ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের ‘সুবিধাভোগী’ হয়েও কেন জুলাই আন্দোলনে নেমেছিলেন বাঁধন?

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পেরে তিনি আত্মতৃপ্ত, ‘এই আন্দোলনটা করে আমার জীবনের অর্জন হচ্ছে, আমি একটা অভিজ্ঞতা ভেতর দিয়ে গেছি। যে অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে, মানুষ হিসেবে আর একটু পরিপূর্ণ করেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে আমি এটা অনুধাবন করেছি যে কোনো একটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সাধারণ জনগণের কাতারে মিশে যেতে পারার যে একটা আনন্দ আছে সেই আনন্দটা আসলে আমি অনুভব করে ফেলেছি। তাই ওই আনন্দটা তো আমি বারবার অনুভব করতেই চাইবো। আমি চাইবো যে আমি আমার দেশের জনগণের পাশে থাকি বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি সবসময় আমার ভয়েসটা রেজ করতে পারি।’

আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও নিজের ‘সুবিধাভোগী’ পরিচয়ের কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন বাঁধন। তবে নীতিগত জায়গা থেকে কীভাবে সরে এসেছেন, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। এই অভিনেত্রী বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি সুবিধাভোগী মানুষ ছিলাম এবং আমি তাদের প্রচার প্রচারণা করেছি। তাদের অনেকের সাথে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক। তাই সেই জায়গা থেকে আসলে ওই সিদ্ধান্ত নেয়াটা যে, যারা আসলে আমার কাছের মানুষ কিন্তু তারপরও যখন একটা অন্যায়কে আসলে এইভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে তখন আমাকে তাদের বিরুদ্ধেই দাঁড়াতে হবে।’

‘আমরা তো বেশিরভাগ মানুষই আসলে তাদের পক্ষ হয়ে গিয়েছিলাম। সেই জায়গা থেকে যেই মানুষগুলো আসলে বের হয়ে এসে তারা মনে করেছে যে না আমরা জনগণের সাথে থাকবো এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলব। আমার কাছে মনে হয় যে সেই জায়গাটা ডেফিনেটলি অনেক বেশি সাহসের। কারণ আপনার কাছের কোন মানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে আসলে দাঁড়াচ্ছেন তখন সেটা তো আমার কাছে মনে হয় যে আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং’- যোগ করেন তিনি।

ক্ষমতার একেবারে কাছাকাছি থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাঁধন বলেন, কীভাবে সিস্টেমকে ম্যানিপুলেট করা হয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয় তা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। পুরো ব্যবস্থাটি দুর্নীতির সাগরে নিমজ্জিত ছিল দেখে তিনি পরিবর্তন চেয়েছিলেন। আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, অন্তত পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে দীর্ঘদিন বাকস্বাধীনতা না থাকায় এখন বাকস্বাধীনতার চর্চা করতে গিয়ে অনেকেই যে অন্যের অধিকার খর্ব করছেন—সে বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

আন্দোলনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী পন্থীদের দ্বারা ক্রমাগত হেনস্তা, ট্রোলিং ও হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত জীবনেও এক ধরনের একটা ব্রেকআপের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলাম। তারপর অভ্যুত্থানের পর এভাবে ট্রোলিং এর শিকার হচ্ছি। কাজ একদমই নাই কাজ তো ওই জায়গায় কঠিন ছিল আমার জন্য কিন্তু যখন আমি আসলে স্বাভাবিকভাবে বাইরে গিয়েছি সাধারণ মানুষের সাথে আমার ইন্টারেকশন হয়েছে তখন কিন্তু আমার আসলে এই কষ্টটা হয়নি যে আসলে অনলাইনে আমাকে যেভাবে গুলি করা হচ্ছে সেটা কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে আমার সেই অবস্থানটা না। সো এইটা স্পেসিফিক ওই দলের লোকজনের আমার উপরে এক ধরনের আক্ষেপ বা ক্ষোভ আছে।’

সবশেষে তিনি একটি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার প্রতি জোর দেন, যেখানে সবার সমান অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং নিজ নিজ জায়গায় কাজ করার অধিকার নিশ্চিত হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের ‘সুবিধাভোগী’ হয়েও কেন জুলাই আন্দোলনে নেমেছিলেন বাঁধন?

আপডেট সময় : ১১:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পেরে তিনি আত্মতৃপ্ত, ‘এই আন্দোলনটা করে আমার জীবনের অর্জন হচ্ছে, আমি একটা অভিজ্ঞতা ভেতর দিয়ে গেছি। যে অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে, মানুষ হিসেবে আর একটু পরিপূর্ণ করেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে আমি এটা অনুধাবন করেছি যে কোনো একটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সাধারণ জনগণের কাতারে মিশে যেতে পারার যে একটা আনন্দ আছে সেই আনন্দটা আসলে আমি অনুভব করে ফেলেছি। তাই ওই আনন্দটা তো আমি বারবার অনুভব করতেই চাইবো। আমি চাইবো যে আমি আমার দেশের জনগণের পাশে থাকি বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি সবসময় আমার ভয়েসটা রেজ করতে পারি।’

আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও নিজের ‘সুবিধাভোগী’ পরিচয়ের কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন বাঁধন। তবে নীতিগত জায়গা থেকে কীভাবে সরে এসেছেন, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। এই অভিনেত্রী বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি সুবিধাভোগী মানুষ ছিলাম এবং আমি তাদের প্রচার প্রচারণা করেছি। তাদের অনেকের সাথে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক। তাই সেই জায়গা থেকে আসলে ওই সিদ্ধান্ত নেয়াটা যে, যারা আসলে আমার কাছের মানুষ কিন্তু তারপরও যখন একটা অন্যায়কে আসলে এইভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে তখন আমাকে তাদের বিরুদ্ধেই দাঁড়াতে হবে।’

‘আমরা তো বেশিরভাগ মানুষই আসলে তাদের পক্ষ হয়ে গিয়েছিলাম। সেই জায়গা থেকে যেই মানুষগুলো আসলে বের হয়ে এসে তারা মনে করেছে যে না আমরা জনগণের সাথে থাকবো এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলব। আমার কাছে মনে হয় যে সেই জায়গাটা ডেফিনেটলি অনেক বেশি সাহসের। কারণ আপনার কাছের কোন মানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে আসলে দাঁড়াচ্ছেন তখন সেটা তো আমার কাছে মনে হয় যে আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং’- যোগ করেন তিনি।

ক্ষমতার একেবারে কাছাকাছি থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাঁধন বলেন, কীভাবে সিস্টেমকে ম্যানিপুলেট করা হয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয় তা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। পুরো ব্যবস্থাটি দুর্নীতির সাগরে নিমজ্জিত ছিল দেখে তিনি পরিবর্তন চেয়েছিলেন। আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, অন্তত পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে দীর্ঘদিন বাকস্বাধীনতা না থাকায় এখন বাকস্বাধীনতার চর্চা করতে গিয়ে অনেকেই যে অন্যের অধিকার খর্ব করছেন—সে বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

আন্দোলনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী পন্থীদের দ্বারা ক্রমাগত হেনস্তা, ট্রোলিং ও হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত জীবনেও এক ধরনের একটা ব্রেকআপের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলাম। তারপর অভ্যুত্থানের পর এভাবে ট্রোলিং এর শিকার হচ্ছি। কাজ একদমই নাই কাজ তো ওই জায়গায় কঠিন ছিল আমার জন্য কিন্তু যখন আমি আসলে স্বাভাবিকভাবে বাইরে গিয়েছি সাধারণ মানুষের সাথে আমার ইন্টারেকশন হয়েছে তখন কিন্তু আমার আসলে এই কষ্টটা হয়নি যে আসলে অনলাইনে আমাকে যেভাবে গুলি করা হচ্ছে সেটা কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে আমার সেই অবস্থানটা না। সো এইটা স্পেসিফিক ওই দলের লোকজনের আমার উপরে এক ধরনের আক্ষেপ বা ক্ষোভ আছে।’

সবশেষে তিনি একটি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার প্রতি জোর দেন, যেখানে সবার সমান অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং নিজ নিজ জায়গায় কাজ করার অধিকার নিশ্চিত হবে।