মক্কায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, আগে না জানায় তথ্য চেয়ে চিঠি বাংলাদেশের

- আপডেট সময় : ১১:২৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 3
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছে কনস্যুলেটের একটি সূত্র। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠানো হয়।
ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। শুক্রবার বিকেলে কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, বুধবার, ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে যেসব কর্মকাণ্ডকে সৌদি কর্তৃপক্ষ ‘অনৈতিক ও অশালীন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, সেসব ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের এ দণ্ড দেওয়া হয়। প্রকাশিত বিবৃতিতে কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।
গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ও তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে পাঠানো হয়। আদালত শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন। সৌদি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, অপরাধের গুরুত্ব, মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় এ রায় দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে তা কার্যকর করা হয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে মামলাটির বিচার চলছিল। বিচারপ্রক্রিয়ায় দুজন বাংলাদেশি দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁদের ভূমিকা ও অভিযুক্তদের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে আটক কোনো ব্যক্তি অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিলম্ব না করে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয়। আটক ব্যক্তিকে এ অধিকার সম্পর্কেও অবহিত করার বিধান রয়েছে। কনস্যুলার কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ, সাক্ষাৎ এবং আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে পারেন।
নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তাঁদের এ অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়েছিল কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁরা কী ধরনের আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া বিস্তারিত তথ্য এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।




















