ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিম্বাবুয়ের কাছে আবার হারল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৮:৪৮ অপরাহ্ন, রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

শুরুটা ছিল দারুণ। প্রথম ১০ ওভারে ৬৬ রান তুলে জয়ের আশাও জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরই ছন্দপতন। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় দল। শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানের বড় হার দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ।

আবু ধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৩৮ বলে ৪৬ রান করা তানজিদ হাসানের বিদায়ের পর আর কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ চার ম্যাচের তিনটিই হারল বাংলাদেশ।

তানজিদ অবশ্য একবার জীবন পেয়েছিলেন। থার্ড ম্যান সীমানায় ব্লেসিং মুজারাবানির ক্যাচ ফসকে যাওয়ার পরের বলেই ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও একটি ছক্কা। সৌম্য সরকার (১৭) ও নাজমুল হোসেন শান্তও (৫) দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর তাওহিদ হৃদয় ও সাইফ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু জিম্বাবুয়ের স্পিন আক্রমণ শুরু হতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে বারবার পেছনের পায়ে খেলতে গিয়ে উইকেট হারান বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন ও সাইফ- তিনজনই ফেরেন ব্যাকফুটে খেলে। নুরুল হাসান সোহানও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বিপরীতে স্পিন সামলানোর কৌশল দেখিয়েছেন জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলর ও ক্রেইগ আরভাইন। সামনের পায়ে সুইপ ও রিভার্স সুইপ খেলে বাংলাদেশের স্পিনারদের চাপে রেখেছেন তারা। দুজনের ১৫০ রানের জুটিই মূলত ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদের তোপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথম সাত ওভারে মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারায় দলটি। ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও অভিষিক্ত টাফাডজোয়া সিগাকে ফিরিয়ে নিজের প্রথম চার ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তাসকিন।

সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন টেইলর ও আরভাইন। অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান চতুর্থ উইকেটে ১৭৬ বলে যোগ করেন ১৫০ রান। ১০ চারে ১০১ বলে ৮০ রান করেন টেইলর। এই ইনিংসের পথে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে ছাড়িয়ে জিম্বাবুয়ের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হন তিনি।

অন্য প্রান্তে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন আরভাইন। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে শরিফুল ইসলামের বলে কট বিহাইন্ড হওয়ার আগে ৯৩ রান করেন ৪১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।

শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে আড়াইশর মধ্যে আটকে রাখার সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ চার ওভারে এলোমেলো বোলিংয়ে রান বিলিয়ে দেন তাসকিন ও মোস্তাফিজুর রহমান। নবম উইকেটে ২৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রান যোগ করেন নিউম্যান নিয়ামুরি ও মাসাকাদজা। শেষ পর্যন্ত ২৭১ রান তোলে জিম্বাবুয়ে।

ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হিসেবে আগের নয় ম্যাচে জয় না পাওয়া রাজা এবার পেলেন প্রথম জয়ের স্বাদ। ব্যাট হাতে ১০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ও সাইফ নেন দুটি করে উইকেট।

সবশেষ পাঁচ ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ হার। ২৪০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ ১০ ম্যাচের আটটিতেই হারল দলটি।

ত্রিদেশীয় সিরিজের পরের ম্যাচে সোমবার একই মাঠে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ খেলবে বুধবার, শারজাহতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জিম্বাবুয়ের কাছে আবার হারল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১২:১৮:৪৮ অপরাহ্ন, রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

শুরুটা ছিল দারুণ। প্রথম ১০ ওভারে ৬৬ রান তুলে জয়ের আশাও জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরই ছন্দপতন। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় দল। শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানের বড় হার দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ।

আবু ধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৩৮ বলে ৪৬ রান করা তানজিদ হাসানের বিদায়ের পর আর কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ চার ম্যাচের তিনটিই হারল বাংলাদেশ।

তানজিদ অবশ্য একবার জীবন পেয়েছিলেন। থার্ড ম্যান সীমানায় ব্লেসিং মুজারাবানির ক্যাচ ফসকে যাওয়ার পরের বলেই ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও একটি ছক্কা। সৌম্য সরকার (১৭) ও নাজমুল হোসেন শান্তও (৫) দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এরপর তাওহিদ হৃদয় ও সাইফ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু জিম্বাবুয়ের স্পিন আক্রমণ শুরু হতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে বারবার পেছনের পায়ে খেলতে গিয়ে উইকেট হারান বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন ও সাইফ- তিনজনই ফেরেন ব্যাকফুটে খেলে। নুরুল হাসান সোহানও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বিপরীতে স্পিন সামলানোর কৌশল দেখিয়েছেন জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলর ও ক্রেইগ আরভাইন। সামনের পায়ে সুইপ ও রিভার্স সুইপ খেলে বাংলাদেশের স্পিনারদের চাপে রেখেছেন তারা। দুজনের ১৫০ রানের জুটিই মূলত ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদের তোপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথম সাত ওভারে মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারায় দলটি। ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও অভিষিক্ত টাফাডজোয়া সিগাকে ফিরিয়ে নিজের প্রথম চার ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তাসকিন।

সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন টেইলর ও আরভাইন। অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান চতুর্থ উইকেটে ১৭৬ বলে যোগ করেন ১৫০ রান। ১০ চারে ১০১ বলে ৮০ রান করেন টেইলর। এই ইনিংসের পথে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে ছাড়িয়ে জিম্বাবুয়ের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হন তিনি।

অন্য প্রান্তে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন আরভাইন। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে শরিফুল ইসলামের বলে কট বিহাইন্ড হওয়ার আগে ৯৩ রান করেন ৪১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।

শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে আড়াইশর মধ্যে আটকে রাখার সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ চার ওভারে এলোমেলো বোলিংয়ে রান বিলিয়ে দেন তাসকিন ও মোস্তাফিজুর রহমান। নবম উইকেটে ২৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রান যোগ করেন নিউম্যান নিয়ামুরি ও মাসাকাদজা। শেষ পর্যন্ত ২৭১ রান তোলে জিম্বাবুয়ে।

ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হিসেবে আগের নয় ম্যাচে জয় না পাওয়া রাজা এবার পেলেন প্রথম জয়ের স্বাদ। ব্যাট হাতে ১০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ও সাইফ নেন দুটি করে উইকেট।

সবশেষ পাঁচ ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ হার। ২৪০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ ১০ ম্যাচের আটটিতেই হারল দলটি।

ত্রিদেশীয় সিরিজের পরের ম্যাচে সোমবার একই মাঠে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ খেলবে বুধবার, শারজাহতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।