ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশে ফুল ফান্ড স্কলারশিপ, আবেদনের সময় ও বিস্তারিত

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0

২০২৭ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। বৃত্তি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেয়, কোনোটির অর্থায়ন সীমিত মেয়াদের। আবার আবেদনের সময়সীমা নির্ভর করে কোর্স, বিশ্ববিদ্যালয় ও আবেদনকারীর দেশের ওপর।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকার কয়েকটি সময়সীমায় সংশোধনও প্রয়োজন। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ ও ইপিএফএলের বৃত্তিতে আবেদন করতে ডিসেম্বর কিংবা এপ্রিল পর্যন্ত সময় আছে ধরে অপেক্ষা করলে সুযোগ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

ইটিএইচ জুরিখের এক্সেলেন্স স্কলারশিপ অ্যান্ড অপরচুনিটি প্রোগ্রামে ২০২৭ সালের শরৎকালীন মাস্টার্সের জন্য আবেদন নেওয়া হবে ২০২৬ সালের ১ থেকে ৩০ নভেম্বর। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের এই আবেদনপর্ব অনুসরণ করতে হবে। ফলে তালিকায় উল্লেখ করা নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়সীমাটি যথাযথ নয়।

ইপিএফএল মাস্টার এক্সেলেন্স ফেলোশিপের ২০২৭ সালের নির্দেশনায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। বৃত্তির বিবেচনায় আসতে মাস্টার্সের প্রথম আবেদনপর্বে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা, ফি পরিশোধ ও আবেদন চূড়ান্ত করতে হবে। পরে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন বিবেচিত হলেও এই ফেলোশিপের যোগ্যতা থাকবে না। বৃত্তিটিতে প্রতি সেমিস্টারে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ দেওয়া হয়, সর্বোচ্চ চার সেমিস্টার পর্যন্ত। এটিকে সব খরচ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট হেনেসি স্কলার্সের ২০২৭ সালের আবেদন ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকাশিত সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর। এই বৃত্তির পাশাপাশি স্ট্যানফোর্ডের সংশ্লিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামেও আলাদা আবেদন করতে হয়। অর্থাৎ বৃত্তিতে আবেদন করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন সম্পন্ন হয় না।

ইউরোপের ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্সের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ কোর্সে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হয়। তবে এটি সব কোর্সের অভিন্ন সময়সীমা নয়। প্রতিটি মাস্টার্সের নিজস্ব ভর্তি ও বৃত্তির নির্দেশনা রয়েছে।

জার্মানির ডাডকে একটি নির্দিষ্ট বৃত্তি হিসেবে দেখাও বিভ্রান্তিকর। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে, যার একটি হলো উন্নয়নসংশ্লিষ্ট পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের ইপস বৃত্তি। ইপসের আবেদনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কোর্স অনুযায়ী আলাদা। তাই ডাডের জন্য আগস্ট থেকে নভেম্বর কিংবা ইপসের জন্য আগস্ট থেকে মার্চকে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সময়সীমা ধরা যাবে না।

ফ্রান্সের আইফেল এক্সেলেন্স বৃত্তিতে শিক্ষার্থী সরাসরি ক্যাম্পাস ফ্রান্সে আবেদন করেন না। ফরাসি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে আবেদন জমা দেয়। ২০২৭ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন জমার শেষ সময় ৬ জানুয়ারি। তবে শিক্ষার্থী বাছাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সময়সীমা এর আগেই হতে পারে।

আইফেলের অর্থায়ন নিয়েও স্পষ্ট ধারণা প্রয়োজন। ক্যাম্পাস ফ্রান্স জানিয়েছে, বৃত্তি থেকে সরাসরি টিউশন ফি দেওয়া হয় না। তবে নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ডিগ্রিতে ফরাসি সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রযোজ্য নিয়মে টিউশন ফি থেকে ছাড় পেতে পারেন। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সব কোর্সের খরচ একইভাবে মওকুফ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

নেদারল্যান্ডসের এনএল স্কলারশিপকে পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি বলা স্পষ্টতই ভুল। সরকারি উচ্চশিক্ষা তথ্যসেবা স্টাডি ইন এনএল জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহনকারী বৃত্তি নয়। আবেদনের শেষ সময়ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

যুক্তরাজ্যের গ্রেট স্কলারশিপও সব খরচ বহন করে না। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে এক বছরের নির্দিষ্ট পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের টিউশন ফিতে ১০ হাজার পাউন্ড সহায়তা দেওয়া হয়। আবেদনের সময়সীমা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা।

হাঙ্গেরির স্টিপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম টিউশন ফি, ভাতা ও আবাসনসংক্রান্ত সহায়তা দিলেও আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই সুবিধা জীবনযাপনের সব খরচ মেটায় না। শিক্ষার্থীকে নিজের অর্থ থেকেও ব্যয় করতে হতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরির বাইরে থাকলে আবাসন সহায়তা দিয়ে পুরো ভাড়া মেটানো নাও যেতে পারে।

আয়ারল্যান্ডের গভর্নমেন্ট অব আয়ারল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন স্কলারশিপের প্রকাশিত কাঠামো অনুযায়ী, এক বছরের জন্য ১০ হাজার ইউরো ভাতা ও ওই বছরের পূর্ণ ফি মওকুফের সুবিধা রয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি পিএইচডির পুরো সময়ের অর্থায়ন নয়। ফলে ডিগ্রির মেয়াদ বেশি হলে পরবর্তী সময়ের অর্থের ব্যবস্থা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ল্যারেন্ডন বৃত্তিতে সাধারণত আলাদা আবেদন লাগে না। সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স বা ডিফিল কোর্সের ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারির অর্থায়নসংক্রান্ত সময়সীমার মধ্যে ভর্তি আবেদন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। তাই শুধু জানুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে ধরে না নিয়ে নিজের কোর্সের নির্দিষ্ট তারিখ দেখা প্রয়োজন।

কমনওয়েলথ মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির ক্ষেত্রে কমিশনের আবেদনপদ্ধতির পাশাপাশি মনোনয়নকারী সংস্থার প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হয়। কমনওয়েলথ শেয়ার্ড বৃত্তিতে আবার অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রার্থী বাছাই করে। তিনটি কর্মসূচিকে একই আবেদনপদ্ধতি বা সময়সীমার মধ্যে ফেলা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামেও সব পর্যায়ের জন্য অভিন্ন পূর্ণ বৃত্তি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্র্যাজুয়েট স্কুল জানিয়েছে, অধিকাংশ মাস্টার্স শিক্ষার্থী সেখান থেকে আর্থিক সহায়তা পান না এবং নিজ দায়িত্বে টিউশন ফি দেন। পিএইচডির অর্থায়ন কাঠামো আলাদা। ফলে ‘ইয়েল ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ’ নাম দেখেই মাস্টার্সে পূর্ণ অর্থায়ন নিশ্চিত ধরে নেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের যোগ্যতা। আন্তর্জাতিক বৃত্তি মানেই সব দেশের নাগরিক আবেদন করতে পারবেন, এমন নয়। যেমন বেলজিয়ামের ভিএলআইআর ইউওএসের আইসিপি কানেক্ট বৃত্তিতে নির্ধারিত দেশের নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্ত রয়েছে। তাই অর্থায়ন ও সময়সীমা দেখার আগেই নিজের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

বৃত্তির প্রস্তুতিতে তাই নামের তালিকার চেয়ে প্রয়োজন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের তথ্য। কোন ডিগ্রির জন্য সুযোগ, বাংলাদেশিরা যোগ্য কি না, অর্থায়ন কত বছরের, টিউশন ও জীবনযাপনের কতটুকু খরচ মিটবে এবং ভর্তি ও বৃত্তির জন্য পৃথক আবেদন লাগবে কি না, এসব মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আনুমানিক মাসভিত্তিক তালিকা প্রস্তুতির ধারণা দিতে পারে, তবে আবেদন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমার বিকল্প হতে পারে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদেশে ফুল ফান্ড স্কলারশিপ, আবেদনের সময় ও বিস্তারিত

