পর্যটনের জমজমাট নগরে বিনোদনবঞ্চিত রাঙামাটির বাসিন্দারা
- আপডেট সময় : ১১:২৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 8
পাহাড় আর কাপ্তাই লেকের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে বছরজুড়েই রাঙামাটিতে ভিড় জমান হাজারো পর্যটক। দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের হাঁকডাক ও কোলাহলে মুখর থাকে পর্যটন নগরের অলিগলি। তবে পর্যটকদের আনন্দের খোরাক জোগানো এই শহরের স্থায়ী বাসিন্দাদের ছুটির বিকেল কাটছে অনেকটা একঘেয়েমি ও বিনোদনহীনতায়।
৬ হাজার ১১৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাঙামাটিতে প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাস। জেলায় রয়েছে শতাধিক পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব পর্যটনকেন্দ্রের অধিকাংশই পর্যটকনির্ভর হওয়ায় সেখানে পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানোর সুযোগ কম।
স্থানীয়রা জানান, শহরের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ছুটির দিন ও বিকেলগুলোতে পর্যটকদের ভিড় থাকে। একই সঙ্গে অনেক স্থানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও প্রবেশমূল্যের কারণে স্থানীয়রা সেখানে নিয়মিত যেতে পারেন না। ফলে বিকেলে অবসর কাটাতে তারা লেক ভিউ গার্ডেন, পলওয়েল পার্ক কিংবা আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়কের লেকপাড়ের তুলনামূলক নিরিবিলি জায়গাগুলো বেছে নেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সীমা ত্রিপুরা বলেন, ‘বাসায় থাকতে থাকতে মন খারাপ হয়ে যায়। তখন বাইরে বের হতে ইচ্ছে করলেও কোথায় যাব, সেটি ভাবতে ভাবতেই আর বের হওয়া হয় না। স্থানীয়দের ঘোরাফেরা কিংবা শিশুদের জন্য তেমন জায়গা নেই। যা আছে, সেগুলোর পরিবেশও সব সময় উপযোগী নয়।’
আরেক অভিভাবক মো. ইসহাস হোসেন বলেন, শহরে উন্মুক্ত খোলা জায়গা নেই। অনেক জায়গায় টিকিটের ব্যবস্থা থাকায় সেখানে বসে অবসর কাটানোর সুযোগ কম। আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়কের কিছু জায়গায় নিরিবিলি পরিবেশ থাকলেও সন্ধ্যার পর সেখানে বেশিক্ষণ থাকা যায় না। শহরবাসীর জন্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
নগরের বয়োজ্যেষ্ঠ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে রাঙামাটিতে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত বিনোদনের জায়গা কমে আসছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশু-কিশোর ও তরুণদের ওপর। পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও উন্মুক্ত স্থান না থাকায় শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। তরুণদের একটি অংশও মোবাইল গেম ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল হক বলেন, পূর্ণাঙ্গ পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে হলে শুধু পর্যটকদের কথা ভাবলে হবে না, স্থানীয় বাসিন্দাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বিনোদনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয়দের জন্য আলাদা পার্ক, গণপাঠাগার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও উন্মুক্ত কমিউনিটি স্পেস তৈরি করা জরুরি।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নয়ন কোনও শহরকে টেকসই করে তুলতে পারে না। পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনোদন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে পর্যটন নগরী হিসেবে রাঙামাটির আকর্ষণ যেমন বাড়বে, তেমনি বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।
বিষয়টি স্বীকার করে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, জেলা প্রশাসনের আওতাধীন পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার সরাসরি এসবের দায়িত্ব নিলে পর্যটন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সুযোগ-সুবিধাও আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার বলেন, রাঙামাটিকে শুধু পর্যটকদের কেন্দ্র হিসেবে নয়, স্থানীয় অধিবাসীদের বসবাসের উপযোগী ও আনন্দদায়ক শহর হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে জেলা পরিষদ নতুন কিছু বিনোদনমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। দ্রুতই শহরবাসী এসব সুবিধা ভোগ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


























অপসংস্কৃতির প্রভাবে দেশে ‘মব সন্ত্রাস’ প্রচলিত হয়েছে: জামায়াত আমির