বাজেটে কৃষকের প্রত্যাশা ভর্তুকি, প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ঋণ
- আপডেট সময় : ১২:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / 46
রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলায় কৃষক। আর সেই শ্রম-ঘামে রচিত হয় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশের গল্প। যার আড়ালে জমে আছে দীর্ঘশ্বাসও। সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, ফসল ফলিয়েও মিলছে না ন্যায্যমূল্য। তাই আসন্ন বাজেট ঘিরে কৃষকের প্রত্যাশা, বাড়তি ভর্তুকি, বিশেষ প্রণোদনা আর সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগ।
জীবনের অর্ধশতক পেরোনো কৃষক দম্পতি জহির আর দরিয়া। নিজের জমি না থাকায়, এক টুকরো বন্ধক নেওয়া মাটিতে চাষ করেছিলেন ঢেঁড়স। সকালের শিশির আর দুপুরের প্রখর রোদ-ঘাম-শ্রমে বড় করেছেন ফসল। সেই ফসল তুলতে গিয়ে তাদের মুখে হাসির বদলে লোকসানের অন্ধকার।
বাজেটের কথা উঠতেই, জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে কৃষক দম্পতির কণ্ঠে। কৃষি অফিসের সেবা তাদের কাছে অজানা গল্প। একটাই চাওয়া, চাষাবাদ খরচটা যেন একটু কমে।
একই মাঠে কৃষক বাচ্চু মিয়া, আরব আলী কিংবা শুক্কুর আলীর গল্পও আলাদা নয়। সবার চোখেই অনিশ্চয়তার ছায়া। লোকসানে জর্জরিত এসব কৃষকের আক্ষেপ, ফসল ফলানো যেন জীবনের দায়।
সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ সব কিছুতে লাগামছাড়া খরচে দেয়ালে ঠেকেছে কৃষকের পিঠ। আবার ফসল ফলিয়েও মিলছে না ন্যায্যমূল্য। তাই, কৃষক এখতিয়ার কিংবা শুক্কুর আলীদের দাবি, বাজেটে যেন থাকে বাড়তি ভর্তুকি, বিশেষ প্রণোদনা আর সহজশর্তে ঋণ সুবিধা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভর্তুকি দিলেই হবে না, কৃষিকে করতে হবে টেকসই এবং লাভজনক। এজন্য বাজেটে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, ফসল সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মন্ডল বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে কৃষিখাতে ভর্তুকি কমানোর সুযোগ নেই। তাই স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা গড়তে বড় বিনিয়োগ জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চালু করতে হবে কৃষি বিমা, বাড়াতে হবে দুর্যোগ সহনশীল বীজ ব্যবহার এবং কৃষি গবেষণায় বাজেট বরাদ্দ।






















সরকার-সিজেপি বৈঠক: অনড় অবস্থানে দু’পক্ষ, শনিবার ফের আলোচনা