ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯৩০তম গোলেও নেই মেসির জয়ের হাসি

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3

বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক। বলের সামনে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি! এমন পরিস্থিতিতে কী হতে পারে, তার উত্তর ফুটবলপ্রেমীরা বহুবার পেয়েছেন। সান ডিয়েগো এফসির বিপক্ষেও ব্যতিক্রম হলো না। বাঁ পায়ের নিখুঁত বাঁকানো শটে বল জালে জড়াল, মেসি ছুঁলেন ক্যারিয়ারের ৯৩০তম গোলের মাইলফলক! কিন্তু ব্যক্তিগত এই সাফল্যের রাতেও দলীয়ভাবে স্বস্তি পেল না ইন্টার মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র করেছে মায়ামি।

রোববারের ম্যাচে অবশ্য শুরুটা হয়েছিল মায়ামির বিপক্ষে। ১২ মিনিটেই সান ডিয়েগোকে এগিয়ে দেন ডেনিশ ফরোয়ার্ড আ্যান্ডার্স ড্রেয়ার। তবে এক যুগের অভিজ্ঞতার মতোই দ্রুত জবাব দেন মেসি। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে বক্সের সামান্য বাইরে ফ্রি-কিক পায় মায়ামি। মেসির বাঁ পায়ের শটটি দেয়াল কিংবা কোনো খেলোয়াড়কে স্পর্শ না করে ছুটে যায় দূরের পোস্টের দিকে। গোলরক্ষক সিজে দস সান্তোস ঝাঁপিয়েও শেষ পর্যন্ত বলের গতিপথ বদলাতে পারেননি।

গোলটি মেসির জন্য ছিল একাধিক অর্থে বিশেষ। এটি চলতি এমএলএস মৌসুমে তার ২০তম গোল, আর ক্যারিয়ারের ৭৫তম ফ্রি-কিক গোল। কয়েক দিন আগেই ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে ক্যাম্পিওনেস কাপের ফাইনালে মায়ামির জার্সিতে ১০০তম গোল পূর্ণ করেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। সান ডিয়েগোর বিপক্ষে আরেকটি গোল যোগ হওয়ায় ক্লাবটির হয়ে তার গোলসংখ্যা এখন ১০১!

শুধু গোল করেই অবশ্য থামছেন না মেসি। চলতি এমএলএস মৌসুমে ২২ ম্যাচে তার অ্যাসিস্ট ১১টি। গোল ও সহায়তা মিলিয়ে টানা আট ম্যাচে মায়ামির আক্রমণে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। টানা তিন ম্যাচে গোলও পেয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে এমন ধারাবাহিকতার মাঝেও দলীয় ফলাফলটা রাতকে পুরোপুরি আনন্দের করে তুলতে পারেনি।

মেসির গোলে সমতায় ফেরার পর প্রথমার্ধ আর কোনো গোল দেখেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ৭৪ মিনিটে মায়ামিকে এগিয়ে দেন লুইস সুয়ারেজ। মনে হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত মেসিদের হাতেই উঠতে যাচ্ছে তিন পয়েন্ট। কিন্তু সেই অপেক্ষা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৮২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সান ডিয়েগোকে আবার সমতায় ফেরান ড্রেয়ার।

শেষ দিকে জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন মেসি। ম্যাচের শেষ ছয় মিনিটে তিনটি শট নেন তিনি। জয়সূচক গোলের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সান ডিয়েগোর গোলরক্ষক দস সান্তোসের দৃঢ়তায় আর সফল হতে পারেননি। ২-২ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।

এই ড্রয়ের ফলে এমএলএসে টানা চার ম্যাচ জয়হীন থাকল ইন্টার মায়ামি। ২৬ ম্যাচে ১২ জয়, ১০ ড্র ও ৪ হারে তাদের পয়েন্ট ৪৬। ইস্টার্ন কনফারেন্সে তারা আছে তৃতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে ব্যবধান ১১ পয়েন্ট। নিয়মিত মৌসুমে মায়ামির হাতে এখনো আট ম্যাচ রয়েছে।

মেসির সামনে তাই ব্যক্তিগত মাইলফলক পেরোনোর ধারাবাহিকতা থাকলেও মায়ামির সামনে এখন বড় প্রশ্ন দলীয় ছন্দ ফেরানো। পরবর্তী এমএলএস ম্যাচে ২৭ সেপ্টেম্বর কলম্বাস ক্রুর মুখোমুখি হবে তারা!

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৯৩০তম গোলেও নেই মেসির জয়ের হাসি

আপডেট সময় : ১২:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক। বলের সামনে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি! এমন পরিস্থিতিতে কী হতে পারে, তার উত্তর ফুটবলপ্রেমীরা বহুবার পেয়েছেন। সান ডিয়েগো এফসির বিপক্ষেও ব্যতিক্রম হলো না। বাঁ পায়ের নিখুঁত বাঁকানো শটে বল জালে জড়াল, মেসি ছুঁলেন ক্যারিয়ারের ৯৩০তম গোলের মাইলফলক! কিন্তু ব্যক্তিগত এই সাফল্যের রাতেও দলীয়ভাবে স্বস্তি পেল না ইন্টার মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র করেছে মায়ামি।

রোববারের ম্যাচে অবশ্য শুরুটা হয়েছিল মায়ামির বিপক্ষে। ১২ মিনিটেই সান ডিয়েগোকে এগিয়ে দেন ডেনিশ ফরোয়ার্ড আ্যান্ডার্স ড্রেয়ার। তবে এক যুগের অভিজ্ঞতার মতোই দ্রুত জবাব দেন মেসি। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে বক্সের সামান্য বাইরে ফ্রি-কিক পায় মায়ামি। মেসির বাঁ পায়ের শটটি দেয়াল কিংবা কোনো খেলোয়াড়কে স্পর্শ না করে ছুটে যায় দূরের পোস্টের দিকে। গোলরক্ষক সিজে দস সান্তোস ঝাঁপিয়েও শেষ পর্যন্ত বলের গতিপথ বদলাতে পারেননি।

গোলটি মেসির জন্য ছিল একাধিক অর্থে বিশেষ। এটি চলতি এমএলএস মৌসুমে তার ২০তম গোল, আর ক্যারিয়ারের ৭৫তম ফ্রি-কিক গোল। কয়েক দিন আগেই ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে ক্যাম্পিওনেস কাপের ফাইনালে মায়ামির জার্সিতে ১০০তম গোল পূর্ণ করেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। সান ডিয়েগোর বিপক্ষে আরেকটি গোল যোগ হওয়ায় ক্লাবটির হয়ে তার গোলসংখ্যা এখন ১০১!

শুধু গোল করেই অবশ্য থামছেন না মেসি। চলতি এমএলএস মৌসুমে ২২ ম্যাচে তার অ্যাসিস্ট ১১টি। গোল ও সহায়তা মিলিয়ে টানা আট ম্যাচে মায়ামির আক্রমণে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। টানা তিন ম্যাচে গোলও পেয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে এমন ধারাবাহিকতার মাঝেও দলীয় ফলাফলটা রাতকে পুরোপুরি আনন্দের করে তুলতে পারেনি।

মেসির গোলে সমতায় ফেরার পর প্রথমার্ধ আর কোনো গোল দেখেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ৭৪ মিনিটে মায়ামিকে এগিয়ে দেন লুইস সুয়ারেজ। মনে হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত মেসিদের হাতেই উঠতে যাচ্ছে তিন পয়েন্ট। কিন্তু সেই অপেক্ষা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৮২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সান ডিয়েগোকে আবার সমতায় ফেরান ড্রেয়ার।

শেষ দিকে জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন মেসি। ম্যাচের শেষ ছয় মিনিটে তিনটি শট নেন তিনি। জয়সূচক গোলের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সান ডিয়েগোর গোলরক্ষক দস সান্তোসের দৃঢ়তায় আর সফল হতে পারেননি। ২-২ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।

এই ড্রয়ের ফলে এমএলএসে টানা চার ম্যাচ জয়হীন থাকল ইন্টার মায়ামি। ২৬ ম্যাচে ১২ জয়, ১০ ড্র ও ৪ হারে তাদের পয়েন্ট ৪৬। ইস্টার্ন কনফারেন্সে তারা আছে তৃতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে ব্যবধান ১১ পয়েন্ট। নিয়মিত মৌসুমে মায়ামির হাতে এখনো আট ম্যাচ রয়েছে।

মেসির সামনে তাই ব্যক্তিগত মাইলফলক পেরোনোর ধারাবাহিকতা থাকলেও মায়ামির সামনে এখন বড় প্রশ্ন দলীয় ছন্দ ফেরানো। পরবর্তী এমএলএস ম্যাচে ২৭ সেপ্টেম্বর কলম্বাস ক্রুর মুখোমুখি হবে তারা!