বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গুরুত্ব
- আপডেট সময় : ০১:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, রোববার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 7
বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, স্থগিত সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু, সরাসরি নৌ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে।
রোববার (২ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগসংক্রান্ত যেসব বিষয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্যের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে উভয় দেশ একযোগে কাজ করবে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা গেলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। তিনি প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে হলেও সীমান্ত বাণিজ্য চালুর বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান।
বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিজনেস-টু-বিজনেস (বি-টু-বি) কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ ও যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয় পক্ষের মতে, সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লউইন উপস্থিত ছিলেন।






















অস্ট্রেলিয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা