপি প্রায় ৮০ শতাংশ আসন জিতেছে এবং পার্লামেন্টের এক চতুর্থাংশ আসন সেনাসদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মিয়ানমারে ৬ মাসে সামরিক হামলায় নিহত ৭০২: জাতিসংঘ

আপডেট সময় : ০২:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের এক নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মিয়ানমারে নির্বাচনকেন্দ্রিক ছয় মাসে সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন নারী এবং ১৫৩ জন শিশু রয়েছে।

২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা সামরিক সরকার পাঁচ বছর পর একটি নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। তবে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করায় এই নির্বাচনকে প্রহসন আখ্যা দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তার অভাবে দেশটির লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রধান কারণ ছিল বিমান হামলা। সামরিক বাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ মজবুত করতে চাওয়ায় সাগাইং অঞ্চলটি বেসামরিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সেখানে ১৯১ জন নিহত হন। এর মধ্যে অক্টোবরে চাউং-ইউতে একটি স্কুলের সামনে শান্তিপূর্ণ মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতে হামলায় চার শিশুসহ ২৩ জন প্রাণ হারান।

অন্যদিকে ডিসেম্বরে একটি চায়ের দোকানে বোমা হামলায় ১৯ জন নিহত হন। এছাড়া আরাকান আর্মি কর্তৃক রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক নিয়োগ ও নির্যাতনের বিষয়টিও এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমারের মানুষ যেন আজ বহির্বিশ্বের কাছে সম্পূর্ণ বিস্মৃত। আন্তর্জাতিক তহবিল হ্রাস পাওয়ায় এই মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এদিকে, গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের অধিকাংশ মানুষ ভোট দিতে না পারলেও, একতরফা এই নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের অনুগতরা।

বিরোধীদের কোণঠাসা করতে সামরিক বাহিনী জোরপূর্বক নিয়োগ ও ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করেছে। ফলস্বরূপ, জান্তার রাজনৈতিক দল ইউএসডিপি প্রায় ৮০ শতাংশ আসন জিতেছে এবং পার্লামেন্টের এক চতুর্থাংশ আসন সেনাসদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি