গ্যাস-জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি কমতে শুরু করেছে: ডা. জাহেদ
- আপডেট সময় : ০৩:২৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7
গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি কমে আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনা সরকারের শেষ সময়ে বা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জ্বালানির যে অবস্থা ছিলো, সেই জায়গায় আমরা এখনই পৌঁছে গেছি, এর জন্য আরও সময় লাগবে না। জ্বালানিমন্ত্রী ২ বছর সময়ের কথা বলেছেন, যাতে আমরা আরও ভালো করতে পারি।’
আজ (মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে ১৫০টি কুপ খননের মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬টি নতুন কূপ খনন, ৮টি বন্ধ কূপ সচলের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘটফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করার ৫টি প্রকল্প চলমান আছে। এছাড়া আরও ৯টি নতুন কূপ খনন, ১২টি বিদ্যমান কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে বলে আশা করা যায়। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ হতে ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন অ্যাকটিভিস্ট হিসেবেও জ্বালানি নিয়ে কথা বলতাম, তখন এই আলাপটা করতাম যে, আমাদের দেশেই প্রচুর গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেটা আমরা এক্সপ্লোর না করে আমদানি নির্ভরতার দিকে গিয়েছিলাম। আপনারা জানেন, নতুন গ্যাসফিল্ড খোঁজার জন্য জরিপ চালাতে হয়। সেই জরিপের কাজ চলমান। অর্থাৎ নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে।’
তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জনগণের কষ্ট হচ্ছে। জনগণের কাছে সহনশীলতা চাই। কারণ কত ভর্তুকি সরকারের পক্ষে দেয়া সম্ভব?’ প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হলে বছরে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমতে পারে।
গ্যাস সংকটের কারণে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এ কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির চাপ দ্রুত বাড়ছে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু অর্থবছরের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই এর প্রায় অর্ধেক অর্থ দেয়া হয়েছে। একই হারে ভর্তুকি দিতে থাকলে অর্থবছর শেষে এই ব্যয় সোয়া এক লাখ থেকে দেড় লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি খাতে এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেয়ার পরিস্থিতিতে সরকারের অন্যান্য ব্যয়ও ভারসাম্যের মধ্যে রাখতে হচ্ছে।
জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই নেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘১০-১১ বছর হলো তাদের বেতন স্কেল রিভাইজড হয়নি। যে কারণে এটিও সরকারের একটি প্রায়োরিটি।’ তবে একসঙ্গে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন না করে সরকার ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করছে।
দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আগস্ট মাসে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে কেটে গেছে। সংকটের আগে দেশে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ ছিল, বর্তমানে পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে গ্যাসের আমদানি নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে সরকার।
সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য একটি ডাটাবেইজ তৈরির কাজ চলছে। ধাপে ধাপে সবাইকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে। বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মনোযোগ কমে যাচ্ছে। জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করবেন।
এ ছাড়া ওয়াল স্ট্রিট ও মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের বোয়িং কেনার প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, এটি একটি প্রকাশিত তথ্য এবং এ ধরনের একটি চুক্তি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রীর সানফ্রান্সিসকো সফর নিয়ে তিনি বলেন, সেখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কোনো অনুষ্ঠান ছিল না। দলীয় বা অন্য একটি কর্মসূচি ছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন। কম সময়ের সফর হলে ব্যয় সাশ্রয় হয়। একই সঙ্গে দেশ বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর দেশে থাকা আপাতত বেশি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত বলে সরকার মনে করেছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এ মুহূর্তে কোনো রাজনৈতিক সংকট দেখছে না সরকার। বিরোধীদল লংমার্চ করছে, এক দফাও দিয়ে দিচ্ছে। এই সরকার ৫ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছে ও থাকবে, বিরোধীদলকে তা মেনে নিয়েই রাজনীতি করা উচিত। আওয়ামী লীগ কয়েকটা ককটেল বিস্ফোরণ করে কোনো সংকট তৈরি করতে পারবে বলে মনে করি না।’





















১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