ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বাছাইপর্বে নামার সম্ভাবনা কেন

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • / 5

২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণ অনেক আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। স্বাগতিক দেশগুলোর একটি হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পেলেও আগামী বছর থেকে তাদের আবারও বাছাইপর্বে খেলতে হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা কৌতূহল।

২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশেষ ব্যবস্থার কারণে তিন দেশই স্বাগতিকের মর্যাদা পেয়েছে এবং সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করেছে।

তবে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত হলেও আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েকে প্রতিযোগিতামূলক সূচির বাইরে রাখতে চাইছে না দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল। সংস্থাটি এমন একটি নতুন কাঠামো নিয়ে কাজ করছে, যাতে স্বাগতিক দলগুলোরও নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকে।

এর অন্যতম কারণ হতে পারে ২০৩০ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি। কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজ এর আগে ৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন। যদি সেটি কার্যকর হয়, তাহলে দক্ষিণ আমেরিকার জন্য বরাদ্দ আসনও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় বাকি দেশগুলোর মধ্যে টিকিটের লড়াই অনেকটাই কমে যাবে। এতে প্রচলিত বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্বও হ্রাস পেতে পারে।

এ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে কনমেবল নতুন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা চালুর পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত টুর্নামেন্টটি অনেকটা উয়েফা নেশনস লিগের আদলে হতে পারে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার মধ্যবর্তী সময়েও দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো নিয়মিত উচ্চমানের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে পারবে। একই সঙ্গে ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

প্যারাগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রবার্ট হ্যারিসন সম্প্রতি সম্ভাব্য এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে ইতোমধ্যেই ২০৩০ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে বাছাইপর্বে বাকি দেশগুলো সীমিত কয়েকটি টিকিটের জন্য লড়াই করবে। পাশাপাশি বাছাইপর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে উয়েফার সঙ্গে যৌথভাবে নেশনস লিগের আদলে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে পারবে।

তবে পুরো বিষয়টি এখনও পরিকল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। কনমেবল ও ফিফা এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে স্বাগতিক দেশগুলো ঠিক কী ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, সেটি জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে ২০৩০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের পূর্ণাঙ্গ সূচিও এখনও প্রকাশ করেনি ফিফা। এর আগে আগামী ফিফা উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ওই উইন্ডোতে ম্যাচ দুটির প্রতিপক্ষ, ভেন্যু ও সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

২০৩০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বাছাইপর্বে নামার সম্ভাবনা কেন

আপডেট সময় : ০২:৫১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণ অনেক আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। স্বাগতিক দেশগুলোর একটি হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পেলেও আগামী বছর থেকে তাদের আবারও বাছাইপর্বে খেলতে হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা কৌতূহল।

২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশেষ ব্যবস্থার কারণে তিন দেশই স্বাগতিকের মর্যাদা পেয়েছে এবং সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করেছে।

তবে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত হলেও আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েকে প্রতিযোগিতামূলক সূচির বাইরে রাখতে চাইছে না দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল। সংস্থাটি এমন একটি নতুন কাঠামো নিয়ে কাজ করছে, যাতে স্বাগতিক দলগুলোরও নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকে।

এর অন্যতম কারণ হতে পারে ২০৩০ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি। কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজ এর আগে ৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন। যদি সেটি কার্যকর হয়, তাহলে দক্ষিণ আমেরিকার জন্য বরাদ্দ আসনও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় বাকি দেশগুলোর মধ্যে টিকিটের লড়াই অনেকটাই কমে যাবে। এতে প্রচলিত বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্বও হ্রাস পেতে পারে।

এ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে কনমেবল নতুন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা চালুর পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত টুর্নামেন্টটি অনেকটা উয়েফা নেশনস লিগের আদলে হতে পারে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার মধ্যবর্তী সময়েও দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো নিয়মিত উচ্চমানের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে পারবে। একই সঙ্গে ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

প্যারাগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রবার্ট হ্যারিসন সম্প্রতি সম্ভাব্য এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে ইতোমধ্যেই ২০৩০ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে বাছাইপর্বে বাকি দেশগুলো সীমিত কয়েকটি টিকিটের জন্য লড়াই করবে। পাশাপাশি বাছাইপর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে উয়েফার সঙ্গে যৌথভাবে নেশনস লিগের আদলে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে পারবে।

তবে পুরো বিষয়টি এখনও পরিকল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। কনমেবল ও ফিফা এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে স্বাগতিক দেশগুলো ঠিক কী ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, সেটি জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে ২০৩০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের পূর্ণাঙ্গ সূচিও এখনও প্রকাশ করেনি ফিফা। এর আগে আগামী ফিফা উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ওই উইন্ডোতে ম্যাচ দুটির প্রতিপক্ষ, ভেন্যু ও সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।