ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিশেষ সতর্কীকরণ নোটিশ ::
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হবে। এ জন্য ০১৩১৮২৩৪৯৬২, ০১৩১৮২৩৪৯৬৩, ০১৩২১১৩৯৫৪২ ও ০১৭০৯৬৫৪৭৯১ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ffwcbwdb@gmail.com এবং ffwc05@yahoo.com ই-মেইলেও তথ্য পাওয়া যাবে।

ব্যাটিং ধসে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হার বাংলাদেশের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 24

হারারের মাঠে আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাঝপথে দারুণ অবস্থানে থেকেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৩ রানে হেরে যায় সফরকারীরা। এই হারের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। দলীয় ১৩ রানেই প্রথম ধাক্কা আসে। ব্লেসিং মুজারাবানির বাউন্সারে ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে ক্যাচ দেন সৌম্য সরকার। ১০ বলে মাত্র ৫ রান করে ফেরেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তবে সেই জুটি বড় হতে দেননি জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। নিজের প্রথম ওভারেই শান্তকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ১৬ বলে ৯ রান করা শান্ত উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিলে দলীয় ৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান। ধৈর্য ও আক্রমণের মিশেলে ৭০ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই ওপেনার। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। স্পিনার ব্রায়ান বেনেটের বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ৫৭ রান করে। তার বিদায়ে ভেঙে যায় ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

তানজিদের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংসে শুরু হয় ধস। তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান কিছুটা আশা জাগালেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ৭ রান করে ফেরেন হৃদয়। এরপর মোসাদ্দেক হোসেনও বেশি সময় টিকতে পারেননি। রিচার্ড এনগারাভার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ৭ রানেই বিদায় নেন তিনি।

অন্য প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনিও। এনগারাভার শর্ট বলে ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ৪১ বলে ৩৮ রান করে ফিরলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৩ বলে ২৭ রান করলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি। নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ১৩ রান দূরেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফেরান ব্রায়ান বেনেটকে। এরপর তৃতীয় ওভারে ইনোসেন্ট কাইয়াকেও সাজঘরে পাঠান তিনি। নবম ওভারে নাহিদ রানার গতির সামনে বোল্ড হন ক্রেইগ আরভিন। ওয়েসলি মাধেভেরে ১৫ রান করে ফিরলে মাত্র ৬৬ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।

সেই বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তোলেন বেন কারান ও সিকান্দার রাজা। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংস মেরামত করেন। রাজা ৩৩ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হলেও দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন কারান। পরে ক্লাইভ মাদান্দে দ্রুত ফিরলেও জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি থামেনি।

ইনিংসের শেষ ভাগে ব্র্যাড ইভান্সকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে দুর্দান্ত জুটি গড়েন কারান। ১২২ বলে শতক পূর্ণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন কারান। অন্য প্রান্তে ব্র্যাড ইভান্স মাত্র ৩৬ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুটি উইকেট নেন। নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট শিকার করেন।

ব্যাটিং ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তিতে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করে আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল জিম্বাবুয়ে। আর সফরকারীদের সামনে এখন শেষ ম্যাচে অন্তত একটি জয় নিয়ে দেশে ফেরার চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যাটিং ধসে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হার বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ১১:০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

হারারের মাঠে আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাঝপথে দারুণ অবস্থানে থেকেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৩ রানে হেরে যায় সফরকারীরা। এই হারের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। দলীয় ১৩ রানেই প্রথম ধাক্কা আসে। ব্লেসিং মুজারাবানির বাউন্সারে ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে ক্যাচ দেন সৌম্য সরকার। ১০ বলে মাত্র ৫ রান করে ফেরেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তবে সেই জুটি বড় হতে দেননি জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। নিজের প্রথম ওভারেই শান্তকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ১৬ বলে ৯ রান করা শান্ত উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিলে দলীয় ৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান। ধৈর্য ও আক্রমণের মিশেলে ৭০ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই ওপেনার। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। স্পিনার ব্রায়ান বেনেটের বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ৫৭ রান করে। তার বিদায়ে ভেঙে যায় ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

তানজিদের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংসে শুরু হয় ধস। তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান কিছুটা আশা জাগালেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ৭ রান করে ফেরেন হৃদয়। এরপর মোসাদ্দেক হোসেনও বেশি সময় টিকতে পারেননি। রিচার্ড এনগারাভার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ৭ রানেই বিদায় নেন তিনি।

অন্য প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনিও। এনগারাভার শর্ট বলে ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ৪১ বলে ৩৮ রান করে ফিরলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৩ বলে ২৭ রান করলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি। নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ১৩ রান দূরেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফেরান ব্রায়ান বেনেটকে। এরপর তৃতীয় ওভারে ইনোসেন্ট কাইয়াকেও সাজঘরে পাঠান তিনি। নবম ওভারে নাহিদ রানার গতির সামনে বোল্ড হন ক্রেইগ আরভিন। ওয়েসলি মাধেভেরে ১৫ রান করে ফিরলে মাত্র ৬৬ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা।

সেই বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তোলেন বেন কারান ও সিকান্দার রাজা। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংস মেরামত করেন। রাজা ৩৩ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হলেও দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন কারান। পরে ক্লাইভ মাদান্দে দ্রুত ফিরলেও জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি থামেনি।

ইনিংসের শেষ ভাগে ব্র্যাড ইভান্সকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে দুর্দান্ত জুটি গড়েন কারান। ১২২ বলে শতক পূর্ণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন কারান। অন্য প্রান্তে ব্র্যাড ইভান্স মাত্র ৩৬ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুটি উইকেট নেন। নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট শিকার করেন।

ব্যাটিং ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তিতে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করে আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল জিম্বাবুয়ে। আর সফরকারীদের সামনে এখন শেষ ম্যাচে অন্তত একটি জয় নিয়ে দেশে ফেরার চ্যালেঞ্জ।