বিষাক্ত ইনজেকশনেও রইল প্রাণ, হাসপাতালে ভর্তি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী

- আপডেট সময় : ০৪:২৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
যুক্তরাষ্ট্রে এক বিরল ঘটনা ঘটেছে। প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও দণ্ডপ্রাপ্ত এক নারী জীবিত রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে দেশটির টেনেসি অঙ্গরাজ্যে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ। ফলে ওই নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত ওই নারীর নাম ক্রিস্টা পাইক। ২০০০ সালের পর এই প্রথম টেনেসিতে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। রিউভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিটে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ‘পেন্টোবারবিটাল’ নামক বিষাক্ত রাসায়নিকের দুটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু বিষ প্রয়োগের পরও এই বন্দির শ্বাস-প্রশ্বাস চলতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে টেনিসি কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে উপস্থিত সাংবাদিক ও অন্য সাক্ষীরা একে একটি ‘ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জন নর্থ জানান, বিষ প্রয়োগের পর ভবন ত্যাগ করার সময়ও ওই নারী জীবিত ছিলেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সরাসরি লাইভ সম্প্রচারে একটি অ্যাম্বুলেন্সকে হাসপাতালের উদ্দেশে কারাগার প্রাঙ্গণ ছেড়ে যেতে দেখা যায়।
পাইকের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে জানান, টেনেসি অঙ্গরাজ্য আরও একবার আইনি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হলো। ক্রিস্টাকে বর্তমানে একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমাদের জানানো হয়নি।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইনি পথ পরিষ্কার করে দেন। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করেন তিন উদারপন্থী বিচারপতি সোনিয়া সোতোমেওর, এলেনা কাগান ও কিটানজি ব্রাউন জ্যাকসন। তারা ভিন্নমত পোষণ করে উল্লেখ করেন, নিম্ন আদালতে সাজা স্থগিত বা পর্যালোচনার আবেদন পূর্ণাঙ্গভাবে নিষ্পত্তির আগেই এমন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হয়নি।
কী ঘটেছিল সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে?
১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ক্রিস্টা পাইক ও তার প্রেমিক মিলে এক যুব প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমাবকে পিটিয়ে হত্যা করেন। নিহত তরুণীর বুকে শয়তানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘পেন্টাগ্রাম’ খোদাই করায় ঘটনাটি তখন পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
পাইকের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে তার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আর্জি জানিয়ে আসছিলেন। তারা জানান, অপরাধ সংঘটনের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। তিনি চরম মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। শৈশবে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) এবং বিশেষ রক্তের জটিলতার কথা তুলে ধরে রাজ্য গভর্নর বিল লি-র কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করা হলেও তিনি হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানান। সুপ্রিম কোর্টেও আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, এই শারীরিক অবস্থায় বিষাক্ত ইনজেকশন মারাত্মক ‘অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণার’ কারণ হবে।
এমনকি জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও পাইকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে তা সাজা কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবের নির্যাতন এবং প্রায় তিন দশক ধরে নির্জন কারাবাসের মানসিক যন্ত্রণার পর এই মৃত্যুদণ্ড অত্যন্ত নির্মম।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১৮ জন নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
















