ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানে ফিফার শাস্তি, ক্রীড়া আদালতে যাচ্ছে স্পেন

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2

ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের কারণে ফিফার শাস্তির মুখে পড়েছে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। সেই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেও লাভ হয়নি। ফিফার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ক্রীড়া সালিশি আদালতের (সিএএস) দ্বারস্থ হচ্ছে স্পেন।

গত মার্চে মুসলিমপ্রধান দেশ মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে স্পেনের সমর্থকদের একাংশ ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান দেন। ম্যাচটি বার্সেলোনার কাছে আরসিডিই স্টেডিয়ামে গোলশূন্য ড্র হয়।

ওই ঘটনায় গতকাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনকে ২০ হাজার ডলার জরিমানা করে ফিফা। পাশাপাশি স্পেনের পরবর্তী ঘরের মাঠের প্রীতি ম্যাচে গ্যালারির অন্তত ১৫ শতাংশ আসন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থাটি।

ম্যাচে স্পেনের কিছু সমর্থক স্লোগান দেন, ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম।’ দ্বিতীয়বার স্লোগান দেওয়ার পর স্টেডিয়ামের ঘোষক সতর্কবার্তা দেন। স্কোরবোর্ডেও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে বার্তা দেখানো হয়।

স্পেনের মুসলিম ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল তখন এই স্লোগানের নিন্দা জানান। ঘটনাটিকে অসম্মানজনক ও অসহনীয় উল্লেখ করে দায়ীদের অজ্ঞ ও বর্ণবাদী বলেছিলেন তিনি। পরদিনই তদন্ত শুরু করে স্প্যানিশ পুলিশ। পরে স্প্যানিশ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করে ফিফা।

আরএফইএফের যুক্তি ছিল, মুসলিম শব্দটি নিজে অপমানজনক বা অবমাননাকর নয়। তাদের মতে, ঘটনাটি ফিফার বৈষম্য ও বর্ণবাদবিরোধী ১৫ নম্বর ধারার পরিবর্তে রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বার্তাসংক্রান্ত ১৭ নম্বর ধারায় বিবেচনা করা উচিত।

তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। তাদের ব্যাখ্যা, কোনো শব্দ সরাসরি গালিগালাজ না হলেও নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে অপমান, বিদ্রূপ কিংবা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলে তা বৈষম্যমূলক হতে পারে।

শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেছিল স্প্যানিশ ফেডারেশন। তবে গত সপ্তাহে সেই আপিলও খারিজ হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে ফিফার এক মুখপাত্র। এরপরই সিএএসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরএফইএফ।

ফেডারেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে আরএফইএফ-এর অবস্থান ছিল, ঘটনাটি সম্পর্কে জানার পর থেকেই তারা দ্রুত, সতর্কতার সঙ্গে এবং কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ছাড়া, নেওয়া পদক্ষেপগুলোর ফলে স্লোগানগুলো আর পুনরাবৃত্তি হয়নি এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকেরাও নিজেরাই এ ধরনের আচরণের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’

ফেডারেশনটির ওই কর্মকর্তা জানান, তাদের বিবেচনায় শাস্তিটি অত্যন্ত কঠোর। তাদের যুক্তি, আরও গুরুতর কিছু ঘটনা কিংবা আগেও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে—এমন ক্ষেত্রেও একই ধরনের গ্যালারি বন্ধ রাখার নির্দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়নি।

আরএফইএফের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণব্যবস্থায় স্লোগানটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই ম্যাচ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট গ্যালারি অংশে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। দায়ীদের শনাক্ত করতে কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে ফেডারেশন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানে ফিফার শাস্তি, ক্রীড়া আদালতে যাচ্ছে স্পেন

আপডেট সময় : ১২:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের কারণে ফিফার শাস্তির মুখে পড়েছে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। সেই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেও লাভ হয়নি। ফিফার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ক্রীড়া সালিশি আদালতের (সিএএস) দ্বারস্থ হচ্ছে স্পেন।

গত মার্চে মুসলিমপ্রধান দেশ মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে স্পেনের সমর্থকদের একাংশ ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান দেন। ম্যাচটি বার্সেলোনার কাছে আরসিডিই স্টেডিয়ামে গোলশূন্য ড্র হয়।

ওই ঘটনায় গতকাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনকে ২০ হাজার ডলার জরিমানা করে ফিফা। পাশাপাশি স্পেনের পরবর্তী ঘরের মাঠের প্রীতি ম্যাচে গ্যালারির অন্তত ১৫ শতাংশ আসন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থাটি।

ম্যাচে স্পেনের কিছু সমর্থক স্লোগান দেন, ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম।’ দ্বিতীয়বার স্লোগান দেওয়ার পর স্টেডিয়ামের ঘোষক সতর্কবার্তা দেন। স্কোরবোর্ডেও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে বার্তা দেখানো হয়।

স্পেনের মুসলিম ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল তখন এই স্লোগানের নিন্দা জানান। ঘটনাটিকে অসম্মানজনক ও অসহনীয় উল্লেখ করে দায়ীদের অজ্ঞ ও বর্ণবাদী বলেছিলেন তিনি। পরদিনই তদন্ত শুরু করে স্প্যানিশ পুলিশ। পরে স্প্যানিশ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করে ফিফা।

আরএফইএফের যুক্তি ছিল, মুসলিম শব্দটি নিজে অপমানজনক বা অবমাননাকর নয়। তাদের মতে, ঘটনাটি ফিফার বৈষম্য ও বর্ণবাদবিরোধী ১৫ নম্বর ধারার পরিবর্তে রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বার্তাসংক্রান্ত ১৭ নম্বর ধারায় বিবেচনা করা উচিত।

তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। তাদের ব্যাখ্যা, কোনো শব্দ সরাসরি গালিগালাজ না হলেও নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে অপমান, বিদ্রূপ কিংবা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলে তা বৈষম্যমূলক হতে পারে।

শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেছিল স্প্যানিশ ফেডারেশন। তবে গত সপ্তাহে সেই আপিলও খারিজ হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে ফিফার এক মুখপাত্র। এরপরই সিএএসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরএফইএফ।

ফেডারেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে আরএফইএফ-এর অবস্থান ছিল, ঘটনাটি সম্পর্কে জানার পর থেকেই তারা দ্রুত, সতর্কতার সঙ্গে এবং কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ছাড়া, নেওয়া পদক্ষেপগুলোর ফলে স্লোগানগুলো আর পুনরাবৃত্তি হয়নি এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকেরাও নিজেরাই এ ধরনের আচরণের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’

ফেডারেশনটির ওই কর্মকর্তা জানান, তাদের বিবেচনায় শাস্তিটি অত্যন্ত কঠোর। তাদের যুক্তি, আরও গুরুতর কিছু ঘটনা কিংবা আগেও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে—এমন ক্ষেত্রেও একই ধরনের গ্যালারি বন্ধ রাখার নির্দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়নি।

আরএফইএফের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণব্যবস্থায় স্লোগানটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই ম্যাচ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট গ্যালারি অংশে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। দায়ীদের শনাক্ত করতে কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে ফেডারেশন।