ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল তেলের দাম
- আপডেট সময় : ০৩:২৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
- / 9
ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির চাবাহার বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন এই হামলার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ বলছে, ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) লেনদেনের শুরুতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। মূলত এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ০২ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৫৬ ডলার।
এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে বহুল ব্যবহৃত আবুধাবির প্রধান রপ্তানিযোগ্য গ্রেড মুরবান ক্রুডের দাম সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৫৭ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ২২০ ডলারে পৌঁছায়।
এর আগে বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একমাত্র মহাসাগরীয় বন্দর চাবাহারে সামরিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়।
গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এই এলাকায় এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক অভিযান। একই সঙ্গে এই হামলার ফলে সংঘাত হরমুজ প্রণালির বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চাবাহার বন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে হলেও বাজারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো বা বাণিজ্যিক নৌপথে হামলা চালাতে পারে। তাদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো— সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে সংযোগকারী নৌপথও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এছাড়া আরব আমিরাতের মুরবান ক্রুডের দামের তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এশিয়ার ক্রেতারা আঞ্চলিক সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। কারণ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শোধনাগারগুলো এই মানদণ্ডের তেল বেশি ব্যবহার করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন বাজারের নজর রয়েছে ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয় কি না, কিংবা সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে কোনও ধরনের বাধা সৃষ্টি করে কি না। মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।























মাশহাদে চিরশায়িত খামেনি, জনসমুদ্রে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান