ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক দিনের রিমান্ডে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম তাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন।

এর আগে তাকে আদালতে নেওয়ার সময় নিজের হাতে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াত নেতা ও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। মাথায় দেওয়া নিরাপত্তা হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘আমার মুক্তিযুদ্ধ করে পাওয়া দেশে আমার হাতে হাতকড়া ও হেলমেট পরানো হয়েছে। সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না।’

তিনি আরও বলেন, আমি বিমানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছি। এ সময় প্রিজনভ্যানের ভেতর থেকে আঙুল তুলে পুলিশকে শাসাতেও তাকে দেখা যায়। এক সময় তিনি হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে দেন।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান আরও বলেন, জুলুম, নির্যাতন করে আমাদেরকে থামানো যাবে না। জামায়াত জনগণের জন্য লড়বে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়বে।

তিনি আরও বলেন, ভাইয়েরা, জনগণের অধিকার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। জনগণের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা জনগণের জন্য লড়ব ইনশাআল্লাহ।

এ সময় জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা আদালত অঙ্গনে শ্লোগান দেন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আখতারুজ্জামানকে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাত সোয়া ৭টার দিকে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা কাজে বাধা দেয়ার মামলায় আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মামলার তদন্তসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম বিমানবন্দর থানা পুলিশ পরিচালনা করবে।

এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং মারধরের অভিযোগে করা মামলায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুক্রবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।

এর আগে একই দিন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাপক যাত্রীচাপের কারণে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের (BG-338) লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের হুমকি দেন। একই ঘটনায় তিনি বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আখতারুজ্জামান তাকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা এবং বিমান বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন আখতারুজ্জামান।

এসব ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান এর আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তিনি একাধিকবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এক দিনের রিমান্ডে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

আপডেট সময় : ০২:৫১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম তাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন।

এর আগে তাকে আদালতে নেওয়ার সময় নিজের হাতে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াত নেতা ও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। মাথায় দেওয়া নিরাপত্তা হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘আমার মুক্তিযুদ্ধ করে পাওয়া দেশে আমার হাতে হাতকড়া ও হেলমেট পরানো হয়েছে। সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না।’

তিনি আরও বলেন, আমি বিমানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছি। এ সময় প্রিজনভ্যানের ভেতর থেকে আঙুল তুলে পুলিশকে শাসাতেও তাকে দেখা যায়। এক সময় তিনি হেলমেট ছুঁড়ে ফেলে দেন।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান আরও বলেন, জুলুম, নির্যাতন করে আমাদেরকে থামানো যাবে না। জামায়াত জনগণের জন্য লড়বে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়বে।

তিনি আরও বলেন, ভাইয়েরা, জনগণের অধিকার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। জনগণের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা জনগণের জন্য লড়ব ইনশাআল্লাহ।

এ সময় জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা আদালত অঙ্গনে শ্লোগান দেন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আখতারুজ্জামানকে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাত সোয়া ৭টার দিকে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা কাজে বাধা দেয়ার মামলায় আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মামলার তদন্তসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম বিমানবন্দর থানা পুলিশ পরিচালনা করবে।

এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং মারধরের অভিযোগে করা মামলায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুক্রবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।

এর আগে একই দিন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাপক যাত্রীচাপের কারণে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের (BG-338) লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের হুমকি দেন। একই ঘটনায় তিনি বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আখতারুজ্জামান তাকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা এবং বিমান বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন আখতারুজ্জামান।

এসব ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান এর আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তিনি একাধিকবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।