ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিশেষ সতর্কীকরণ নোটিশ ::
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হবে। এ জন্য ০১৩১৮২৩৪৯৬২, ০১৩১৮২৩৪৯৬৩, ০১৩২১১৩৯৫৪২ ও ০১৭০৯৬৫৪৭৯১ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ffwcbwdb@gmail.com এবং ffwc05@yahoo.com ই-মেইলেও তথ্য পাওয়া যাবে।

কুয়েত-বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 5

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পরই মধ্যপ্রাচ্যের দুটি দেশে একযোগে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের সেনাবাহিনী শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে আইআরজিসি জানিয়েছে। তাদের মতে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাবে এটি ছিল ‘শাস্তিমূলক প্রতিক্রিয়ার’ প্রথম ধাপ।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। আইআরজিসির দাবি, এই অভিযানে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান সামরিক ঘাঁটি ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির পাশাপাশি বাহরাইনের জুফাইর ও শেখ ঈসা ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। তারা জানায়, দেশজুড়ে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার কারণেই হচ্ছে।

অন্যদিকে বার্তাসংস্থা কুনা জানিয়েছে, কুয়েতজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি জানায়, ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় বিভিন্ন প্রদেশ এবং পূর্বাঞ্চলে পবিত্র শহর মাশহাদের দিকে যাওয়ার সড়কের দুটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এর জবাব হিসেবেই কুয়েত ও বাহরাইনে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

মূলত বুধবার মাশহাদে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে দাফন করা হবে। আইআরজিসির দাবি, খামেনির ‘ঐতিহাসিক’ শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানকে আড়াল করতেই যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলা চালিয়েছে।

ইরানের এই বাহিনীটি আরও সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও হামলা চালায়, তাহলে ইরানের ‘কঠোর জবাব’ এ অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের আরও সামরিক ঘাঁটিতে বিস্তৃত হবে।

এর আগে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, উত্তরাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশের আককালা শহরের বাইরে আক তেকেহ খান সেতু এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে রেলপথে দুটি বিস্ফোরণ ঘটে।

ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, গোলেস্তান প্রদেশে আইআরজিসির শাখা জানিয়েছে, আক তেকেহ খান সেতু এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এ ঘটনার জবাবে ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাহিনীটি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কুয়েত-বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইরানের

আপডেট সময় : ০১:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পরই মধ্যপ্রাচ্যের দুটি দেশে একযোগে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের সেনাবাহিনী শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে আইআরজিসি জানিয়েছে। তাদের মতে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাবে এটি ছিল ‘শাস্তিমূলক প্রতিক্রিয়ার’ প্রথম ধাপ।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। আইআরজিসির দাবি, এই অভিযানে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান সামরিক ঘাঁটি ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির পাশাপাশি বাহরাইনের জুফাইর ও শেখ ঈসা ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। তারা জানায়, দেশজুড়ে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার কারণেই হচ্ছে।

অন্যদিকে বার্তাসংস্থা কুনা জানিয়েছে, কুয়েতজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি জানায়, ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় বিভিন্ন প্রদেশ এবং পূর্বাঞ্চলে পবিত্র শহর মাশহাদের দিকে যাওয়ার সড়কের দুটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এর জবাব হিসেবেই কুয়েত ও বাহরাইনে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

মূলত বুধবার মাশহাদে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে দাফন করা হবে। আইআরজিসির দাবি, খামেনির ‘ঐতিহাসিক’ শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানকে আড়াল করতেই যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলা চালিয়েছে।

ইরানের এই বাহিনীটি আরও সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও হামলা চালায়, তাহলে ইরানের ‘কঠোর জবাব’ এ অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের আরও সামরিক ঘাঁটিতে বিস্তৃত হবে।

এর আগে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, উত্তরাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশের আককালা শহরের বাইরে আক তেকেহ খান সেতু এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে রেলপথে দুটি বিস্ফোরণ ঘটে।

ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, গোলেস্তান প্রদেশে আইআরজিসির শাখা জানিয়েছে, আক তেকেহ খান সেতু এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এ ঘটনার জবাবে ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাহিনীটি।