ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে ২৪ ক্যারেট সোনার রাস্তা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 81

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তৈরি হতে যাচ্ছে ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে বিশেষভাবে নির্মিত একটি হাঁটার পথ। বিশ্বের দীর্ঘতম সোনার ওয়াকওয়ে হিসেবে এটি চালুর পরিকল্পনা করেছে দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের শেষ নাগাদ পথটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই আকর্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও স্বর্ণ ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ টুডের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের বাণিজ্যিক বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর রশিদ আল হারমুদি জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে ওয়াকওয়েটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর দাবি, ২৪ ক্যারেট সোনার তৈরি এ ধরনের হাঁটার পথ বিশ্বে এটিই প্রথম এবং দীর্ঘতম হবে। তবে পথটির নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য, নির্মাণব্যয় এবং কত পরিমাণ সোনা ব্যবহার করা হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই ওয়াকওয়ে দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকেরাও বিশেষভাবে তৈরি সোনার পথে হাঁটার অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। একই সঙ্গে স্বর্ণ ও অলংকারের আন্তর্জাতিক বাজারে দুবাইয়ের পরিচিতি আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে এই প্রকল্পের।

রশিদ আল হারমুদি আরও জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে পাইকারি স্বর্ণ ব্যবসায়িক অফিসের সংখ্যা ২০ শতাংশ বেড়েছে। স্বর্ণ, অলংকার, মূল্যবান পাথর ও বিলাসবহুল ঘড়ির নতুন দোকানের সংখ্যা বেড়েছে ১৫ শতাংশ। আগামী এক বছরে আরও ১০ থেকে ২০ শতাংশ নতুন প্রতিষ্ঠান এই এলাকায় কার্যক্রম শুরু করতে পারে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সোনার ওয়াকওয়ে নির্মাণের ঘোষণার সময় দুবাইয়ে আরও দুটি বিশ্বরেকর্ডের খবর সামনে এসেছে। বিখ্যাত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জোয়ালুক্কাস তৈরি করেছে ২২ ক্যারেট সোনার একজোড়া বিশাল ঝুমকা, যার মোট ওজন ১৬ দশমিক ৫১৪ কেজি। বিশ্বের সবচেয়ে ভারী এবং সবচেয়ে বড় একজোড়া কানের দুল হিসেবে এটি দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছে।

ময়ূরের নকশায় তৈরি বিশেষ এই অলংকারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ময়ূরা সহস্র’, যার অর্থ এক হাজার ময়ূর। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী ঝুমকা নকশা অনুসরণ করে দক্ষ কারিগরেরা কয়েক মাস ধরে এটি তৈরি করেছেন। গত ২৪ অক্টোবর দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অলংকারটি উন্মোচন করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ও পর্যটনমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মারি।

জোয়ালুক্কাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বরেকর্ড গড়া এই অলংকার বিক্রি করা হবে না। শিল্পকর্ম হিসেবে এটি দুবাইয়ের জুয়েল অব জয় শোরুমে স্থায়ীভাবে প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে। ফলে পর্যটকেরা কাছ থেকে বিশাল সোনার ঝুমকাটি দেখার সুযোগ পাবেন।

দুবাই দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণ ও অলংকার ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এবার সোনার ওয়াকওয়ে এবং বিশ্বরেকর্ড গড়া অলংকারের মতো নতুন আকর্ষণ যুক্ত করে শহরটিকে স্বর্ণ ব্যবসার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে ২৪ ক্যারেট সোনার রাস্তা!

আপডেট সময় : ০২:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তৈরি হতে যাচ্ছে ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে বিশেষভাবে নির্মিত একটি হাঁটার পথ। বিশ্বের দীর্ঘতম সোনার ওয়াকওয়ে হিসেবে এটি চালুর পরিকল্পনা করেছে দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের শেষ নাগাদ পথটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই আকর্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও স্বর্ণ ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ টুডের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের বাণিজ্যিক বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর রশিদ আল হারমুদি জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে ওয়াকওয়েটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর দাবি, ২৪ ক্যারেট সোনার তৈরি এ ধরনের হাঁটার পথ বিশ্বে এটিই প্রথম এবং দীর্ঘতম হবে। তবে পথটির নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য, নির্মাণব্যয় এবং কত পরিমাণ সোনা ব্যবহার করা হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই ওয়াকওয়ে দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকেরাও বিশেষভাবে তৈরি সোনার পথে হাঁটার অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। একই সঙ্গে স্বর্ণ ও অলংকারের আন্তর্জাতিক বাজারে দুবাইয়ের পরিচিতি আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে এই প্রকল্পের।

রশিদ আল হারমুদি আরও জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে পাইকারি স্বর্ণ ব্যবসায়িক অফিসের সংখ্যা ২০ শতাংশ বেড়েছে। স্বর্ণ, অলংকার, মূল্যবান পাথর ও বিলাসবহুল ঘড়ির নতুন দোকানের সংখ্যা বেড়েছে ১৫ শতাংশ। আগামী এক বছরে আরও ১০ থেকে ২০ শতাংশ নতুন প্রতিষ্ঠান এই এলাকায় কার্যক্রম শুরু করতে পারে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সোনার ওয়াকওয়ে নির্মাণের ঘোষণার সময় দুবাইয়ে আরও দুটি বিশ্বরেকর্ডের খবর সামনে এসেছে। বিখ্যাত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জোয়ালুক্কাস তৈরি করেছে ২২ ক্যারেট সোনার একজোড়া বিশাল ঝুমকা, যার মোট ওজন ১৬ দশমিক ৫১৪ কেজি। বিশ্বের সবচেয়ে ভারী এবং সবচেয়ে বড় একজোড়া কানের দুল হিসেবে এটি দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছে।

ময়ূরের নকশায় তৈরি বিশেষ এই অলংকারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ময়ূরা সহস্র’, যার অর্থ এক হাজার ময়ূর। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী ঝুমকা নকশা অনুসরণ করে দক্ষ কারিগরেরা কয়েক মাস ধরে এটি তৈরি করেছেন। গত ২৪ অক্টোবর দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অলংকারটি উন্মোচন করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ও পর্যটনমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মারি।

জোয়ালুক্কাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বরেকর্ড গড়া এই অলংকার বিক্রি করা হবে না। শিল্পকর্ম হিসেবে এটি দুবাইয়ের জুয়েল অব জয় শোরুমে স্থায়ীভাবে প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে। ফলে পর্যটকেরা কাছ থেকে বিশাল সোনার ঝুমকাটি দেখার সুযোগ পাবেন।

দুবাই দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণ ও অলংকার ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এবার সোনার ওয়াকওয়ে এবং বিশ্বরেকর্ড গড়া অলংকারের মতো নতুন আকর্ষণ যুক্ত করে শহরটিকে স্বর্ণ ব্যবসার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।