ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রোয়েশিয়ার জালে ইংল্যান্ডের ৭ গোল

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0

ভাগ্য ভালো যে, দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণের কারণে শাস্তি পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ডের কাছে তাদের একের পর এক গোল খাওয়া দেখতে হলো না দর্শকদের। উয়েফা নেশনস লিগে শনিবার রিজেকায় তাণ্ডব চালিয়েছে ইংল্যান্ড।

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখাল ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়ার ঘরের মাঠে তারা জিতেছে ৭-০ গোলে। তাদের আক্রমণভাগের শক্তি ফুটে উঠেছিল রিজেকায়। হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যাম, অ্যান্থনি গর্ডন ও বুকায়ো সাকা—সবাই গোলের দেখা পেয়েছেন।

কেইন ও সাকা দুজনেই দুটি করে গোল করেছেন এবং একটি অ্যাসিস্টও ছিল। বেলিংহ্যাম এক গোলের সঙ্গে তিনটি বানিয়ে দিয়েছেন। গর্ডন করেছেন এক গোল এবং আরেকটিতে অবদান রেখেছেন অ্যাসিস্ট করে।

বদলি নেমে মর্গান রজার্স শেষ দিকে সপ্তম গোল যোগ করেন। তাতে থমাস টুখেলের দল পেয়েছে অবিস্মরণীয় এক জয়।

এই জয়ে ইংল্যান্ড এ-৩ গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেছে। চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে বুধবার তিন পয়েন্ট পেলে মার্চের কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দেবে থ্রি লায়নরা।

২০২৫ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ক্রোট দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণের কারণে এই ম্যাচটি রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে হয়েছে। কিন্তু গ্যালারিতে ৬ হাজারের বেশি স্কুলশিক্ষার্থী দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিল। তারা দেশকে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের লজ্জা পেতে দেখল।

ইংল্যান্ড শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রথমার্ধে তারা ক্রোয়েশিয়ার ওপর ক্রমাগত চাপ তৈরি করতে থাকে। অষ্টম মিনিটে তাদের দুই তারকা খেলোয়াড়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গোলমুখ খোলে।

বেলিংহ্যামের বাড়ানো বলে কেইন ৮৮তম আন্তর্জাতিক গোল করেন। টুখেলের দল কিছুক্ষণ পর প্রায় ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলেছিল। কিন্তু লুইস হলের থ্রু বলে গর্ডন সরাসরি ডোমিনিক লিভাকোভিচের হাতে বল তুলে দেন।

২১তম মিনিটে ইংল্যান্ড ২-০ করে। ডানপ্রান্ত থেকে সাকার ক্রস ব্যাকপোস্টে খুঁজে পায় গর্ডনকে। তিনি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বেলিংহ্যামের দিকে বাড়ান, খুব কাছ থেকে জাল কাঁপান রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।

ইংল্যান্ডের অপ্রতিরোধ্য আক্রমণে আরেকটি গোলের সুযোগ এসেছিল। বেলিংহ্যাম প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু গর্ডন খুব কাছ থেকে শট নিয়েও জালের দেখা পাননি। অবশেষে ৩৯তম মিনিটে গোলের খাতায় নাম লেখান তিনি। জারেল কুয়ানসাহর ক্রসে তিন ম্যাচে তৃতীয় গোল করেন গর্ডন।

বিবর্ণ ক্রোয়েশিয়া ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল। ম্যানসিটির মাতেও কোভাচিচ তিন জনকে কাটিয়ে শট নেন। ফাঁকায় গোল করার সুযোগ পেয়েও তিনি ছয় গজ দূর থেকে বল বাইরে মারেন।

সাকাও গোলদাতার খাতায় নাম লেখেন। গর্ডন ও বেলিংহ্যাম বাঁ দিক দিয়ে বল দাওয়া-নাওয়া করেন। রিয়াল তারকার বাড়ানো পাসে সাকা বিরতির আগে স্কোর ৪-০ করেন।

পঞ্চম গোল করতে ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। একটু সময় নিয়ে সাকার সঙ্গে ওয়ান-টু পাসের পর এলিয়ট এন্ডারসনের নিচু ক্রসে কেইন স্লাইড করে জালে বল ঠেলে দেন।

ইংল্যান্ড অর্ধডজন গোল পেয়ে যায় ৬৮তম মিনিটে। জোসিপ স্তানিসিচের লক্ষ্যভ্রষ্ট পাস ছিনিয়ে নিয়ে কেইনের কাছ থেকে ফিরতি পাসে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাকা।

হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েও সাকা নষ্ট করেন। এক গজ দূর থেকে তার কোনোমতে নেওয়া শট দূরের পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়। ৮৭তম মিনিটে রজার্স গোলকিপারকে নাচিয়ে জালে বল জড়ান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ক্রোয়েশিয়ার জালে ইংল্যান্ডের ৭ গোল

