আবেগঘন উদযাপনের পেছনের গল্প শোনালেন আগা

- আপডেট সময় : ০১:৩১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গতকাল অসাধারণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটান সালমান আলী আগা। তবে সেঞ্চুরির চেয়েও সবার নজর কেড়েছে পাকিস্তানি এই ব্যাটারের ভিন্নধর্মী এক উদ্যাপন।
টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব হারানো এবং টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পর, সমালোচকদের উপযুক্ত জবাব দিতেই কি তিনি এমন উদ্যাপন করলেন আগা? আসলে তা নয়!
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বেশ চাপেই পড়েছিল পাকিস্তান। দল যখন ডুবতে বসেছিল, ঠিক তখনই নিজের ক্যারিয়ারের দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরি হেঁকে দলকে বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করেন সালমান আগা।
শতক হাঁকানোর পর ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে একটি বিশেষ অঙ্গভঙ্গি করেন আগা। তবে সেই উদ্যাপনের প্রকৃত অর্থ কী ছিল, তা এবার নিজেই খোলসা করেছেন সালমান।
আগার এই উদ্যাপনটি আসলে ছিল তাঁর ছোট্ট ছেলের জন্য। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘কারো উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়ার কিংবা অন্যকে ভুল প্রমাণ করার মতো সময় আমার নেই। আমি ক্রিকেট ভালোবাসি, ব্যাটিং করতে ভালোবাসি আর পাকিস্তানের হয়ে খেলাটা উপভোগ করি।’
আগা আরও জানান, তাঁর ছেলে টিভিতে খেলা দেখার সময় ঠিক এভাবেই হাত নেড়ে আনন্দ প্রকাশ করে, আর তাই তিনিও ছেলের মতো করে উদ্যাপন করার সিদ্ধান্ত নেন।
৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার আগা ৯০ বলে ১০৭ রানের মারকুটে এক ইনিংস খেলেন, অসধারণ এই ইনিংস সাজিয়েছেন ১০টি চার ও ১টি ছক্কায়। রাওয়ালপিন্ডিতে তাঁর এই ইনিংসের ওপর ভর করেই ৩০৫ রান তোলে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়ে জয় তুলে নেয়। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি ছিল তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি, যা মাত্র ৮২ বল খেলে অর্জন করায় এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের দ্রুততম ওয়ানডে শতক।
সাম্প্রতিক কঠিন সময় পার করার পর আগার ব্যাট থেকে এলো এই দারুণ ইনিংসটি। এর আগে তাঁর কাছ থেকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং ইংল্যান্ড সফরের সময় বাদ পড়েছিলেন টেস্ট দল থেকেও।
এরপর সেখান থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে এসে প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে অপরাজিত ৩০০ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস উপহার দিয়ে জাতীয় দলে নিজের ফেরার পথ সুগম করেন।
এই সুযোগে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব তুলে ধরে সোচ্চার হন সালমান আলী আগা। তিনি বলেন, ঘরোয়া পর্যায়ের পারফরম্যান্সকেও সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।
ঘরোয়া ক্রিকেটে রান সংগ্রাহকদের স্বীকৃতি দেওয়া কতটা জরুরি, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান যে, ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতে রান করা একেবারেই সহজ কাজ নয়। আর তাই যারা সেখানে ভালো পারফর্ম করেন, তাঁদের যথাযথ কৃতিত্ব পাওয়া উচিত।
আগা বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন সময় এসেছে ঘরোয়া ক্রিকেটকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার।’


























