ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজ হারিয়ে রাস্তায় সবজি বিক্রি করছেন জনপ্রিয় চীনা অভিনেতা

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / 8

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিনোদন জগতে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি তৈরি করছে কর্মসংস্থানের সংকটও। চীনের জনপ্রিয় মাইক্রোড্রামা অভিনেতা শু পেং তারই এক বাস্তব উদাহরণ। একসময় ‘দাপুটে সিইও’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতা এখন অভিনয়ের কাজ না পেয়ে নিজ গ্রামের বাজারে দাদার চাষ করা সবজি বিক্রি করছেন।

এশিয়াওয়ানের সংবাদ প্রতিবেদনে জানা যায়, চীনের শানডং প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে গেছেন ৩০ বছর বয়সী শু পেং। সম্প্রতি জানা যায়, এআই-নির্ভর মাইক্রোড্রামার বিস্তারের কারণে তিনি অভিনয়ের সুযোগ হারিয়েছেন। সেন্ট্রাল অ্যাকাডেমি অব ড্রামা থেকে পড়াশোনা করা শু পেং ‘ব্লাড রিভার’ (২০২৫) এবং ‘এ জার্নি টু লাভ’ (২০২৩)-এর মতো নাটকে অভিনয় করেছেন। ২০২৫ সালে চীনের মাইক্রোড্রামা শিল্পের স্বর্ণসময়ে তিনি একের পর এক প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। তখন প্রতিদিন প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত শুটিং করতেন তিনি।

কিন্তু ২০২৬ সালে এআই-নির্মিত মাইক্রোড্রামার সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এক মাসের মধ্যেই তার হাতে নতুন কোনো কাজ থাকে না। চীনা গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই চীনে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার মাইক্রোড্রামা প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি।

চলতি বছরের মার্চে নিজের শেষ স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটকের শুটিং শেষ করে শু পেং শানডংয়ের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। এখন প্রতিদিন পরিবারের বৈদ্যুতিক গাড়িতে করে বাজারে যান এবং দাদার চাষ করা শাকসবজি বিক্রি করেন। তার এই পেশা পরিবর্তনে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিস্মিত হলেও, অনেক ভক্ত বাজারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করছেন এবং ছবি তুলছেন। তবে এই পরিবর্তন নিয়ে মোটেও হতাশ নন শু পেং। চীনা সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, অভিনয়ও একটি পেশা। যদি অভিনয়ের সুযোগ না থাকে, তাহলে জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য কোনো কাজ করব।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কাজ হারিয়ে রাস্তায় সবজি বিক্রি করছেন জনপ্রিয় চীনা অভিনেতা

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিনোদন জগতে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি তৈরি করছে কর্মসংস্থানের সংকটও। চীনের জনপ্রিয় মাইক্রোড্রামা অভিনেতা শু পেং তারই এক বাস্তব উদাহরণ। একসময় ‘দাপুটে সিইও’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতা এখন অভিনয়ের কাজ না পেয়ে নিজ গ্রামের বাজারে দাদার চাষ করা সবজি বিক্রি করছেন।

এশিয়াওয়ানের সংবাদ প্রতিবেদনে জানা যায়, চীনের শানডং প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে গেছেন ৩০ বছর বয়সী শু পেং। সম্প্রতি জানা যায়, এআই-নির্ভর মাইক্রোড্রামার বিস্তারের কারণে তিনি অভিনয়ের সুযোগ হারিয়েছেন। সেন্ট্রাল অ্যাকাডেমি অব ড্রামা থেকে পড়াশোনা করা শু পেং ‘ব্লাড রিভার’ (২০২৫) এবং ‘এ জার্নি টু লাভ’ (২০২৩)-এর মতো নাটকে অভিনয় করেছেন। ২০২৫ সালে চীনের মাইক্রোড্রামা শিল্পের স্বর্ণসময়ে তিনি একের পর এক প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। তখন প্রতিদিন প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত শুটিং করতেন তিনি।

কিন্তু ২০২৬ সালে এআই-নির্মিত মাইক্রোড্রামার সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এক মাসের মধ্যেই তার হাতে নতুন কোনো কাজ থাকে না। চীনা গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই চীনে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার মাইক্রোড্রামা প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি।

চলতি বছরের মার্চে নিজের শেষ স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটকের শুটিং শেষ করে শু পেং শানডংয়ের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। এখন প্রতিদিন পরিবারের বৈদ্যুতিক গাড়িতে করে বাজারে যান এবং দাদার চাষ করা শাকসবজি বিক্রি করেন। তার এই পেশা পরিবর্তনে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিস্মিত হলেও, অনেক ভক্ত বাজারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করছেন এবং ছবি তুলছেন। তবে এই পরিবর্তন নিয়ে মোটেও হতাশ নন শু পেং। চীনা সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, অভিনয়ও একটি পেশা। যদি অভিনয়ের সুযোগ না থাকে, তাহলে জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য কোনো কাজ করব।