পাকিস্তানের কাছে হেরে স্বর্ণের আশা শেষ বাংলাদেশের

- আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
তাওহিদ হৃদয়ের ঝড়ে মিলল লড়াকু পুঁজি। বল হাতে চেষ্টা করলেন শেখ মেহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন। কিন্তু বাকিরা পারলেন না সঙ্গ দিতে। ফলে পাকিস্তানের কাছে হেরে স্বর্ণপদক জেতার আশা শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের।
জাপানের নিশিনে বৃহস্পতিবার এশিয়ান গেমস পুরুষ ক্রিকেটের সেমি-ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে ফাইনালে উঠে গেছে পাকিস্তান। আর বাংলাদেশ খেলবে তৃতীয় স্থান তথা ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে।
ম্যাচ শুরুর নির্দিষ্ট সময়ে বৃষ্টি না থাকলেও, আউটফিল্ড ভেজা থাকার কারণে সোয়া এক ঘণ্টা পর শুরু হয় খেলা। প্রতি ইনিংস থেকে কমিয়ে দেওয়া হয় ৭ ওভার করে।
নির্ধারিত ১৩ ওভারে হৃদয়ের সৌজন্যে ৭ উইকেটে ১১১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৯ বল বাকি রেখে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান।
রান তাড়ায় শুরুটা অবশ্য খুব একটা ভাল ছিল না পাকিস্তানের। প্রথম ওভারে সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান মেহেদি। পরের ওভারে মাজ সাদাকাতের কাছে ছক্কা ও চার হজম করলেও পাল্টা জবাব দিয়ে আঘাত হানেন নাসুম আহমেদ।
চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসে খরুচে শুরু করেন মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম তিন বলে ছক্কা, চার ও চার হজম করেন বাঁহাতি পেসার। তবে শেষ বলে সাইম আইয়ুবকে (১২ বলে ২১) ফিরিয়ে দেন অভিজ্ঞ এই পেসার।
এরপর রিশাদের বলে উসমান খানও ফিরে গেলে ৫৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। তবে দলের ওপর চাপ বাড়তে দেননি হাসান নাওয়াজ ও আব্দুল সামাদ।
দুজন মিলে ৩২ বলে ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
সবচেয়ে বেশি ঝড় বয়ে যায় মুস্তাফিজের ওপর। দশম ওভারে একটি ছক্কার পর চারটি চারসহ মোট ২৩ রান দেন বাঁহাতি এই পেসার। তাতেই জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় পাকিস্তানের।
৫ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ রান করেন সামাদ। নাওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ২৭ রান।
ভীষণ খরুচে বোলিংয়ে ২ ওভারে ৪১ রান দেন মুস্তাফিজ। নাসুমের ৩ ওভার থেকে আসে ৩৩ রান। এই ৫ ওভারে ৭৪ রান তুলে ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে নেয় পাকিস্তান।
এর আগে উইকেটের সুবিধা কাজে লাগানোর আশায়ই হয়তো টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। দারুণ শুরুর আভাস দিলেও টিকতে পারেননি দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান।
দ্বিতীয় ওভারে আরাফাত মিনহাসের বলে ছক্কা মারার পরপরই ক্যাচ আউট হন ৭ রান করা তানজিদ। পরের ওভারে সাইম আইয়ুবের বলে রিভার্স করে খেলতে গিয়ে বোল্ড লিটন কুমার দাস (৩ বলে ২)।
এরপর মিনহাসের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানার অনেক ভেতরে ধরা পড়েন পারভেজ হোসেন ইমন (৪ বলে ১)।
১ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মেরে ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন সাইফ। তবে সুফিয়ান মুকিমের বলে তিনি হন এলবিডব্লিউ। ১৯ রান করতে খেলেন ১৭ বল।
মাত্র ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারানোর দলের হাল ধরেন হৃদয়। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে তিনি গড়েন মাত্র ৩০ বলে ৫৩ রানের জুটি।
আবরার আহমেদের বলে হৃদয় মারেন দুইটি ছক্কা। এছাড়া মুকিম ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলও দারুণ দুটি শটে তিনি ওড়ান ছক্কায়। শেষ পর্যন্ত মুকিমের বলে বড় শটের খোঁজেই লং অনে ধরা পড়েন ৪২ রান করা হৃদয়।
মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ১১ রান। শেষ দিকে ৪ বলে ৮ রান করেন শেখ মেহেদি হাসান।
একের পর এক ওয়াইডের মেলা বসিয়ে মোট ১৯ রান অতিরিক্ত দেয় পাকিস্তান। ৩ ওভারে ২৬ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন মুকিম। মিনহাস ৩ ওভারে ২৩ রানে নেন ২ উইকেট।


