আপডেট সময় : ০১:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

২০২৭ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। বৃত্তি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেয়, কোনোটির অর্থায়ন সীমিত মেয়াদের। আবার আবেদনের সময়সীমা নির্ভর করে কোর্স, বিশ্ববিদ্যালয় ও আবেদনকারীর দেশের ওপর।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকার কয়েকটি সময়সীমায় সংশোধনও প্রয়োজন। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ ও ইপিএফএলের বৃত্তিতে আবেদন করতে ডিসেম্বর কিংবা এপ্রিল পর্যন্ত সময় আছে ধরে অপেক্ষা করলে সুযোগ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

ইটিএইচ জুরিখের এক্সেলেন্স স্কলারশিপ অ্যান্ড অপরচুনিটি প্রোগ্রামে ২০২৭ সালের শরৎকালীন মাস্টার্সের জন্য আবেদন নেওয়া হবে ২০২৬ সালের ১ থেকে ৩০ নভেম্বর। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের এই আবেদনপর্ব অনুসরণ করতে হবে। ফলে তালিকায় উল্লেখ করা নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়সীমাটি যথাযথ নয়।

ইপিএফএল মাস্টার এক্সেলেন্স ফেলোশিপের ২০২৭ সালের নির্দেশনায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। বৃত্তির বিবেচনায় আসতে মাস্টার্সের প্রথম আবেদনপর্বে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা, ফি পরিশোধ ও আবেদন চূড়ান্ত করতে হবে। পরে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন বিবেচিত হলেও এই ফেলোশিপের যোগ্যতা থাকবে না। বৃত্তিটিতে প্রতি সেমিস্টারে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ দেওয়া হয়, সর্বোচ্চ চার সেমিস্টার পর্যন্ত। এটিকে সব খরচ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট হেনেসি স্কলার্সের ২০২৭ সালের আবেদন ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকাশিত সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর। এই বৃত্তির পাশাপাশি স্ট্যানফোর্ডের সংশ্লিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামেও আলাদা আবেদন করতে হয়। অর্থাৎ বৃত্তিতে আবেদন করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন সম্পন্ন হয় না।

ইউরোপের ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্সের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ কোর্সে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হয়। তবে এটি সব কোর্সের অভিন্ন সময়সীমা নয়। প্রতিটি মাস্টার্সের নিজস্ব ভর্তি ও বৃত্তির নির্দেশনা রয়েছে।

জার্মানির ডাডকে একটি নির্দিষ্ট বৃত্তি হিসেবে দেখাও বিভ্রান্তিকর। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে, যার একটি হলো উন্নয়নসংশ্লিষ্ট পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের ইপস বৃত্তি। ইপসের আবেদনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কোর্স অনুযায়ী আলাদা। তাই ডাডের জন্য আগস্ট থেকে নভেম্বর কিংবা ইপসের জন্য আগস্ট থেকে মার্চকে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সময়সীমা ধরা যাবে না।

ফ্রান্সের আইফেল এক্সেলেন্স বৃত্তিতে শিক্ষার্থী সরাসরি ক্যাম্পাস ফ্রান্সে আবেদন করেন না। ফরাসি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে আবেদন জমা দেয়। ২০২৭ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন জমার শেষ সময় ৬ জানুয়ারি। তবে শিক্ষার্থী বাছাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সময়সীমা এর আগেই হতে পারে।

আইফেলের অর্থায়ন নিয়েও স্পষ্ট ধারণা প্রয়োজন। ক্যাম্পাস ফ্রান্স জানিয়েছে, বৃত্তি থেকে সরাসরি টিউশন ফি দেওয়া হয় না। তবে নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ডিগ্রিতে ফরাসি সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রযোজ্য নিয়মে টিউশন ফি থেকে ছাড় পেতে পারেন। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সব কোর্সের খরচ একইভাবে মওকুফ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

