এক ছাদের নিচে হাজার শয্যার চিকিৎসানগরী
- আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
অসুস্থ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে বাধ্য হন বাংলাদেশের বহু মানুষ। বিশেষ করে জটিল রোগ, অস্ত্রোপচার কিংবা বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
সেই বাস্তবতা বদলের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নির্মাণ করা হবে ‘বসুন্ধরা মেডিকেল সিটি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল’। একটি হাসপাতাল নয়, পুরো একটি সমন্বিত চিকিৎসানগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ১ হাজার শয্যার হাসপাতালের পাশাপাশি থাকবে ২৫টি ক্লিনিক্যাল বিভাগ, ১১টি বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও ২৬টি অপারেশন থিয়েটার, উন্নত ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জেনেটিক ও মলিকুলার ল্যাবরেটরি, ল্যাপারোস্কোপিক ও রোবোটিক সার্জারির মতো আধুনিক সুবিধাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে শুরু হয়েছে প্রকল্পটির ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, শেয়ার বুকিং মেলা ও বিভিন্ন আয়োজন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে বিশেষ শেয়ার বুকিং কার্যক্রম।
মেলার উদ্বোধন করেন তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত মেলায় কথা হয় কয়েকজন দর্শনার্থীর সঙ্গে।
তাদের কেউ প্রকল্পের চিকিৎসা সুবিধা জানতে চাইছেন, কেউ দেখছেন বিনিয়োগের সুযোগ। আবার কারও আগ্রহ ভবিষ্যতে নিজের ও পরিবারের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।
দর্শনার্থীদের একজন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বড় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয়। এখানে যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সব ধরনের চিকিৎসা এক জায়গায় পাওয়া যায়, তাহলে রোগীদের জন্য অনেক সুবিধা হবে।
আরেক দর্শনার্থী সাবিনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে চিন্তিত। মেলায় এসে তিনি প্রকল্পের চিকিৎসাসেবা ও শেয়ার বুকিং সম্পর্কে খোঁজ নেন। তিনি বলেন, হাসপাতালটি হলে ভবিষ্যতে কী ধরনের সেবা পাওয়া যাবে, সেটাই আগে জানতে চেয়েছি। বিনিয়োগের বিষয়টিও দেখছি।
ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মূলত বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে জানতে মেলায় এসেছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা এমন একটি খাত, যার প্রয়োজন সব সময় থাকবে। তাই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়েছি।
শুধু হাসপাতাল নয়, ‘স্মার্ট’ চিকিৎসাব্যবস্থা
প্রকল্পটির পরিকল্পনায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক আইটি ব্যবস্থার সমন্বয়ে হাসপাতালটিকে ‘স্মার্ট হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও রোগীসেবার বিভিন্ন ধাপে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্য নিয়ে হাসপাতালটিকে ‘গ্রিন হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে দক্ষ চিকিৎসক দল, প্রশিক্ষিত নার্স ও ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির ভাবনায় চিকিৎসার সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণাকেও যুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
মেলা আয়োজকদের একজন ওমর ফারুক শাওন বলেন, বসুন্ধরা মেডিকেল সিটির জন্য আজকের দিনটি শুধু বসুন্ধরা নয়, দেশের স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সেই প্রয়োজনকে সামনে রেখে বসুন্ধরা মেডিকেল সিটি উচ্চমানের শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, গবেষণা ও বিশ্বমানের রোগীসেবায় নতুন মানদণ্ড স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো, সর্বাধুনিক রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে প্রকল্পটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন, সম্ভাবনা তৈরি হবে, তেমনি দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবার চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
বিদেশমুখী চিকিৎসা কমানোর লক্ষ্য
জটিল চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বাংলাদেশের অনেক রোগী ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে যান। এতে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি দেশের বাইরে চলে যায় বড় অঙ্কের অর্থ।
বসুন্ধরা মেডিকেল সিটির পরিকল্পনায় তাই মেডিকেল ট্যুরিজমের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। দেশে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তুলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে প্রকল্পটির।
ওমর ফারুক শাওন বলেন, ১ হাজার শয্যার এই হাসপাতাল বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে। এখানে বিশেষায়িত সেন্টার অব এক্সিলেন্স, আধুনিক অটোমেশন এবং চিকিৎসা পর্যটনের সুযোগ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ শুধু আর্থিক বিনিয়োগ নয়; এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যতের প্রতি একটি কৌশলগত আস্থা।
শেয়ার বুকিং মেলা চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
বসুন্ধরা মেডিকেল সিটি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল প্রকল্প ঘিরে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজন চলছে।
মেলায় প্রকল্পের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, বিশেষ ছাড়ে শেয়ার বিক্রি, র্যাফেল ড্র ও পুরস্কারের আয়োজন রয়েছে। তবে বড় অবকাঠামো তৈরি করাই শেষ কথা নয়। প্রকল্পটির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর চিকিৎসাসেবায় রূপ নেয় তার ওপর। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বড় হাসপাতালের পাশাপাশি রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসার মান, দক্ষ জনবল, সেবার স্বচ্ছতা, খরচের সামর্থ্য ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তারপরও ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল, ২৫টি ক্লিনিক্যাল বিভাগ, ১১টি বিশেষায়িত কেন্দ্র ও ২৬টি অপারেশন থিয়েটারকে ঘিরে যে পরিকল্পনা সামনে এসেছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের একটি অবকাঠামোগত সংযোজন হতে পারে।
এক ছাদের নিচে রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে জটিল অস্ত্রোপচার, চিকিৎসা-পরবর্তী সেবা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ, সবকিছুকে এক কাঠামোর মধ্যে আনার যে স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, সেটিই বসুন্ধরা মেডিকেল সিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।























অপসংস্কৃতির প্রভাবে দেশে ‘মব সন্ত্রাস’ প্রচলিত হয়েছে: জামায়াত আমির