‘ফ্যামিলি কার্ডে জনগণের টাকা জনগণকেই ফিরিয়ে দিচ্ছেন তারেক রহমান’
- আপডেট সময় : ০২:১৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তারেক রহমান জনগণের টাকা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে বন্দি করা ছিল এ যৌথ চক্রান্তেরই অংশ। জিয়াউর রহমানের যে কৃতিত্ব, সততা, নিষ্ঠা, উৎপাদন, উন্নয়ন, পররাষ্ট্রনীতি, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা এবং একটি জাতিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ঐতিহাসিক অর্জন, সেই সফলতার পতাকাই বহন করছেন তারেক রহমান।
অতীতের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের দুর্ভিক্ষ, লুটপাট, সহিংসতা, বিরোধী দল দমন, রক্তপাত, পত্রিকা ও রাজনৈতিক দল বন্ধ করে মানুষকে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের অবারিত দ্বার উন্মুক্ত করেছিলেন, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলার ও মুক্তকণ্ঠে আওয়াজ তোলার স্বাধীনতা পায়।
তিনি বলেন, আল্লাহ যার সহায় এবং জনগণ যার পাশে থাকে, কোনো চক্রান্ত তাদের পরাস্ত করতে পারে না। সেদিন তারেক রহমানের ওপর কেবল মানসিক বা কারাবন্দি করার অত্যাচারই চালানো হয়নি, তাকে শারীরিকভাবেও নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। সেই শারীরিক আঘাতের ক্ষত তিনি আজও বহন করে চলেছেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ২০১৮ সাল থেকে তিনি গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও উদ্বুদ্ধ করে আসছেন। শেখ হাসিনার ভয়ঙ্কর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের দরজা খোলার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৃণমূলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের মাধ্যমে কিংবা অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে নিয়মিত সহানুভূতি ও সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে কত অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং এখনও চলছে। কিন্তু জনগণ দেখছে যে তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিন-রাত শুধু ঘরে বসে বা ঘুমিয়ে থাকেননি। দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পূরণ করে যাচ্ছেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, অতীতে চরম দুঃসময়ের মধ্যেও চোখ রাঙানি ও নির্যাতন সহ্য করে নেতাকর্মীরা এ দিবসটি পালন করেছেন। তৎকালীন ওয়ান-ইলেভেন সরকার এবং পরবর্তী সময়ে তার ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তার চিহ্ন তিনি আজও বহন করছেন। তবে তারেক রহমান নিজে সেই দিনগুলোর প্রতিশোধ নিতে চান না।
তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা নিজে বলেছেন, তিনি সেই কষ্টের দিনগুলো মনে রাখতে চান না। আমরা যদি সেই দিনগুলোর প্রতিশোধ নিতে যাই, তবে দেশ ও দলের মূল কাজগুলো পিছিয়ে যাবে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলে গিয়েছিলেন, এদেশের জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। বাংলাদেশের ইতিহাস বারবার সেই কথার সত্যতা প্রমাণ করেছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচারের পতন- এসবের মধ্য দিয়ে এ দেশের জনগণ আবার প্রমাণ করেছেন যে সব ক্ষমতার মালিক তারাই, যোগ করেন তিনি।
অতীতের কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করে রুমন বলেন, আজকের মুক্ত পরিবেশ আর সেই দুঃসময়ের চিত্র এক ছিল না। তখন নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের কাছে অনুষ্ঠান বা প্রোগ্রামের স্থান-কাল গোপন রাখা হতো। মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে সাংবাদিকদের জানানো হতো। সেই চরম ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সংবাদকর্মীরা আমাদের ভীষণভাবে সহযোগিতা করেছিলেন, যার কারণে প্রতিটি কর্মসূচি সফল করা সম্ভব হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সেই সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে আজকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধারা রাজপথে থেকে প্রেরণা জুগিয়েছেন। সব বাধা অতিক্রম করেই দল আজ এ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলাল। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের নেতাকর্মীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।




















শিগগিরই কাটবে গ্যাস সংকট: রিজভী