ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের পতন চাই, তবে বাংলাদেশ-নেপালের মতো নয়: প্রকাশ রাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3

ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের পরিবর্তন চান অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ। তবে সেই পরিবর্তন রাজপথের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নয়, বরং নির্বাচন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রস্তাবিত পদযাত্রার আগে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের ২০২৪ ও নেপালের ২০২৫ সালের সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টানেন।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশ রাজ বলেন, ভারতে বর্তমান সরকারের পরিবর্তন গণতান্ত্রিক উপায়েই ঘটাতে চান তাঁরা। এ লক্ষ্যে উত্তর প্রদেশের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। ভারতের সংবিধান, ভোটাধিকার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন এই অভিনেতা।

দিল্লিতে ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা নিয়ে পদযাত্রার উদ্যোগ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তাঁর এ বক্তব্য আসে। পদযাত্রার আগে কক্‌রোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সরকারের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রকাশ রাজের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে। তাঁর মতে, বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য শোনার পরিবর্তে তাঁদের দমনের চেষ্টা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে নৈরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, নাগরিকদের প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে।

নিজের বক্তব্যে ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা অস্ত্র নিয়ে রাজপথে নামেননি; তাঁদের শক্তি সংবিধান এবং প্রতিবাদের অধিকার। মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও ভগৎ সিংয়ের আদর্শের কথাও উল্লেখ করে তিনি জোর দেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ হতে হবে গণতান্ত্রিক।

জাতীয় পতাকা নিয়ে পদযাত্রার আগে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন প্রকাশ রাজ। তাঁর বক্তব্য, দেশের তরুণেরা জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নিতে চান। অথচ সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে তাঁদের আটক করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভকারীদের ওপর, বিশেষ করে নারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগও তোলেন প্রকাশ রাজ। এ বিষয়ে আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোকে সংসদে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চা এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে প্রকাশ রাজ বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে আরও বেশি মানুষ রাজপথে নামতে পারেন। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারের পতন চাই, তবে বাংলাদেশ-নেপালের মতো নয়: প্রকাশ রাজ

আপডেট সময় : ১১:২৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের পরিবর্তন চান অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ। তবে সেই পরিবর্তন রাজপথের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নয়, বরং নির্বাচন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রস্তাবিত পদযাত্রার আগে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের ২০২৪ ও নেপালের ২০২৫ সালের সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টানেন।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশ রাজ বলেন, ভারতে বর্তমান সরকারের পরিবর্তন গণতান্ত্রিক উপায়েই ঘটাতে চান তাঁরা। এ লক্ষ্যে উত্তর প্রদেশের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। ভারতের সংবিধান, ভোটাধিকার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন এই অভিনেতা।

দিল্লিতে ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা নিয়ে পদযাত্রার উদ্যোগ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তাঁর এ বক্তব্য আসে। পদযাত্রার আগে কক্‌রোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সরকারের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রকাশ রাজের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে। তাঁর মতে, বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য শোনার পরিবর্তে তাঁদের দমনের চেষ্টা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে নৈরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, নাগরিকদের প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে।

নিজের বক্তব্যে ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা অস্ত্র নিয়ে রাজপথে নামেননি; তাঁদের শক্তি সংবিধান এবং প্রতিবাদের অধিকার। মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও ভগৎ সিংয়ের আদর্শের কথাও উল্লেখ করে তিনি জোর দেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ হতে হবে গণতান্ত্রিক।

জাতীয় পতাকা নিয়ে পদযাত্রার আগে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন প্রকাশ রাজ। তাঁর বক্তব্য, দেশের তরুণেরা জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নিতে চান। অথচ সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে তাঁদের আটক করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভকারীদের ওপর, বিশেষ করে নারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগও তোলেন প্রকাশ রাজ। এ বিষয়ে আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোকে সংসদে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চা এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে প্রকাশ রাজ বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে আরও বেশি মানুষ রাজপথে নামতে পারেন। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে