ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেঁপে উঠছে পৃথিবী, রহস্য কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 14

ঠিক প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর কেঁপে উঠছে পৃথিবী সৃষ্টি হচ্ছে এক ধরনের ছন্দময় কম্পন। এতটাই সূক্ষ্ম এই কম্পন যে মানুষ তা অনুভব করতে পারে না। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাপিত সংবেদনশীল ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্রে ধরা পড়েছে এই অদ্ভুত সংকেত। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই রহস্যময় স্পন্দনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। খবর এনডিটিভির।

এই অদ্ভুত ভূকম্পন প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী জ্যাক অলিভার। তিনি লক্ষ করেন, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের সিসমোমিটারে নিয়মিত বিরতিতে একটি বিশেষ কম্পন ধরা পড়ছে। পরবর্তী পর্যবেক্ষণে এর উৎস নিরক্ষীয় আটলান্টিক মহাসাগরের কোনো একটি অঞ্চলে বলে ধারণা করা হয়। বছরের নির্দিষ্ট কিছু মৌসুমে এই কম্পনের তীব্রতাও বেড়ে যায়।

তবে সে সময়ের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অলিভারের গবেষণা খুব বেশি দূর এগোয়নি। ফলে রহস্যটি অনেকটা আড়ালেই থেকে যায়।

২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের গবেষকেরা ডিজিটাল ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আবারও এই অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করেন।

গবেষক মাইক রিটজওলারের ভাষায়, তারা এমন একটি সংকেত দেখতে পান, যা ছিল অস্বাভাবিক, ধারাবাহিক এবং দীর্ঘস্থায়ী। পরবর্তী গবেষণায় তারা এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলবর্তী গিনি উপসাগরকে চিহ্নিত করেন।

এরপর থেকেই পৃথিবীর এই রহস্যময় ‘হার্টবিট’ নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু হয়। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত এই কম্পনের উৎস সম্পর্কে কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে কোনোটিই এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

একটি ধারণা অনুযায়ী, সমুদ্রের শক্তিশালী ঢেউ মহাসাগরের তলদেশে অবস্থিত মহীসোপানে আঘাত করার ফলে এই কম্পনের সৃষ্টি হতে পারে। বিষয়টি অনেকটা এমন; একটি টেবিলের এক প্রান্তে কেউ আঘাত করলে অন্য প্রান্তেও কম্পন অনুভূত হয়। একইভাবে সমুদ্রের ঢেউয়ের শক্তি সমুদ্রতলদেশে ছড়িয়ে পড়ে ভূকম্পনের মতো সংকেত তৈরি করতে পারে।

দ্বিতীয় তত্ত্ব: আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ
২০১৩ সালে চীনা বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় আরেকটি সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। তাদের ধারণা, গিনি উপসাগরের বাইট অব বনি অঞ্চলে সাও তোমে দ্বীপের কাছাকাছি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এই কম্পনের কারণ হতে পারে। অবস্থানগত দিক থেকেও এই অঞ্চলটি সম্ভাব্য উৎসস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় তত্ত্বটি বিজ্ঞানীদের আগ্রহ তৈরি করে।

দশকের পর দশক ধরে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা এই ঘটনা নিয়ে গবেষণা করলেও এখনো কোনো সর্বসম্মত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। গবেষক মাইক রিটজওলারের মতে, এই কম্পনের মৌলিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেঁপে উঠছে পৃথিবী, রহস্য কী

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ঠিক প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর কেঁপে উঠছে পৃথিবী সৃষ্টি হচ্ছে এক ধরনের ছন্দময় কম্পন। এতটাই সূক্ষ্ম এই কম্পন যে মানুষ তা অনুভব করতে পারে না। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাপিত সংবেদনশীল ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্রে ধরা পড়েছে এই অদ্ভুত সংকেত। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই রহস্যময় স্পন্দনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। খবর এনডিটিভির।

এই অদ্ভুত ভূকম্পন প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী জ্যাক অলিভার। তিনি লক্ষ করেন, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের সিসমোমিটারে নিয়মিত বিরতিতে একটি বিশেষ কম্পন ধরা পড়ছে। পরবর্তী পর্যবেক্ষণে এর উৎস নিরক্ষীয় আটলান্টিক মহাসাগরের কোনো একটি অঞ্চলে বলে ধারণা করা হয়। বছরের নির্দিষ্ট কিছু মৌসুমে এই কম্পনের তীব্রতাও বেড়ে যায়।

তবে সে সময়ের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অলিভারের গবেষণা খুব বেশি দূর এগোয়নি। ফলে রহস্যটি অনেকটা আড়ালেই থেকে যায়।

২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের গবেষকেরা ডিজিটাল ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আবারও এই অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করেন।

গবেষক মাইক রিটজওলারের ভাষায়, তারা এমন একটি সংকেত দেখতে পান, যা ছিল অস্বাভাবিক, ধারাবাহিক এবং দীর্ঘস্থায়ী। পরবর্তী গবেষণায় তারা এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলবর্তী গিনি উপসাগরকে চিহ্নিত করেন।

এরপর থেকেই পৃথিবীর এই রহস্যময় ‘হার্টবিট’ নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু হয়। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত এই কম্পনের উৎস সম্পর্কে কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে কোনোটিই এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

একটি ধারণা অনুযায়ী, সমুদ্রের শক্তিশালী ঢেউ মহাসাগরের তলদেশে অবস্থিত মহীসোপানে আঘাত করার ফলে এই কম্পনের সৃষ্টি হতে পারে। বিষয়টি অনেকটা এমন; একটি টেবিলের এক প্রান্তে কেউ আঘাত করলে অন্য প্রান্তেও কম্পন অনুভূত হয়। একইভাবে সমুদ্রের ঢেউয়ের শক্তি সমুদ্রতলদেশে ছড়িয়ে পড়ে ভূকম্পনের মতো সংকেত তৈরি করতে পারে।

দ্বিতীয় তত্ত্ব: আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ
২০১৩ সালে চীনা বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় আরেকটি সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। তাদের ধারণা, গিনি উপসাগরের বাইট অব বনি অঞ্চলে সাও তোমে দ্বীপের কাছাকাছি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এই কম্পনের কারণ হতে পারে। অবস্থানগত দিক থেকেও এই অঞ্চলটি সম্ভাব্য উৎসস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় তত্ত্বটি বিজ্ঞানীদের আগ্রহ তৈরি করে।

দশকের পর দশক ধরে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা এই ঘটনা নিয়ে গবেষণা করলেও এখনো কোনো সর্বসম্মত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। গবেষক মাইক রিটজওলারের মতে, এই কম্পনের মৌলিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি।