ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
ওয়েব সাইড আপগ্রেট করার কারণে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সংবাদ সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইইউ-ন্যাটোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 9

জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ব্যর্থ ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটো। ঘটনাটিকে ইউরোপের মাটিতে রাশিয়ার ‘নতুন উত্তেজনা’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির ওপর আরও চাপ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন ইউরোপীয় নেতারা।

জার্মানি গত মাসে লাইপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে ব্যর্থ হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করার পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেন, লাইপজিগের ঘটনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাটিতে রাশিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততায় সংঘটিত ‘নতুন উত্তেজনা’র সূচনা করেছে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার বেপরোয়া আচরণের দ্রুত ও কার্যকর জবাব দিতে ইউরোপকে আরও কঠোর হতে হবে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জার্মানির প্রতি জোটের ‘পূর্ণ সংহতি’ প্রকাশ করে বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে মিত্ররা ঐক্যবদ্ধ।

৪ আগস্ট বিস্ফোরকবাহী একটি ড্রোন ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে জার্মানির অভিযোগ অবশ্য রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে। জার্মান কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনটি লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে একটি ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানের কাছে পাওয়া যায় এবং পরে রোবটের সাহায্যে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে মোট তিনটি ড্রোনের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। বিমানবন্দরটি ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ একটি লজিস্টিক কেন্দ্র এবং ইউক্রেনের আন্তোনভ পরিবহন বিমানগুলোও নিয়মিত এটি ব্যবহার করে।

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট বলেছেন, পুলিশের তদন্ত, অপরাধের ধরন এবং গোয়েন্দা তথ্য একত্রে রাশিয়ার সম্পৃক্ততার দিকে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে। জার্মান সরকারের মতে, ড্রোনটির গঠন, যন্ত্রাংশ, বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর রাশিয়ার আগের ‘হাইব্রিড অভিযান’-এর সঙ্গে মিল রয়েছে।

লাইপজিগ হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জার্মানি। তাদের মধ্যে একজন বেলারুশীয় নাগরিক, যার কাছে রুশ পাসপোর্ট ছিল। অপরজনের কাছে লাতভিয়ান ও রুশ পাসপোর্ট রয়েছে বলে জানা গেছে।

রাশিয়ার কনস্যুলেট ও রাশিয়ান হাউস বন্ধ করছে জার্মানি
লাইপজিগ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জার্মানি বন শহরের রুশ কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে বার্লিনের রাশিয়ান হাউস সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কার্যক্রমও বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জার্মান কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে ক্রেমলিনের প্রচার ও প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বলেছেন, বার্লিন রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা এবং রুশ নাগরিকদের ওপর ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপের জন্য ইইউর মধ্যে চাপ দেবে।

একই সঙ্গে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাবে জার্মানি। রাশিয়া জার্মানির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জার্মানির পদক্ষেপকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, বার্লিনের দাবির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। মস্কোও জার্মানির বিরুদ্ধে ‘প্রতিবিম্বিত’ বা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো বার্লিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে তিনি বলেছেন, আপাতত মস্কো কূটনীতিকে সুযোগ দিতে চায়।

ইইউ-ন্যাটোর কঠোর বার্তা
ইউরোপীয় কমিশন ও ন্যাটোর নেতারা লাইপজিগের ঘটনাকে ইউরোপীয় ভূখণ্ডে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ‘হাইব্রিড’ তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখছেন।

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, রাশিয়ার দায়বদ্ধতার বিষয়ে প্রমাণ স্পষ্ট এবং ইউরোপকে ভয় দেখিয়ে বা বিভক্ত করে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন দুর্বল করার চেষ্টা ব্যর্থ হবে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাসও বলেছেন, লাইপজিগের ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তিনি রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা এবং রুশ নাগরিকদের ভিসা ও প্রবেশাধিকার আরও কঠোর করার বিষয়ে ইইউ দেশগুলোর আলোচনার কথা জানান।

ফলে লাইপজিগ বিমানবন্দরের ব্যর্থ ড্রোন হামলা এখন শুধু জার্মানি ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বিরোধের বিষয় নয়; ঘটনাটি ইইউ ও ন্যাটোর নিরাপত্তা আলোচনায়ও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত চাপ আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইইউ-ন্যাটোর

আপডেট সময় : ০১:১১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ব্যর্থ ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটো। ঘটনাটিকে ইউরোপের মাটিতে রাশিয়ার ‘নতুন উত্তেজনা’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির ওপর আরও চাপ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন ইউরোপীয় নেতারা।

জার্মানি গত মাসে লাইপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে ব্যর্থ হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করার পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেন, লাইপজিগের ঘটনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাটিতে রাশিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততায় সংঘটিত ‘নতুন উত্তেজনা’র সূচনা করেছে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার বেপরোয়া আচরণের দ্রুত ও কার্যকর জবাব দিতে ইউরোপকে আরও কঠোর হতে হবে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জার্মানির প্রতি জোটের ‘পূর্ণ সংহতি’ প্রকাশ করে বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে মিত্ররা ঐক্যবদ্ধ।

৪ আগস্ট বিস্ফোরকবাহী একটি ড্রোন ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে জার্মানির অভিযোগ অবশ্য রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে। জার্মান কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনটি লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে একটি ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানের কাছে পাওয়া যায় এবং পরে রোবটের সাহায্যে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে মোট তিনটি ড্রোনের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। বিমানবন্দরটি ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ একটি লজিস্টিক কেন্দ্র এবং ইউক্রেনের আন্তোনভ পরিবহন বিমানগুলোও নিয়মিত এটি ব্যবহার করে।

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট বলেছেন, পুলিশের তদন্ত, অপরাধের ধরন এবং গোয়েন্দা তথ্য একত্রে রাশিয়ার সম্পৃক্ততার দিকে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে। জার্মান সরকারের মতে, ড্রোনটির গঠন, যন্ত্রাংশ, বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর রাশিয়ার আগের ‘হাইব্রিড অভিযান’-এর সঙ্গে মিল রয়েছে।

লাইপজিগ হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জার্মানি। তাদের মধ্যে একজন বেলারুশীয় নাগরিক, যার কাছে রুশ পাসপোর্ট ছিল। অপরজনের কাছে লাতভিয়ান ও রুশ পাসপোর্ট রয়েছে বলে জানা গেছে।

রাশিয়ার কনস্যুলেট ও রাশিয়ান হাউস বন্ধ করছে জার্মানি
লাইপজিগ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জার্মানি বন শহরের রুশ কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে বার্লিনের রাশিয়ান হাউস সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কার্যক্রমও বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জার্মান কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে ক্রেমলিনের প্রচার ও প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বলেছেন, বার্লিন রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা এবং রুশ নাগরিকদের ওপর ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপের জন্য ইইউর মধ্যে চাপ দেবে।

একই সঙ্গে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাবে জার্মানি। রাশিয়া জার্মানির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জার্মানির পদক্ষেপকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, বার্লিনের দাবির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। মস্কোও জার্মানির বিরুদ্ধে ‘প্রতিবিম্বিত’ বা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো বার্লিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে তিনি বলেছেন, আপাতত মস্কো কূটনীতিকে সুযোগ দিতে চায়।

ইইউ-ন্যাটোর কঠোর বার্তা
ইউরোপীয় কমিশন ও ন্যাটোর নেতারা লাইপজিগের ঘটনাকে ইউরোপীয় ভূখণ্ডে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ‘হাইব্রিড’ তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখছেন।

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, রাশিয়ার দায়বদ্ধতার বিষয়ে প্রমাণ স্পষ্ট এবং ইউরোপকে ভয় দেখিয়ে বা বিভক্ত করে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন দুর্বল করার চেষ্টা ব্যর্থ হবে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাসও বলেছেন, লাইপজিগের ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তিনি রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা এবং রুশ নাগরিকদের ভিসা ও প্রবেশাধিকার আরও কঠোর করার বিষয়ে ইইউ দেশগুলোর আলোচনার কথা জানান।

ফলে লাইপজিগ বিমানবন্দরের ব্যর্থ ড্রোন হামলা এখন শুধু জার্মানি ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বিরোধের বিষয় নয়; ঘটনাটি ইইউ ও ন্যাটোর নিরাপত্তা আলোচনায়ও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত চাপ আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।