চার মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছাড়াল ১৭ বিলিয়ন ডলার

- আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, রোববার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 11
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববাজারে দেশের রপ্তানি খাতের ইতিবাচক অবস্থান বজায় থাকার ধারাবাহিকতায় অক্টোবর মাসেও রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৮২৩ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৬ সালের একই মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৯১ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ৩ হাজার ৯৩৭ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় অক্টোবর মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
রোববার (০১ নভেম্বর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ রপ্তানি আয়ের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ১৭ হাজার ৮৫ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালের একই সময়ে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ১৩৭ দশমিক ০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান ভিত্তি হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত এ সময়েও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৩ হাজার ৭৪৬ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১২ হাজার ৯৯০ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি। শুধু অক্টোবর মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ১৬৭ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই মাসে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ১৯ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে অক্টোবর মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।
তৈরি পোশাক খাতের প্রধান দুই উপখাত নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাক রপ্তানিতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে নিটওয়্যার রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৭২৯ দশমিক ০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৭ হাজার ২৩৭ দশমিক ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, ওভেন পোশাক রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ১৭ দশমিক ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭৫২ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু অক্টোবর মাসের হিসাবে নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
তৈরি পোশাকের বাইরে দেশের অন্যান্য প্রধান রপ্তানি খাতের মধ্যেও কয়েকটিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। অক্টোবর মাসেও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে, পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় চার মাসে ২৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অক্টোবর মাসে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধির বিষয়টি এ খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে জুলাই-অক্টোবর সময়ে ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও অক্টোবর মাসে এ খাতের আয় প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। ওই মাসে প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ০ দশমিক ১১ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল খাতে চার মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তবে অক্টোবর মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতের রপ্তানি চালান কমেছে ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
এদিকে, ওষুধশিল্প রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। শুধু অক্টোবর মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ওষুধ রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও রপ্তানি সম্ভাবনার ক্ষেত্রে এ প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে সব রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকেনি। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে কৃষিপণ্য এবং হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি আয় কমেছে। তা সত্ত্বেও প্রধান উৎপাদনমুখী ও মূল্য সংযোজনকারী খাতগুলোর ভালো ফলাফলের কারণে সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি আয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
রপ্তানি গন্তব্যের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম একক বাজার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ।
প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য দ্বিতীয় এবং জার্মানি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৪১ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে জার্মানিতে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬৬ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, ১ হাজার ৫১৫ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় নিয়ে স্পেন রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রচলিত বাজারগুলোর পাশাপাশি উদীয়মান বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে তুরস্কে প্রবৃদ্ধির হার ছিল সর্বোচ্চ। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ১৫৯ দশমিক ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২৯২ দশমিক ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ভারত ও জাপান বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর মধ্যে যথাক্রমে সপ্তম ও নবম অবস্থানে রয়েছে। উভয় দেশেই রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসের রপ্তানি পরিসংখ্যান দেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, পাট, প্রকৌশল পণ্য ও ওষুধশিল্পের প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ অগ্রগতির পেছনে রপ্তানিকারক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার অবদান রয়েছে।
রপ্তানি আয়ের এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং বাণিজ্য সহজীকরণে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।






















