ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদদের স্বজনদের সামনে দাঁড়ালে নিজেকে অপরাধী মনে হয়: মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:০১ অপরাহ্ন, রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / 3

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদদের স্বজনদের সামনে দাঁড়ালে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আত্মত্যাগ জাতির জন্য গভীর বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন রাষ্ট্র নির্মাণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে এবং হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ তৈরি হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে এবং ভিন্নমত দমনে হত্যা, গুম ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছিল।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার আন্দোলন করেছে। তাঁর মতে, সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন এবং পরে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ নতুন স্বপ্ন ও আশার জন্ম দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে ১৫ বছরের লুটপাট, ধ্বংস ও অব্যবস্থাপনা দূর করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শহীদদের স্বজনদের সামনে দাঁড়ালে নিজেকে অপরাধী মনে হয়: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৩:১৪:০১ অপরাহ্ন, রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদদের স্বজনদের সামনে দাঁড়ালে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আত্মত্যাগ জাতির জন্য গভীর বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন রাষ্ট্র নির্মাণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে এবং হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ তৈরি হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে এবং ভিন্নমত দমনে হত্যা, গুম ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছিল।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার আন্দোলন করেছে। তাঁর মতে, সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন এবং পরে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ নতুন স্বপ্ন ও আশার জন্ম দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে ১৫ বছরের লুটপাট, ধ্বংস ও অব্যবস্থাপনা দূর করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যেতে হবে।