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ভাগ্য ভালো যে, দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণের কারণে শাস্তি পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ডের কাছে তাদের একের পর এক গোল খাওয়া দেখতে হলো না দর্শকদের। উয়েফা নেশনস লিগে শনিবার রিজেকায় তাণ্ডব চালিয়েছে ইংল্যান্ড।

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখাল ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়ার ঘরের মাঠে তারা জিতেছে ৭-০ গোলে। তাদের আক্রমণভাগের শক্তি ফুটে উঠেছিল রিজেকায়। হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যাম, অ্যান্থনি গর্ডন ও বুকায়ো সাকা—সবাই গোলের দেখা পেয়েছেন।

কেইন ও সাকা দুজনেই দুটি করে গোল করেছেন এবং একটি অ্যাসিস্টও ছিল। বেলিংহ্যাম এক গোলের সঙ্গে তিনটি বানিয়ে দিয়েছেন। গর্ডন করেছেন এক গোল এবং আরেকটিতে অবদান রেখেছেন অ্যাসিস্ট করে।

বদলি নেমে মর্গান রজার্স শেষ দিকে সপ্তম গোল যোগ করেন। তাতে থমাস টুখেলের দল পেয়েছে অবিস্মরণীয় এক জয়।

এই জয়ে ইংল্যান্ড এ-৩ গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেছে। চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে বুধবার তিন পয়েন্ট পেলে মার্চের কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দেবে থ্রি লায়নরা।

২০২৫ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ক্রোট দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণের কারণে এই ম্যাচটি রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে হয়েছে। কিন্তু গ্যালারিতে ৬ হাজারের বেশি স্কুলশিক্ষার্থী দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিল। তারা দেশকে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের লজ্জা পেতে দেখল।

ইংল্যান্ড শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রথমার্ধে তারা ক্রোয়েশিয়ার ওপর ক্রমাগত চাপ তৈরি করতে থাকে। অষ্টম মিনিটে তাদের দুই তারকা খেলোয়াড়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গোলমুখ খোলে।

বেলিংহ্যামের বাড়ানো বলে কেইন ৮৮তম আন্তর্জাতিক গোল করেন। টুখেলের দল কিছুক্ষণ পর প্রায় ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলেছিল। কিন্তু লুইস হলের থ্রু বলে গর্ডন সরাসরি ডোমিনিক লিভাকোভিচের হাতে বল তুলে দেন।

২১তম মিনিটে ইংল্যান্ড ২-০ করে। ডানপ্রান্ত থেকে সাকার ক্রস ব্যাকপোস্টে খুঁজে পায় গর্ডনকে। তিনি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বেলিংহ্যামের দিকে বাড়ান, খুব কাছ থেকে জাল কাঁপান রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।

ইংল্যান্ডের অপ্রতিরোধ্য আক্রমণে আরেকটি গোলের সুযোগ এসেছিল। বেলিংহ্যাম প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু গর্ডন খুব কাছ থেকে শট নিয়েও জালের দেখা পাননি। অবশেষে ৩৯তম মিনিটে গোলের খাতায় নাম লেখান তিনি। জারেল কুয়ানসাহর ক্রসে তিন ম্যাচে তৃতীয় গোল করেন গর্ডন।

বিবর্ণ ক্রোয়েশিয়া ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল। ম্যানসিটির মাতেও কোভাচিচ তিন জনকে কাটিয়ে শট নেন। ফাঁকায় গোল করার সুযোগ পেয়েও তিনি ছয় গজ দূর থেকে বল বাইরে মারেন।

সাকাও গোলদাতার খাতায় নাম লেখেন। গর্ডন ও বেলিংহ্যাম বাঁ দিক দিয়ে বল দাওয়া-নাওয়া করেন। রিয়াল তারকার বাড়ানো পাসে সাকা বিরতির আগে স্কোর ৪-০ করেন।

পঞ্চম গোল করতে ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। একটু সময় নিয়ে সাকার সঙ্গে ওয়ান-টু পাসের পর এলিয়ট এন্ডারসনের নিচু ক্রসে কেইন স্লাইড করে জালে বল ঠেলে দেন।

ইংল্যান্ড অর্ধডজন গোল পেয়ে যায় ৬৮তম মিনিটে। জোসিপ স্তানিসিচের লক্ষ্যভ্রষ্ট পাস ছিনিয়ে নিয়ে কেইনের কাছ থেকে ফিরতি পাসে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাকা।

হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েও সাকা নষ্ট করেন। এক গজ দূর থেকে তার কোনোমতে নেওয়া শট দূরের পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়। ৮৭তম মিনিটে রজার্স গোলকিপারকে নাচিয়ে জালে বল জড়ান।