নেদারল্যান্ডসের এনএল স্কলারশিপকে পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি বলা স্পষ্টতই ভুল। সরকারি উচ্চশিক্ষা তথ্যসেবা স্টাডি ইন এনএল জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহনকারী বৃত্তি নয়। আবেদনের শেষ সময়ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

যুক্তরাজ্যের গ্রেট স্কলারশিপও সব খরচ বহন করে না। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে এক বছরের নির্দিষ্ট পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের টিউশন ফিতে ১০ হাজার পাউন্ড সহায়তা দেওয়া হয়। আবেদনের সময়সীমা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা।

হাঙ্গেরির স্টিপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম টিউশন ফি, ভাতা ও আবাসনসংক্রান্ত সহায়তা দিলেও আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই সুবিধা জীবনযাপনের সব খরচ মেটায় না। শিক্ষার্থীকে নিজের অর্থ থেকেও ব্যয় করতে হতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরির বাইরে থাকলে আবাসন সহায়তা দিয়ে পুরো ভাড়া মেটানো নাও যেতে পারে।

আয়ারল্যান্ডের গভর্নমেন্ট অব আয়ারল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন স্কলারশিপের প্রকাশিত কাঠামো অনুযায়ী, এক বছরের জন্য ১০ হাজার ইউরো ভাতা ও ওই বছরের পূর্ণ ফি মওকুফের সুবিধা রয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি পিএইচডির পুরো সময়ের অর্থায়ন নয়। ফলে ডিগ্রির মেয়াদ বেশি হলে পরবর্তী সময়ের অর্থের ব্যবস্থা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ল্যারেন্ডন বৃত্তিতে সাধারণত আলাদা আবেদন লাগে না। সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স বা ডিফিল কোর্সের ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারির অর্থায়নসংক্রান্ত সময়সীমার মধ্যে ভর্তি আবেদন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। তাই শুধু জানুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে ধরে না নিয়ে নিজের কোর্সের নির্দিষ্ট তারিখ দেখা প্রয়োজন।

কমনওয়েলথ মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির ক্ষেত্রে কমিশনের আবেদনপদ্ধতির পাশাপাশি মনোনয়নকারী সংস্থার প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হয়। কমনওয়েলথ শেয়ার্ড বৃত্তিতে আবার অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রার্থী বাছাই করে। তিনটি কর্মসূচিকে একই আবেদনপদ্ধতি বা সময়সীমার মধ্যে ফেলা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামেও সব পর্যায়ের জন্য অভিন্ন পূর্ণ বৃত্তি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্র্যাজুয়েট স্কুল জানিয়েছে, অধিকাংশ মাস্টার্স শিক্ষার্থী সেখান থেকে আর্থিক সহায়তা পান না এবং নিজ দায়িত্বে টিউশন ফি দেন। পিএইচডির অর্থায়ন কাঠামো আলাদা। ফলে ‘ইয়েল ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ’ নাম দেখেই মাস্টার্সে পূর্ণ অর্থায়ন নিশ্চিত ধরে নেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের যোগ্যতা। আন্তর্জাতিক বৃত্তি মানেই সব দেশের নাগরিক আবেদন করতে পারবেন, এমন নয়। যেমন বেলজিয়ামের ভিএলআইআর ইউওএসের আইসিপি কানেক্ট বৃত্তিতে নির্ধারিত দেশের নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্ত রয়েছে। তাই অর্থায়ন ও সময়সীমা দেখার আগেই নিজের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

বৃত্তির প্রস্তুতিতে তাই নামের তালিকার চেয়ে প্রয়োজন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের তথ্য। কোন ডিগ্রির জন্য সুযোগ, বাংলাদেশিরা যোগ্য কি না, অর্থায়ন কত বছরের, টিউশন ও জীবনযাপনের কতটুকু খরচ মিটবে এবং ভর্তি ও বৃত্তির জন্য পৃথক আবেদন লাগবে কি না, এসব মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আনুমানিক মাসভিত্তিক তালিকা প্রস্তুতির ধারণা দিতে পারে, তবে আবেদন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমার বিকল্প হতে পারে না।