মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী, ১০ হাজার সেনা: ফের যুদ্ধ শুরুর আভাস?

- আপডেট সময় : ১১:৪৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
ইরানের কাছাকাছি মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ যখন স্তিমিত হয়ে পড়েছে, তখন ফের নিজের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পথে হাঁটছে দেশটি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ সান ডিয়েগো ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর একদিন পর ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা নিয়ে রওনা হয়েছে ‘মেকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট (এমইইউ)’।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই স্ট্রাইক গ্রুপ এবং নৌবাহিনী মোতায়েনের ফলে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য জাহাজে নিযুক্ত নাবিক এবং মেরিন সেনাসহ নতুন করে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত হতে পারে।
ওই কর্মকর্তা জানান, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যান্ডিং গ্রুপ অবস্থান নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট রসদ মধ্যপ্রাচ্যে জমা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউসের সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরার এক প্রতিবেদক বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা যেভাবে এগোক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সব ধরনের সামরিক বিকল্প ‘উন্মুক্ত রাখাটাই’ এই সেনা মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য। এমনকি ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তি হলেও পেন্টাগন আপাতত সেখান থেকে কোনও সামরিক সরঞ্জাম বা সেনা সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে না।
যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দশক ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক স্থাপনার একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল, যার মধ্যে বড় স্থায়ী ঘাঁটি এবং অপেক্ষাকৃত ছোট সামরিক কেন্দ্রগুলোর কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত।
ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিস্ট এবং সামরিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে ১২০টিরও বেশি বিমান পাঠিয়েছে। এই বহরে রয়েছে ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এওয়াক্স) বিমান, এফ-৩৫ স্টেলথ স্ট্রাইক ফাইটার, এফ-২২ এয়ার সুপিরিওরিটি জেট এবং এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
মার্চে পারস্য উপসাগরে অতিরিক্ত মার্কিন বাহিনী পাঠানোর নির্দেশ দেয় পেন্টাগন। এই অতিরিক্ত শক্তি তিনটি ভিন্ন ফর্মেশনে ভাগ হয়ে ভিন্ন পথ ও সময়ে পৌঁছায়:
১. ট্রিপোলি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ: আমেরিকা-ক্লাস অ্যাসল্ট শিপ ‘ইউএসএস ট্রিপোলি’ এবং ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট (এমইইউ)।
২. বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ: দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক ওয়াজ্প-ক্লাস অ্যাসল্ট শিপ ‘ইউএসএস বক্সার’ এবং ১১তম এমইইউ।
এই দুটি মেরিন গ্রুপ মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বহরে অতিরিক্ত সাড়ে ৪ হাজার মেরিন সেনা ও নাবিক যুক্ত হয়।
৩. ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স: উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ ভিত্তিক এই পদাতিক প্যারাশুট ইউনিটের প্রায় ২ হাজার সৈন্যের একটি দল এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার অতিরিক্ত সৈন্য ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।
নতুন সেনা মোতায়েন যুদ্ধে বড় কোনও উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয় কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে ‘টাইম’ সাময়িকীতে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার ধার বাড়াতে পারেন তিনি।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, অতিরিক্ত সেনা পাঠানো আসলে ইরানের সঙ্গে দর কষাকষির মার্কিন কৌশল।






















