ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাপে নেতানিয়াহু, নির্বাচনের জরিপে এগিয়ে বিরোধী নেতা আইজেনকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

ইসরায়েলের আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর চেয়ে সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী রাজনীতিক গাদি আইজেনকটকে বেশি যোগ্য মনে করছেন দেশটির নাগরিকেরা। এমনকি নির্বাচনে তার দল ইয়াশারও সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে জরিপে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, আগামী ২৭ অক্টোবর সংসদ ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর চেয়ে ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন বিরোধী রাজনীতিক আইজেনকট।

চ্যানেল টুয়েলভের জরিপ অনুযায়ী, ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকট বেশি উপযুক্ত। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩ শতাংশ। আগের জরিপে এই দুজনের মধ্যে ব্যবধান ছিল ১০ শতাংশ পয়েন্ট। নতুন জরিপে তা বেড়ে ১২ শতাংশ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি। এমন সময়ে প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকটের দল ইয়াশার ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

জরিপে ইয়াশারের আসনসংখ্যা ২৪ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেতে পারে ২১টি আসন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল টুগেদার পেতে পারে ১৪টি আসন। আর ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস এবং আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট—দুটি দলই পেতে পারে ৯টি করে আসন।

আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু পার্টি, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের দল শাস এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দল জিউইশ পাওয়ার আটটি করে আসন পেতে পারে বলে জরিপে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর বিরোধী ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৫৫টি আসন পেতে পারে। আগের জরিপের তুলনায় এটি দুই আসন বেশি। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট পেতে পারে ৫১টি আসন।

এছাড়া আরব দল দুটি পেতে পারে আরও ১৪টি আসন। সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৬৯টিতে। তবে ভবিষ্যতে সরকার গঠনের কোনো জোটে এই দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে জরিপের আরেকটি প্রশ্নে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনেটও। তাকে বেশি উপযুক্ত মনে করেন ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা। নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ। আর ২২ শতাংশ মনে করেন, তাদের কেউই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপযুক্ত নন।

নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানানোর প্রভাবও জরিপে যাচাই করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলি বলেছেন, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন তাদের ভোট দেয়ার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

অন্যদিকে ১৭ শতাংশ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে লিকুদ পার্টিকে তাদের ভোট দেয়ার সম্ভাবনা কমেছে। তবে মাত্র ১২ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর দলের প্রতি তাদের সমর্থন আরও বাড়িয়েছে।

এর আগে গত রোববার নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান ট্রাম্প। এ সময় তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থানের ক্ষেত্রে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চাপে নেতানিয়াহু, নির্বাচনের জরিপে এগিয়ে বিরোধী নেতা আইজেনকট

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর চেয়ে সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী রাজনীতিক গাদি আইজেনকটকে বেশি যোগ্য মনে করছেন দেশটির নাগরিকেরা। এমনকি নির্বাচনে তার দল ইয়াশারও সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে জরিপে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, আগামী ২৭ অক্টোবর সংসদ ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর চেয়ে ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন বিরোধী রাজনীতিক আইজেনকট।

চ্যানেল টুয়েলভের জরিপ অনুযায়ী, ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকট বেশি উপযুক্ত। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩ শতাংশ। আগের জরিপে এই দুজনের মধ্যে ব্যবধান ছিল ১০ শতাংশ পয়েন্ট। নতুন জরিপে তা বেড়ে ১২ শতাংশ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি। এমন সময়ে প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকটের দল ইয়াশার ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

জরিপে ইয়াশারের আসনসংখ্যা ২৪ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেতে পারে ২১টি আসন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল টুগেদার পেতে পারে ১৪টি আসন। আর ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস এবং আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট—দুটি দলই পেতে পারে ৯টি করে আসন।

আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু পার্টি, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের দল শাস এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দল জিউইশ পাওয়ার আটটি করে আসন পেতে পারে বলে জরিপে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর বিরোধী ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৫৫টি আসন পেতে পারে। আগের জরিপের তুলনায় এটি দুই আসন বেশি। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট পেতে পারে ৫১টি আসন।

এছাড়া আরব দল দুটি পেতে পারে আরও ১৪টি আসন। সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৬৯টিতে। তবে ভবিষ্যতে সরকার গঠনের কোনো জোটে এই দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে জরিপের আরেকটি প্রশ্নে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনেটও। তাকে বেশি উপযুক্ত মনে করেন ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা। নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ। আর ২২ শতাংশ মনে করেন, তাদের কেউই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপযুক্ত নন।

নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানানোর প্রভাবও জরিপে যাচাই করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলি বলেছেন, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন তাদের ভোট দেয়ার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

অন্যদিকে ১৭ শতাংশ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে লিকুদ পার্টিকে তাদের ভোট দেয়ার সম্ভাবনা কমেছে। তবে মাত্র ১২ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর দলের প্রতি তাদের সমর্থন আরও বাড়িয়েছে।

এর আগে গত রোববার নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান ট্রাম্প। এ সময় তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থানের ক্ষেত্রে।