ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী বছরও চড়া থাকবে জ্বালানি তেলের বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 2

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও পরিবহন ঝুঁকির প্রভাবে বছরের শেষ দিকে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৫ ডলারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস।

শুধু চলতি বছর নয়, আগামী বছরও বিশ্ববাজারে তেলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকার আশঙ্কা করছে ব্যাংকটি। অন্যদিকে এএনজেড ও ইউবিএসও তেলের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের পণ্যবাজার বিশ্লেষকদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার হতে পারে। এর আগে ব্যাংকটি এই দাম ৯০ ডলার হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিল। অর্থাৎ নতুন পূর্বাভাসে দাম বাড়ানো হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে পূর্বাভাস সংশোধনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে আগামী বছর ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলার হতে পারে বলে মনে করছে গোল্ডম্যান স্যাকস। এর আগে তাদের পূর্বাভাস ছিল ৮০ ডলার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৭২ ডলার ৪৮ সেন্ট। গত সোমবার তা বেড়ে ১০৮ ডলারে দাঁড়ায়। সংঘাতের প্রভাবে সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের পূর্বাভাস পরিবর্তন করছে।

তেলের দাম নিয়ে সতর্ক এএনজেড ও ইউবিএস
গোল্ডম্যান স্যাকসের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপ (এএনজেড) এবং সুইজারল্যান্ডের বহুজাতিক ব্যাংক ইউবিএসও ব্রেন্টের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এএনজেডের পণ্যবাজার বিশ্লেষকেরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে টানা আট মাস ধরে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এত দিন বিশ্ববাজার বিভিন্নভাবে এই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিলেও এখন প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

এএনজেডের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছতে পারে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি ১০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ইউবিএসের ধারণা, বছরের শেষ নাগাদ প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১০ ডলার হতে পারে।

শান্তিচুক্তিই কমাতে পারে তেলের দাম
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে চুক্তির স্থায়িত্ব ও বাস্তবায়ন নিয়ে বাজারের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক ড্যান স্ট্রুভেন সম্প্রতি এক পর্যালোচনায় বলেন, বাজার থেকে যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত মূল্য দ্রুত কমাতে কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। তবে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা সেই সমাধানকে টেকসই বলে বিশ্বাস করলেই কেবল পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তার মতে, বছরের শেষ নাগাদ এমন একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখনো কম।

এদিকে বিভিন্ন ব্যাংক তেলের দাম বাড়ার পূর্বাভাস দিলেও পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরে এসেছে বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংঘাতের ঝুঁকি-এই দুই বিপরীতমুখী বিষয় এখন আন্তর্জাতিক তেলবাজারের গতিপথ নির্ধারণ করছে।

জেইহান বন্দর দিয়ে ইরাকের তেল রপ্তানি বেড়ে ৫ লাখ ব্যারেল
মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ সংকটের মধ্যে বিকল্প পথে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে ইরাক। তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর জেইহান দিয়ে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

সোমবার কুর্দিস্তান২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরাকের নর্থ অয়েল কোম্পানির এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আগামী বছরও চড়া থাকবে জ্বালানি তেলের বাজার

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও পরিবহন ঝুঁকির প্রভাবে বছরের শেষ দিকে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৫ ডলারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস।

শুধু চলতি বছর নয়, আগামী বছরও বিশ্ববাজারে তেলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকার আশঙ্কা করছে ব্যাংকটি। অন্যদিকে এএনজেড ও ইউবিএসও তেলের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের পণ্যবাজার বিশ্লেষকদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার হতে পারে। এর আগে ব্যাংকটি এই দাম ৯০ ডলার হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিল। অর্থাৎ নতুন পূর্বাভাসে দাম বাড়ানো হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে পূর্বাভাস সংশোধনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে আগামী বছর ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলার হতে পারে বলে মনে করছে গোল্ডম্যান স্যাকস। এর আগে তাদের পূর্বাভাস ছিল ৮০ ডলার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৭২ ডলার ৪৮ সেন্ট। গত সোমবার তা বেড়ে ১০৮ ডলারে দাঁড়ায়। সংঘাতের প্রভাবে সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের পূর্বাভাস পরিবর্তন করছে।

তেলের দাম নিয়ে সতর্ক এএনজেড ও ইউবিএস
গোল্ডম্যান স্যাকসের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপ (এএনজেড) এবং সুইজারল্যান্ডের বহুজাতিক ব্যাংক ইউবিএসও ব্রেন্টের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এএনজেডের পণ্যবাজার বিশ্লেষকেরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে টানা আট মাস ধরে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এত দিন বিশ্ববাজার বিভিন্নভাবে এই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিলেও এখন প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

এএনজেডের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছতে পারে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি ১০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ইউবিএসের ধারণা, বছরের শেষ নাগাদ প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১০ ডলার হতে পারে।

শান্তিচুক্তিই কমাতে পারে তেলের দাম
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে চুক্তির স্থায়িত্ব ও বাস্তবায়ন নিয়ে বাজারের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক ড্যান স্ট্রুভেন সম্প্রতি এক পর্যালোচনায় বলেন, বাজার থেকে যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত মূল্য দ্রুত কমাতে কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। তবে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা সেই সমাধানকে টেকসই বলে বিশ্বাস করলেই কেবল পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তার মতে, বছরের শেষ নাগাদ এমন একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখনো কম।

এদিকে বিভিন্ন ব্যাংক তেলের দাম বাড়ার পূর্বাভাস দিলেও পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরে এসেছে বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংঘাতের ঝুঁকি-এই দুই বিপরীতমুখী বিষয় এখন আন্তর্জাতিক তেলবাজারের গতিপথ নির্ধারণ করছে।

জেইহান বন্দর দিয়ে ইরাকের তেল রপ্তানি বেড়ে ৫ লাখ ব্যারেল
মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ সংকটের মধ্যে বিকল্প পথে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে ইরাক। তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর জেইহান দিয়ে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

সোমবার কুর্দিস্তান২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরাকের নর্থ অয়েল কোম্পানির এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।