বিশ্বকাপের মহড়ায় লিটনের চোখ শিরোপায়

- আপডেট সময় : ১২:৫১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
সামনে এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বড় দুই মঞ্চে নামার আগে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই প্রস্তুতির প্রথম ধাপ আজ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ। অধিনায়ক লিটন দাসের কাছে এই টুর্নামেন্ট কেবল আরেকটি সিরিজ নয়, বরং বড় আসরের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। প্রস্তুতির পাশাপাশি শিরোপাতেও চোখ তার।
অধিনায়ক হিসেবে এই টুর্নামেন্টকে নিজের জন্যও বড় সুযোগ মনে করছেন লিটন। এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের আগে দলের প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে এটা আমার জন্য বড় সুযোগ। সামনে আমাদের এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ আছে। এশিয়া কাপ বাংলাদেশে হবে। এই ত্রিদেশীয় সিরিজটা তাই আমাদের জন্য সেরা প্রস্তুতির সুযোগ। এশিয়া কাপ ও ত্রিদেশীয় সিরিজের মধ্যে মিল আছে। দুই ক্ষেত্রেই চাপ থাকবে, ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হতে পারি।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে আশার জায়গাও খুঁজে পাচ্ছেন নতুন অধিনায়ক। তার মতে, দলে প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার ভালো সমন্বয় রয়েছে। কয়েকটি সিরিজে ভালো ক্রিকেট খেলার আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার নতুন চ্যালেঞ্জে নামতে চায় দল। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে বিশ্বকাপেও ভালো করার সম্ভাবনা দেখছেন লিটন।
দলের শক্তির জায়গা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকটি ভালো সিরিজ খেলেছি। বিশেষ করে ঘরের মাঠে আমাদের খেলার ধরন ভালো ছিল। এই দলে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছে, পাশাপাশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাও আছেন। আমরা যদি নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে সবকিছুই সম্ভব।’
তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের অতীত খুব একটা সমৃদ্ধ নয়। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেটিই এখন পর্যন্ত এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের একমাত্র শিরোপা। ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফিতে ফাইনালে উঠেও ভারতের কাছে শেষ মুহূর্তে হেরে যেতে হয়েছিল। এমনকি বেশ কয়েকটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও শিরোপা জয়ের ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেনি দল।
এর পেছনে অভিজ্ঞতার ঘাটতিকে অন্যতম কারণ মনে করেন লিটন। দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সঙ্গে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের চাপের পার্থক্যও তুলে ধরেছেন তিনি, ‘আমরা খুব বেশি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলি না। আমি অনেক দিন ধরে খেলছি, কিন্তু এই ধরনের টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা খুব বেশি নেই। ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনটি দলেরই ফাইনালে ওঠার চাপ থাকে। প্রথম ম্যাচ হেরে গেলে রান রেটের হিসাবসহ নানা সমীকরণ চলে আসে, তখন পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে প্রথম ম্যাচ হারলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে।’
অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে অবশ্য পড়ে থাকতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক। বরং ইতিবাচক মানসিকতা ও দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেলেই নতুন শুরুর প্রত্যাশা তার। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব কেবল ওপরের সারির ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না লিটন। ছয়-সাত নম্বর পর্যন্ত যারা খেলবেন, তাদেরও ইনিংস শেষ করার দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘আগে কী হয়েছে, সেটা মাথায় রেখে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি। কিন্তু সব সময় আগের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। আমাদের মানসিকতা ইতিবাচক রাখতে হবে এবং ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হবে। সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। ব্যাটিংয়ে ছয়-সাত নম্বর পর্যন্ত যারা আছি, ওপরের দিক থেকে শুরু করে আমাদের সবার দায়িত্ব থাকবে ইনিংসটা শেষ করে আসার।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের আরেক বড় পরীক্ষা আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ। রশিদ খানদের মতো মানসম্পন্ন স্পিনারদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও আগের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন লিটন। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের পেস আক্রমণকেও সমীহ করছেন তিনি।
প্রতিপক্ষের শক্তি ও নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে লিটন বলেন, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমরা এই প্রথম খেলছি না। অনেক দিন ধরেই তাদের সঙ্গে খেলছি, আমাদের বেশির ভাগ ক্রিকেটারেরই অভিজ্ঞতা আছে। আগের ম্যাচগুলোতে আমাদের যে ঘাটতি ছিল, আশা করি, দেশে থাকা ক্রিকেটাররা তা নিয়ে কাজ করেছে। এখানে এক-দুই দিনের অনুশীলনে যতটুকু সুযোগ পেয়েছি, আমরা নিজেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। আফগানিস্তান ভালো দল। তাদের স্পিন আক্রমণ যেমন ভালো, পেস বোলিংও মানসম্পন্ন।’
ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েও কথা বলেছেন অধিনায়ক। আগে ব্যাটিং কিংবা পরে-দুই পরিস্থিতিতেই ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। রান তাড়ার সময় বড় লক্ষ্য সামনে থাকলে আগ্রাসী হওয়ার চাপ তৈরি হয়। পাশাপাশি ছয় ব্যাটার নিয়ে খেলার ক্ষেত্রে নিচের সারির অবদান কম হলে দলের কাজ কঠিন হয়ে পড়ে। এই জায়গাগুলোতে উন্নতির চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন লিটন।
এদিকে মরুর প্রচণ্ড গরমও তিন দলের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। আবুধাবির কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া এবং শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ কোনো দলের জন্য আলাদা নয়, তিন দলকেই একই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে হবে।
ত্রিদেশীয় সিরিজ
প্রথম ওয়ানডে
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে
ভেন্যু: শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আবুধাবি
শুরু: বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট।
























