ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে সরিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের অঙ্গীকার বিরোধীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 2

ইসরায়েলের বিরোধী দলের নেতারা নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে অবিলম্বে জোট আলোচনা শুরু করতে একমত হয়েছেন। পাশাপাশি নতুন নেসেটের (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) শপথ গ্রহণের আগে সংসদীয় কৌশল সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। তবে আরব দলগুলোকে জোটের বাইরে রেখে কীভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট পথ দেখাতে পারেননি বিরোধী নেতারা।

বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে অংশ নেন ইয়াশার দলের নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াচাদ দলের চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট, ডেমোক্র্যাটস দলের প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান।

বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর সরকারকে দ্রুত সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেন বিরোধী নেতারা। এ ক্ষেত্রে আইজেনকটের প্রস্তাব করা চারটি নীতির কথা উল্লেখ করা হয়। নীতিগুলো হলো—ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার, সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় সেবা নিশ্চিত করা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গাজায় তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস ও শাসনের অবসান ঘটানো।

বিবৃতিতে বলা হয়, দলীয় নেতারা ঐক্যবদ্ধ। ৭ অক্টোবরের পর গঠিত সরকারকে সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠা এবং নেসেটে স্পষ্ট সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগাতে তারা অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবেন।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা ৪৮। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। আরব দল দুটি সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদের ওই দুই দলের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু বিরোধী দলগুলোর অধিকাংশই আরব দলগুলোকে জোটসঙ্গী করতে রাজি নয়। এ কারণে নতুন সরকার গঠনের পথ এখনো অনিশ্চিত।

বৈঠকে বিরোধী নেতারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের প্রথম দায়িত্ব আইজেনকটকে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি জোটের চুক্তি ও নীতিগত কর্মসূচির খসড়া তৈরির কাজ অবিলম্বে শুরু করতে আলোচক দলগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

যৌথ বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ নির্বাচনের ফল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘বিপজ্জনক ও নিয়ন্ত্রণহীন প্রচার’ চালাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন বিরোধী নেতারা।

বৈঠকের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বি’ইয়াচাদ দলের নেতা নাফতালি বেনেট আইজেনকটের প্রতি তার দলের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বেনেট বলেন, যত দ্রুত সম্ভব গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনে সহায়তা করতে বি’ইয়াচাদ দলের সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুকে সরিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের অঙ্গীকার বিরোধীদের

আপডেট সময় : ০৯:০২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের বিরোধী দলের নেতারা নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে অবিলম্বে জোট আলোচনা শুরু করতে একমত হয়েছেন। পাশাপাশি নতুন নেসেটের (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) শপথ গ্রহণের আগে সংসদীয় কৌশল সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। তবে আরব দলগুলোকে জোটের বাইরে রেখে কীভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট পথ দেখাতে পারেননি বিরোধী নেতারা।

বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে অংশ নেন ইয়াশার দলের নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াচাদ দলের চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট, ডেমোক্র্যাটস দলের প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান।

বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর সরকারকে দ্রুত সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেন বিরোধী নেতারা। এ ক্ষেত্রে আইজেনকটের প্রস্তাব করা চারটি নীতির কথা উল্লেখ করা হয়। নীতিগুলো হলো—ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার, সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় সেবা নিশ্চিত করা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গাজায় তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস ও শাসনের অবসান ঘটানো।

বিবৃতিতে বলা হয়, দলীয় নেতারা ঐক্যবদ্ধ। ৭ অক্টোবরের পর গঠিত সরকারকে সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠা এবং নেসেটে স্পষ্ট সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগাতে তারা অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবেন।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা ৪৮। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। আরব দল দুটি সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদের ওই দুই দলের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু বিরোধী দলগুলোর অধিকাংশই আরব দলগুলোকে জোটসঙ্গী করতে রাজি নয়। এ কারণে নতুন সরকার গঠনের পথ এখনো অনিশ্চিত।

বৈঠকে বিরোধী নেতারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের প্রথম দায়িত্ব আইজেনকটকে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি জোটের চুক্তি ও নীতিগত কর্মসূচির খসড়া তৈরির কাজ অবিলম্বে শুরু করতে আলোচক দলগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

যৌথ বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ নির্বাচনের ফল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘বিপজ্জনক ও নিয়ন্ত্রণহীন প্রচার’ চালাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন বিরোধী নেতারা।

বৈঠকের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বি’ইয়াচাদ দলের নেতা নাফতালি বেনেট আইজেনকটের প্রতি তার দলের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বেনেট বলেন, যত দ্রুত সম্ভব গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনে সহায়তা করতে বি’ইয়াচাদ দলের সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল