ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলগামী বিমান ‘ভূপাতিতের চেষ্টা করা’ পাইলটের নাম-পরিচয় প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 8

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে অন্য পাইলটকে হামলার অভিযোগে আটক হয়েছেন সহপাইলট। বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) ওই ঘটনার পর বিমানের যাত্রী ও ইসরায়েল দাবি করেছে হামলাকারী সহপাইলট বিমানটি ভূপাতিতের উদ্দেশে এ কাজ করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, ওই পাইলট ওমানের নাগরিক এবং তার নাম হামাম আল-হামামি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলাকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ‘উগ্রপন্থি’ নেতাদের ছবি ও বিভিন্ন বিতর্কিত পোস্ট পাওয়া গেছে। এর আগে তিনি ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে কাজ করতেন। ‘উগ্রপন্থি’ মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে গত বছর তাকে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর একজন জানান, আল-হামামি ওমানের নাগরিক। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওমানি এবং মা সিরীয়। জীবনের বেশ কয়েক বছর তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতেই কাটিয়েছেন। একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তাও আল-হামামির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও একই পরিচয় জানিয়েছে।

হামাম আল-হামামি নামের একটি লিংকডইন প্রোফাইলে বলা হয়েছে, তিনি সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখান থেকে চলে যান। এরপর ২০২৫ সালের জুনে রয়্যাল এয়ার মরক্কোতে যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখান থেকেও চলে যান। ওই প্রোফাইলে ফ্লাইদুবাইয়ের কথা উল্লেখ ছিল না। তবে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রোফাইলটি বুধবারের ঘটনায় জড়িত ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলটেরই। পরে প্রোফাইলটি মুছে ফেলা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন এক আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘উগ্রপন্থি’ মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আল-হামামিকে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থায় অন্য একটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘সন্দেহভাজন ওই পাইলট উগ্রপন্থি মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন।’ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আল-হামামি মাত্র আট মাস ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করেছিলেন।

এ ধরনের তথ্য বিমান সংস্থায় কর্মী নিয়োগের সময় ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে। এ বিষয়ে ওমান এয়ার, রয়্যাল এয়ার মরক্কো এবং দুবাই সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয়ের কাছে মন্তব্য চেয়েছে সিএনএন। তদন্ত চলমান থাকায় ফ্লাইদুবাই কোনো মন্তব্য করেনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকিমূলক পোস্ট
আল-হামামির লিংকডইন প্রোফাইলে মাত্র দুটি পোস্ট ছিল। বুধবারের ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টা পর অল্প সময়ের ব্যবধানে পোস্ট দুটি প্রকাশ করা হয়। পোস্টগুলো কে প্রকাশ করেছে বা এগুলো আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রথম পোস্টে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের ককপিট থেকে ধারণ করা কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ছিল। বুধবারের ঘটনায় সৌদি আরবে গতিপথ পরিবর্তন করে অবতরণ করা বিমানটিও ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স ৮।

এর একটি ভিডিও সিএনএন দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বলে শনাক্ত করেছে। সেখানে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল আলের একটি বিমানের দিকে ক্যামেরা জুম করতে দেখা যায়। ভিডিওতে ককপিটের পর্দায় ফ্লাইট নম্বর OMA624 এবং ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর তারিখ দেখা যায়। OMA624 সাধারণত দুবাই থেকে মাসকাট রুটে চলাচল করে। তারিখটি আবার ওই সময়ের সঙ্গে মিলে যায়, যখন তিনি ওমান এয়ারে কাজ করতেন।

ভিডিওর অন্য অংশে এল আলের আরও কয়েকটি বিমান এবং আরেক ইসরায়েলি বিমান সংস্থা আরকিয়ার একটি বিমানও দেখা যায়। ভিডিওর শেষে আল-কায়েদার নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির একটি ছবি দেখানো হয়। ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর তিনি আল-কায়েদার নেতৃত্ব দেন। এর সঙ্গে হামাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাউয়ির ছবিও ছিল। ২০০৯ সালে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে তিনি সাতজন মার্কিন সিআইএ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ মোট নয়জনকে হত্যা করেছিলেন এবং তিনি আল-কায়েদার প্রতি অনুগত ছিলেন।

দ্বিতীয় পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি ছিল। সেখানে ইসলামের তিন পবিত্র স্থান- মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেম একটি জ্বলজ্বলে আলোকরেখার মাধ্যমে সংযুক্ত দেখানো হয়েছে। পেছনে একটি কবিতা আবৃত্তি হচ্ছিল, যেখানে অপমান প্রত্যাখ্যান করা, মৃত্যুকে ভয় না পাওয়া এবং নিজের মর্যাদা রক্ষার কথা বলা হয়েছে।

আল-হামামির লিংকডইন প্রোফাইলে বলা হয়, তিনি ইংল্যান্ডের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সূত্র সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে, ওই নামে একজন ব্যক্তি তিন বছরের দূরশিক্ষণ কোর্স শেষ করে ২০২৩ সালে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি নিয়েছেন। দুটি ভিডিও প্রায় একই সময়ে একই নাম ও ছবি ব্যবহার করা একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও পোস্ট করা হয়েছিল। পরে সেই অ্যাকাউন্টটিও মুছে ফেলা হয়।

নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেয়া ওমানের এক নাগরিক কীভাবে ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইটের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পেলেন- এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ইসরায়েলে কঠোর বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তাকে কীভাবে নেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বুধবার সিএনএনকে জানান, শিন বেত, মোসাদ, সামরিক বাহিনী এবং পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক ইসরায়েলি সংস্থা তদন্ত করছে, কীভাবে ওই ওমানি পাইলট ফ্লাইটটির পাইলট হলেন। বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলও তদন্ত শুরু করেছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, হামলাটি কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ সঙ্গে যুক্ত কি না এবং এর আগে কোনো ‘পরিকল্পনা বা নির্দেশনা’ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওয়াম জানিয়েছে, বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিবন্ধিত হওয়ায় ঘটনাটি তদন্তের এখতিয়ার দেশটির রয়েছে। আমিরাতের আইন অনুযায়ী, দেশটির নিবন্ধিত বিমানের ভেতরে দেশের বাইরে কোনো অপরাধ ঘটলেও সেই আইনের প্রয়োগ হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলগামী বিমান ‘ভূপাতিতের চেষ্টা করা’ পাইলটের নাম-পরিচয় প্রকাশ

আপডেট সময় : ১১:৪৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে অন্য পাইলটকে হামলার অভিযোগে আটক হয়েছেন সহপাইলট। বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) ওই ঘটনার পর বিমানের যাত্রী ও ইসরায়েল দাবি করেছে হামলাকারী সহপাইলট বিমানটি ভূপাতিতের উদ্দেশে এ কাজ করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, ওই পাইলট ওমানের নাগরিক এবং তার নাম হামাম আল-হামামি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলাকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ‘উগ্রপন্থি’ নেতাদের ছবি ও বিভিন্ন বিতর্কিত পোস্ট পাওয়া গেছে। এর আগে তিনি ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে কাজ করতেন। ‘উগ্রপন্থি’ মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে গত বছর তাকে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর একজন জানান, আল-হামামি ওমানের নাগরিক। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওমানি এবং মা সিরীয়। জীবনের বেশ কয়েক বছর তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতেই কাটিয়েছেন। একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তাও আল-হামামির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও একই পরিচয় জানিয়েছে।

হামাম আল-হামামি নামের একটি লিংকডইন প্রোফাইলে বলা হয়েছে, তিনি সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখান থেকে চলে যান। এরপর ২০২৫ সালের জুনে রয়্যাল এয়ার মরক্কোতে যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখান থেকেও চলে যান। ওই প্রোফাইলে ফ্লাইদুবাইয়ের কথা উল্লেখ ছিল না। তবে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রোফাইলটি বুধবারের ঘটনায় জড়িত ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলটেরই। পরে প্রোফাইলটি মুছে ফেলা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন এক আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘উগ্রপন্থি’ মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আল-হামামিকে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থায় অন্য একটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘সন্দেহভাজন ওই পাইলট উগ্রপন্থি মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন।’ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আল-হামামি মাত্র আট মাস ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করেছিলেন।

এ ধরনের তথ্য বিমান সংস্থায় কর্মী নিয়োগের সময় ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে। এ বিষয়ে ওমান এয়ার, রয়্যাল এয়ার মরক্কো এবং দুবাই সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয়ের কাছে মন্তব্য চেয়েছে সিএনএন। তদন্ত চলমান থাকায় ফ্লাইদুবাই কোনো মন্তব্য করেনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকিমূলক পোস্ট
আল-হামামির লিংকডইন প্রোফাইলে মাত্র দুটি পোস্ট ছিল। বুধবারের ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টা পর অল্প সময়ের ব্যবধানে পোস্ট দুটি প্রকাশ করা হয়। পোস্টগুলো কে প্রকাশ করেছে বা এগুলো আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রথম পোস্টে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের ককপিট থেকে ধারণ করা কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ছিল। বুধবারের ঘটনায় সৌদি আরবে গতিপথ পরিবর্তন করে অবতরণ করা বিমানটিও ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স ৮।

এর একটি ভিডিও সিএনএন দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বলে শনাক্ত করেছে। সেখানে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল আলের একটি বিমানের দিকে ক্যামেরা জুম করতে দেখা যায়। ভিডিওতে ককপিটের পর্দায় ফ্লাইট নম্বর OMA624 এবং ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর তারিখ দেখা যায়। OMA624 সাধারণত দুবাই থেকে মাসকাট রুটে চলাচল করে। তারিখটি আবার ওই সময়ের সঙ্গে মিলে যায়, যখন তিনি ওমান এয়ারে কাজ করতেন।

ভিডিওর অন্য অংশে এল আলের আরও কয়েকটি বিমান এবং আরেক ইসরায়েলি বিমান সংস্থা আরকিয়ার একটি বিমানও দেখা যায়। ভিডিওর শেষে আল-কায়েদার নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির একটি ছবি দেখানো হয়। ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর তিনি আল-কায়েদার নেতৃত্ব দেন। এর সঙ্গে হামাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাউয়ির ছবিও ছিল। ২০০৯ সালে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে তিনি সাতজন মার্কিন সিআইএ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ মোট নয়জনকে হত্যা করেছিলেন এবং তিনি আল-কায়েদার প্রতি অনুগত ছিলেন।

দ্বিতীয় পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি ছিল। সেখানে ইসলামের তিন পবিত্র স্থান- মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেম একটি জ্বলজ্বলে আলোকরেখার মাধ্যমে সংযুক্ত দেখানো হয়েছে। পেছনে একটি কবিতা আবৃত্তি হচ্ছিল, যেখানে অপমান প্রত্যাখ্যান করা, মৃত্যুকে ভয় না পাওয়া এবং নিজের মর্যাদা রক্ষার কথা বলা হয়েছে।

আল-হামামির লিংকডইন প্রোফাইলে বলা হয়, তিনি ইংল্যান্ডের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সূত্র সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে, ওই নামে একজন ব্যক্তি তিন বছরের দূরশিক্ষণ কোর্স শেষ করে ২০২৩ সালে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি নিয়েছেন। দুটি ভিডিও প্রায় একই সময়ে একই নাম ও ছবি ব্যবহার করা একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও পোস্ট করা হয়েছিল। পরে সেই অ্যাকাউন্টটিও মুছে ফেলা হয়।

নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেয়া ওমানের এক নাগরিক কীভাবে ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইটের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পেলেন- এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ইসরায়েলে কঠোর বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তাকে কীভাবে নেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বুধবার সিএনএনকে জানান, শিন বেত, মোসাদ, সামরিক বাহিনী এবং পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক ইসরায়েলি সংস্থা তদন্ত করছে, কীভাবে ওই ওমানি পাইলট ফ্লাইটটির পাইলট হলেন। বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলও তদন্ত শুরু করেছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, হামলাটি কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ সঙ্গে যুক্ত কি না এবং এর আগে কোনো ‘পরিকল্পনা বা নির্দেশনা’ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওয়াম জানিয়েছে, বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিবন্ধিত হওয়ায় ঘটনাটি তদন্তের এখতিয়ার দেশটির রয়েছে। আমিরাতের আইন অনুযায়ী, দেশটির নিবন্ধিত বিমানের ভেতরে দেশের বাইরে কোনো অপরাধ ঘটলেও সেই আইনের প্রয়োগ হতে পারে।