ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসি হঠাৎ কেন আবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে?

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 10

দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লিওনেল মেসির জাতীয় দলের অধ্যায় এবার সত্যিই শেষ হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পরও আকাশি-সাদা জার্সিতে তার শেষ ম্যাচটি বাকি ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে আগামী ৬ অক্টোবর। বুয়েনস এইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেই আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলবেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মেসিকে ২৮ সদস্যের দলে রেখেছে। তবে আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনার তিনটি ম্যাচ থাকলেও মেসিকে দেখা যাবে শুধু শেষ ম্যাচটিতে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে এবং ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। এরপর ৬ অক্টোবর মনুমেন্টালে নামবেন মেসি-জাতীয় দলের হয়ে শেষবারের মতো।

বিদায়টা যে নিছক আরেকটি প্রীতি ম্যাচ হবে না, সেটিও স্পষ্ট করেছে এএফএ। প্রায় ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে মেসিকে আনুষ্ঠানিক সম্মান জানানোর জন্য বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সব সদস্যকে পরিবারসহ ম্যাচটিতে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে যে দলের নেতৃত্বে মেসি বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন, সেই সতীর্থদের উপস্থিতিতেই হতে পারে তার জাতীয় দলের শেষ উদযাপন।

এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া জানিয়েছেন, মেসির সঙ্গে আলোচনা করেই এই বিদায়ী আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানালেন, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, জাতীয় দলের প্রতীক ও অধিনায়ক হিসেবে মেসি নিজের দেশের মাটিতে প্রাপ্য বিদায় পাওয়ার যোগ্য। মেসির সম্মতিতেই ৬ অক্টোবরের ম্যাচটিকে তার আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে সাজানো হচ্ছে।

মেসি গত আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন তিনি। একই সময় বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুও তাকে ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে নাড়া দেয়। জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্তকে কঠিন উল্লেখ করে মেসি জানিয়েছিলেন, তিনি নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েছেন এবং দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই।

তবু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ দৃশ্যটি যেন একটি সাধারণ বিদায় না হয়, সেটিই চেয়েছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পরও শেষবারের মতো তাকে মাঠে নামানোর আয়োজন। আর সেই ম্যাচের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে এমন একটি ভেন্যু, যেখানে বিপুলসংখ্যক আর্জেন্টাইন সমর্থক সরাসরি সাক্ষী হতে পারবেন মেসির শেষ অধ্যায়ের।

সংখ্যার দিক থেকেও ম্যাচটি আলাদা হয়ে থাকবে। আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন মেসি। বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামলে জাতীয় দলের হয়ে তার ম্যাচ সংখ্যা দাঁড়াবে ২০৮। আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড-দুটিই তার দখলে।

জাতীয় দলের হয়ে মেসির দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় অবশ্য শিরোপায় লেখা। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২২ বিশ্বকাপ এবং দুটি কোপা আমেরিকা। একসময় যে জার্সিতে বহুবার ব্যর্থতার হতাশা সঙ্গী হয়েছিল, সেই জার্সিতেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি।

এবার সেই দীর্ঘ যাত্রার শেষ দৃশ্যটি মঞ্চস্থ হবে নিজের দেশের মাটিতে। মনুমেন্টালের গ্যালারিতে হাজারো সমর্থক, পাশে বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থরা, আর সামনে বেনিন-সব মিলিয়ে ৬ অক্টোবরের রাতটি হয়ে উঠতে পারে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত!

প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা স্কোয়াড
গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হুয়ান মুসো, হেরোনিমো রুলি

ডিফেন্ডার: আগুস্তিন গিয়াই, লিওনার্দো বালের্দি, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, হয়ান ফয়েথ, ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রোমান ভেগা

মিডফিল্ডার: এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, ভ্যালেন্তিন বারকো, জিওভানি লো সেলসো, এজেকিয়েল পালাসিওস, রদ্রিগো দে পল, নিকো পাজ, ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, মাতিয়াস সুলে, জুলিয়ানো সিমেওনে, নিকোলাস গনজালেস, জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি

ফরোয়ার্ড: হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ, সান্তিয়াগো কাস্ত্রো, হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, লিওনেল মেসি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মেসি হঠাৎ কেন আবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে?

আপডেট সময় : ০১:২৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লিওনেল মেসির জাতীয় দলের অধ্যায় এবার সত্যিই শেষ হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পরও আকাশি-সাদা জার্সিতে তার শেষ ম্যাচটি বাকি ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে আগামী ৬ অক্টোবর। বুয়েনস এইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেই আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলবেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মেসিকে ২৮ সদস্যের দলে রেখেছে। তবে আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনার তিনটি ম্যাচ থাকলেও মেসিকে দেখা যাবে শুধু শেষ ম্যাচটিতে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে এবং ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। এরপর ৬ অক্টোবর মনুমেন্টালে নামবেন মেসি-জাতীয় দলের হয়ে শেষবারের মতো।

বিদায়টা যে নিছক আরেকটি প্রীতি ম্যাচ হবে না, সেটিও স্পষ্ট করেছে এএফএ। প্রায় ৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে মেসিকে আনুষ্ঠানিক সম্মান জানানোর জন্য বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সব সদস্যকে পরিবারসহ ম্যাচটিতে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে যে দলের নেতৃত্বে মেসি বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন, সেই সতীর্থদের উপস্থিতিতেই হতে পারে তার জাতীয় দলের শেষ উদযাপন।

এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া জানিয়েছেন, মেসির সঙ্গে আলোচনা করেই এই বিদায়ী আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানালেন, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, জাতীয় দলের প্রতীক ও অধিনায়ক হিসেবে মেসি নিজের দেশের মাটিতে প্রাপ্য বিদায় পাওয়ার যোগ্য। মেসির সম্মতিতেই ৬ অক্টোবরের ম্যাচটিকে তার আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে সাজানো হচ্ছে।

মেসি গত আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন তিনি। একই সময় বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুও তাকে ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে নাড়া দেয়। জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্তকে কঠিন উল্লেখ করে মেসি জানিয়েছিলেন, তিনি নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েছেন এবং দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই।

তবু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ দৃশ্যটি যেন একটি সাধারণ বিদায় না হয়, সেটিই চেয়েছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পরও শেষবারের মতো তাকে মাঠে নামানোর আয়োজন। আর সেই ম্যাচের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে এমন একটি ভেন্যু, যেখানে বিপুলসংখ্যক আর্জেন্টাইন সমর্থক সরাসরি সাক্ষী হতে পারবেন মেসির শেষ অধ্যায়ের।

সংখ্যার দিক থেকেও ম্যাচটি আলাদা হয়ে থাকবে। আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন মেসি। বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামলে জাতীয় দলের হয়ে তার ম্যাচ সংখ্যা দাঁড়াবে ২০৮। আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড-দুটিই তার দখলে।

জাতীয় দলের হয়ে মেসির দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় অবশ্য শিরোপায় লেখা। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২২ বিশ্বকাপ এবং দুটি কোপা আমেরিকা। একসময় যে জার্সিতে বহুবার ব্যর্থতার হতাশা সঙ্গী হয়েছিল, সেই জার্সিতেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি।

এবার সেই দীর্ঘ যাত্রার শেষ দৃশ্যটি মঞ্চস্থ হবে নিজের দেশের মাটিতে। মনুমেন্টালের গ্যালারিতে হাজারো সমর্থক, পাশে বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থরা, আর সামনে বেনিন-সব মিলিয়ে ৬ অক্টোবরের রাতটি হয়ে উঠতে পারে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত!

প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা স্কোয়াড
গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, হুয়ান মুসো, হেরোনিমো রুলি

ডিফেন্ডার: আগুস্তিন গিয়াই, লিওনার্দো বালের্দি, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, হয়ান ফয়েথ, ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রোমান ভেগা

মিডফিল্ডার: এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, ভ্যালেন্তিন বারকো, জিওভানি লো সেলসো, এজেকিয়েল পালাসিওস, রদ্রিগো দে পল, নিকো পাজ, ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, মাতিয়াস সুলে, জুলিয়ানো সিমেওনে, নিকোলাস গনজালেস, জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি

ফরোয়ার্ড: হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ, সান্তিয়াগো কাস্ত্রো, হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, লিওনেল মেসি।