ঢাকা ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ধর্ম আলাদা হলেও রাষ্ট্র সবার। প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ সবার। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক নাগরিকের যেমন দেশের প্রতি অধিকার রয়েছে, তেমনি রয়েছে কর্তব্য। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর নাগরিকদের দায়িত্ব পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়ে দেশের অগ্রগতিতে কাজ করা।

তিনি বলেন, সবাই এ দেশের সন্তান ও বাংলাদেশি। মানুষ হিসেবে পরিচয়ই সবার আগে। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও রাষ্ট্রের অধিকার ও দায়িত্ব সবার জন্য সমান।

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য মানুষ যখন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান, তা বিবেচনা করা হয়নি। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় উপেক্ষা করে একসঙ্গে রাজপথে নেমেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তারা কেউ পরস্পরের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করেছেন।

তিনি বলেন, জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভেও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি রয়েছে। দেশের পরিবর্তন হলে সব নাগরিকই উপকৃত হবেন। আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে ক্ষতি হয় না। মানুষ হিসেবে সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী সবাইকে মানুষ ও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরস্পরকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এ আয়োজন আনন্দ ও মিলনমেলার উপলক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ধর্ম আলাদা হলেও রাষ্ট্র সবার। প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ সবার। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক নাগরিকের যেমন দেশের প্রতি অধিকার রয়েছে, তেমনি রয়েছে কর্তব্য। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর নাগরিকদের দায়িত্ব পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়ে দেশের অগ্রগতিতে কাজ করা।

তিনি বলেন, সবাই এ দেশের সন্তান ও বাংলাদেশি। মানুষ হিসেবে পরিচয়ই সবার আগে। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও রাষ্ট্রের অধিকার ও দায়িত্ব সবার জন্য সমান।

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য মানুষ যখন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান, তা বিবেচনা করা হয়নি। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় উপেক্ষা করে একসঙ্গে রাজপথে নেমেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তারা কেউ পরস্পরের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করেছেন।

তিনি বলেন, জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভেও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি রয়েছে। দেশের পরিবর্তন হলে সব নাগরিকই উপকৃত হবেন। আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে ক্ষতি হয় না। মানুষ হিসেবে সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী সবাইকে মানুষ ও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরস্পরকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এ আয়োজন আনন্দ ও মিলনমেলার উপলক্ষ।